Advertisement
E-Paper

জুভেনাইল ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছিলেন সোনম! শিশুর মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে?

টাইপ-১ ডায়াবিটিসে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। ছোট থেকে রক্তে শর্করার বাড়বাড়ন্ত হলে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে বাবা-মাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসের লক্ষণ কিছু আলাদা, রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫১
Understanding Juvenile Diabetes, lessons from Sonam Kapoors Health Journey

ছোটদের ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জুভেনাইল ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কপূর। ছোট থেকেই সুগার থাকায় অনেক নিয়ম মেনে চলতে হত তাঁকে। সোনম নিজেই নানা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর বয়স যখন ১৭ বছর, তখন থেকেই সুগারের জন্য বিশেষ ডায়েট করতে হত তাঁকে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সময়ান্তরে শর্করা কত বাড়ছে বা কমছে, তার হিসেবও রাখতে হবে। ছোট থেকে ডায়াবিটিস নিয়েও সুস্থ ভাবে জীবনযাপন করা যায়, যদি সঠিক নিয়ম মেনে চলা যায়। শিশুদের ডায়াবিটিসের ধরন বড়দের থেকে কিছুটা আলাদা। সাধারণত, শিশুরা টাইপ-১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হয় বেশি। বড়দের যেটা হয় তা হল টাইপ-২ ডায়াবিটিস।

অনেকের ধারণা, বাবা-মা ডায়াবেটিক হলে সন্তানও ডায়াবেটিক হবে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মায়ের ডায়াবিটিস হলে সন্তান জন্মানোর পরে তারও হবে। তবে টাইপ-১ ডায়াবিটিসের জন্য বাবা-মা দায়ী থাকেন না।

শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, এটি জিনগত সমস্যা নয়। অগ্ন্যাশয়ে কেন ইনসুলিন তৈরি হয় না, তার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। শিশুদের অগ্ন্যাশয়ে যে বিটা কোষগুলি থাকে সেগুলি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ইনসুলিন ক্ষরণ না হওয়ায় রক্তে শকর্রার মাত্রা বেড়ে যায়। এর জন্য বাইরে থেকে অনেক সময়েই ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

Advertisement

জুভেনাইল ডায়াবিটিস কতটা ভয়াবহ

বড়দের টাইপ-২ ডায়াবিটিসে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। কিন্ত জুভেনাইল ডায়াবিটিসে ইনসুলিনের ক্ষরণই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যেতে পারে। যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন—কিডনি, চোখ এবং হৃৎপিণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। জুভেনাইল ডায়াবিটিস সাধারণত শৈশব থেকে কৈশোরের মধ্যে যে কোনও সময় ধরা পড়তে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৭ বছর এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে লক্ষণগুলি বেশি প্রকট হতে থাকে।

কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন বাবা-মায়েরা?

টাইপ-১ ডায়াবিটিসের প্রধান উপসর্গগুলি হল, প্রবল জল তেষ্টা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, খিদে বেড়ে যাওয়া, ওজন হ্রাস, ক্লান্তিবোধ। এই ধরনের উপসর্গ দেখে অধিকাংশ অভিভাবকই বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে দেরি হয়ে যায়।

ছোটদের ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার একটাই উপায়ে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন দেওয়া। সে সঙ্গে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। নিয়মিত গ্লুকোমিটারে দেখে নিতে হয় রক্তে শর্করার মাত্রা। পাশাপাশি ডায়াবেটিক শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি হলে কী ধরনের ওষুধ দেবেন, তখন কী খাওয়াবেন, তা-ও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে। বয়স যত বাড়বে ততই ইনসুলিনের মাত্রা ও ডায়েট বদলাতে হবে। যেহেতু ছোটদের ইনসুলিন নিতে হয়, তাই ভাত বা রুটির পরিমাণ কমিয়ে বরং চিকেন স্ট্যু, নানা রকম সব্জি, তাজা ফল বেশি করে খেতে হবে। ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণ মেপে। প্রচুর জল খেতে হবে যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়। অতি অবশ্যই বাইরের প্যাকেটজাত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

Type 1 Diabetes Diabetes Sonam Kapoor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy