রসালো বেদানার অনুরাগী তো সকলেই, কিন্তু ক’জনই বা খোসার মূল্য বোঝেন? তাও সমাজমাধ্যমের দৌলতে এখন কমলালেবু বা আপেলের খোসার কদর বেড়েছে। কিন্তু বেদানার ছাল ছাড়ানো এতই সময়সাপেক্ষ যে, তার পর কেউ আর সেই খোসার প্রতি দয়া দেখাতে পারেন না, আর তার জায়গা হয় ময়লার বালতিতে। অথচ বেদানার এই খোসাই আপনার রন্ধনশৈলীকে গোপনে লা জবাব করে তুলতে পারে।
বেদানার খোসার স্বাদ অল্প তিতকুটে এবং টক টক। বিভিন্ন খাবারে বাড়তি স্বাদ যোগ করতে চাইলে এই ফলের ছাল কাজে আসতে পারে। তা ছাড়া এই খোসায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। তাই ফেলে না দিয়ে এই খোসা ব্যবহার করুন নানা ভাবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যরক্ষা, স্বাদবৃদ্ধি এবং খাবার অপচয় হ্রাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। বেদানার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে শিশিতে ভরে রাখতে পারেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে গুঁড়োর প্রয়োজন পড়ে না, কেবল খোসা ছাড়িয়েই ব্যবহার করতে পারেন।
রান্নাঘরে বেদানার খোসা ব্যবহারের অবকাশ—
১. ঝোল: বেদানার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে ডাল, তরকারি বা ঝোলে দিলে প্রাকৃতিক ভাবে টক স্বাদ আসবে খাবারে। অনেকটা আমচুর বা তেঁতুলের মতো কাজ করে এই খোসা। তবে সেগুলির থেকে স্বাদ একটু আলাদা, হালকা কষাভাবও থাকে এতে।
বেদানার খোসা দিয়ে চা। ছবি: সংগৃহীত
২. ভেষজ চা: খোসা শুকিয়ে গরম জলে ফুটিয়ে বানানো যায় ভেষজ চা। এর স্বাদ সামান্য টক আর কষা ধরনের। অনেকে আবার এর সঙ্গে দারচিনি বা আদাও মেশান। গরমের সন্ধ্যায় বা বর্ষার দিনে এই চা বেশ আরামদায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যের জন্যও এই টোটকা উপকারী।
৩. ঘরোয়া মশলা: রান্নায় ব্যবহার করার জন্য আগে থেকেই মশলা বানিয়ে রাখতে পারেন। ঠিক যেমন ভাবে আমচুর রাখা থাকে, সে ভাবেই বেদানার খোসার গুঁড়ো রান্নায় মেশানোর জন্য রেখে দিতে পারেন। অন্যান্য মশলার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন ধরনের স্বাদযুক্ত মশলা তৈরি করতে পারেন। ভাজা জিরে, শুকনোলঙ্কা বা গোলমরিচের সঙ্গে এটি ভাল মানিয়ে যায়। ভাজাভুজির উপরে সেই মশলা ছড়িয়ে খেতে পারেন।
খোসার স্বাদ পানীয়ে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
৪. পানীয়: গরমের সময়ে নানা ধরনের পানীয়ে চুমুক দিতে মন চায়। তার জন্য সিরাপ তৈরি করে রাখতে পারেন ঘরে। তার জন্য জলে বেদানার খোসা, চিনি বা গুড় অথবা মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই সিরাপ যে কোনও শরবতে ব্যবহার করতে পারেন, এমনকি মকটেলেও মন্দ লাগবে না। এক দিকে যেমন স্বাদবৃদ্ধি হবে, তেমনই নয়া রংও পাবে পানীয়টি।
৫. আচার: আচারের টক স্বাদ তৈরি করার জন্য বেদানার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। গাজর হোক বা লঙ্কা অথবা কাঁচা আমের মতো টক স্বাদের আচার বানানোর সময়ে খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। আচারের নুন ও মশলার স্বাদেও ভারসাম্য আনতে পারে এই ফলের খোসা।