সকাল থেকে রাতের হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে নিয়ম করে রান্না করা যে কতটা কঠিন, তা বোঝেন যাঁরা রাঁধেন তাঁরাই। এক পদে ঝামেলা মেটে না, নানা জনের নানা পছন্দ। সেই সব সামাল দেওয়া মোটেই সহজ কথা নয়।
অফিস-পরিবারের কর্মব্যস্ততা সামলে রান্না করার সময়ও চাই। রান্না যতটা না ঝক্কির, তার চেয়েও বেশি কষ্টকর জোগাড়যন্ত্র করা। মশলা বাটা, কুটনো কোটা কম সময়সাপেক্ষ নয়, যতই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ুক। খ্যাতনামী রন্ধনশিল্পী পঙ্কজ ভাদোরিয়া পরামর্শ দিলেন, কী ভাবে কর্মব্যস্ত দিনে চটজলদি রান্নার উপকরণ আগে থেকেই মজুত রাখা যায়। রন্ধনশিল্পী বলছেন, ছুটির দিনে মাত্রা এক ঘণ্টা সময় দিলেই, সারা সপ্তাহের রান্নার জন্য জরুরি জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা যায়। সেই তালিকায় থাকবে কী কী—
সেদ্ধ আলু: আলু খোসা-সহ সেদ্ধ করে, খোসা না ছাড়িয়ে কৌটোবন্দি করে ফ্রিজে অন্তত এক সপ্তাহ রেখে দেওয়া যায়। পরোটা হোক বা তরকারি, আলু লাগবেই। তাড়াহুড়োর সময় সেদ্ধ আলু হাতের কাছে থাকলে মশলা কষিয়ে আলুর টুকরো জল দিয়ে ফুটিয়ে নিয়েই রান্না হয়ে যাবে। তা ছাড়া, সেদ্ধ আলু থাকলে তাড়াতাড়ি আলুর পরোটা, জিরে আলু, আলুরদম— এমন অনেক খাবারই রাঁধা যাবে।
ডিম সেদ্ধ: ডিম সেদ্ধ করে খোসা-সহ ফ্রিজে ৪-৫দিন অনায়াসেই মজুত রাখা যায়। ডিমের কারি হোক বা সেদ্ধ, ডিমের স্যান্ডউইচ, অনেক সময় ঝোল ঝোল নুড্লস তৈরি করলেও ডিম সেদ্ধ তার মধ্যে দিয়ে খাওয়া যায়।
আদা-রসুন বাটা: আদা-রসুন বাটা হাতের কাছে মজুত থাকা কতটা সুবিধাজনক, যাঁদের নিয়মিত রান্না করতে হয়, তাঁরা জানেন। বেশি করে আদা-রসুন বেটে আলাদা কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন।
পেঁয়াজভাজা বাটা: রান্নায় পেঁয়াজভাজা ব্যবহার হয়। আবার পেঁয়াজভাজা বেটেও কাইয়ে ব্যবহার করা যায়। ভাজা পেঁয়াজ বাটা রান্নায় স্বাদ এবং হালকা মিষ্টত্ব যোগ করে। মাংস, পনির, আলুরদম— যে কোনও রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে তা। পেঁয়াজভাজা বাটা ফ্রিজে রাখা থাকলে রান্নার সময়টাও বাঁচানো যেতে পারে।
কাই: রান্নার সময় কাই তৈরির জন্য তেলে পেঁয়াজ ভেজে, আদা-রসুন বাটা, টম্যাটো দিয়ে কষাতে হয়। এই কাজটি করতে অনেকটাই সময় লাগে। কিন্তু তা যদি আগে করে রাখা যায়, যে কোনও তরকারি বানানোই সহজ হতে পারে। রেস্তরাঁয় চটজলদি রান্নার জন্য এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়। পেঁয়াজ ভেজে, আদা-রসুন বাটা, টম্যাটো ভাল করে কষিয়ে সেটি বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে রাখুন। অন্তত ৪-৫ দিন তা অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়। ব্যবহার করার জন্য ফ্রিজ থেকে চামচে করে পরিমাণ মতো মিশ্রণটি বার করে আবার ফ্রিজে ভরে রাখুন। এতে এর স্থায়িত্ব বাড়বে।
হিমায়িত সব্জি: রান্নার সময় সব্জি কাটা বড় ঝক্কির ব্যাপার। বিশেষত, তাড়াহুড়ো থাকলে। সব্জি ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। বিন, গাজর, ব্রকোলি, ফুলকপি— সবই কেটে ছোট টুকরো করে জ়িপ লক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে রাখতে পারেন। হিমায়িত অবস্থায় সব্জি দীর্ঘ দিন ভাল থাকে। রান্নার সময় সে ক্ষেত্রে কাটাকুটির ঝামেলা থাকে না।
শাক: শাক রান্না করতে বেশি সময় লাগে না, বাছাবাছি এবং কুটতেই সময় চলে যায়। শাক আগে থেকে বেছে, কুচিয়ে প্যাকেটবন্দি করে ফ্রিজে রেখে দিন। ভাল করে ধুয়ে রান্না করে নিন।