সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্বাস্থ্য বিমা করাবেন? জেনে নিন সাত-সতেরো

কেন দরকার স্বাস্থ্য বিমা? বিমা কেনার আগে কী কী যাচাই করে নেওয়া দরকার?  সমস্যায় পড়লে কী করবেন? জানাচ্ছেন  গার্গী গুহঠাকুরতা

health insurance

ক্যানসার বা যে কোনও কঠিন রোগের সঙ্গে শুধু মৃত্যুভয়ই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অর্থের সংস্থান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা। আপনজনের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঘটি-বাটি বিক্রি হয়ে গিয়েছে বহু পরিবারের। তৈরি হয়েছে নতুন শব্দ— ‘মেডিক্যাল পভার্টি’। এই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে স্বাস্থ্য বিমার প্রয়োজনীয়তা।

কেন স্বাস্থ্য বিমা?

চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি: চিকিৎসার খরচ ক্রমশ বাড়ছে। হাসপাতালের শয্যা বা ঘরের ভাড়া, ওষুধপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষা, চিকিৎসকদের ফি, অস্ত্রোপচার (যদি হয়) বাবদ যে অঙ্কের টাকা খরচ হয়, তা অনেক সময়েই রোগী বা রোগীর পরিবারের পক্ষে দেওয়া কঠিন হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের টাকাতেও চিকিৎসার খরচ কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিমা করা থাকলে কিছুটা ভার লাঘব হয়।

রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি: ভুল খাদ্যাভ্যাস, কম ঘুমোনো, কাজের জায়গায় মানসিক চাপ-সহ জীবনের ওঠাপড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে শরীর ও মন। এ ছাড়া খাবারের গুণমান ও দূষণের জেরে বাড়ছে রোগের প্রকোপ।

তৎক্ষণাৎ টাকা না দেওয়ার সুবিধা: ‘ক্যাশলেস’ সুবিধা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি বা ছাড়ার সময়ে টাকা দিতে হবে না। দিতে হলেও তা গোটা বিলের তুলনায় সামান্য।

আয়কর ছাড়ের সুবিধা: স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়, তা আয়কর আইনের ৮০ডি ধারায় কর ছাড়যোগ্য।

স্বাস্থ্য বিমা করার আগে কী কী দেখে নেওয়া প্রয়োজন?

প্রথমেই জানতে হবে বিমা থাকলেও কী কী পাবেন না। অর্থাৎ, নেতিবাচক সব দিক জেনে নিয়েই বিমা কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন, কয়েকটি ক্ষেত্রে চিকিৎসার টাকা বিমার আওতায় নেই। এই তালিকায় রয়েছে মাতৃত্ব, বন্ধ্যত্ব সংক্রান্ত চিকিৎসা ও জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসা।

শুধু একটি সংস্থা নয়, বেশ কয়েকটি সংস্থা বিমায় কী কী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তার তুলনামূলক বিচার করা জরুরি। এ বিষয়ে কোনও পেশাদার পরামর্শদাতার সহায়তা নেওয়া নিরাপদ।

বিমা করার সময়ে একটি ‘প্রোপোজাল ফর্ম’ ভরতে হয়। সেই ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে বিমার টাকা পাওয়ার বিষয়টি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিমা সংস্থার এজেন্টের হাতেই ফর্ম ভরার দায়িত্ব চাপিয়ে গ্রাহক শুধুমাত্র সইটুকু করে দেন।

তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিমা করার সময়ে কী কী রোগ রয়েছে, তা জানাতে হয়। মনে রাখতে হবে, কিছু কিছু রোগ থাকলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য রোগ হলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত টাকা দেবে না বিমা সংস্থা। অর্থাৎ বিমা করার তিন বা চার বছর পরে ওই সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা বাবদ খরচ পাওয়া যাবে। যেমন ডায়াবিটিস থাকলে কিডনি সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসার খরচ বিমা করার সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাবে না। কারণ ডায়াবিটিসের সঙ্গে কিডনির সমস্যার যোগ আছে বলে ধরে নেবে সংস্থা।

পলিসি পেপারে খুব ছোট ছোট অক্ষরে লেখা থাকে নিয়মাবলি। ওই অংশ পড়া সবচেয়ে জরুরি। কারণ বিমার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বাধা রয়েছে, তা কিন্তু ওই অংশেই লেখা থাকে।

কিছু কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক বেঁধে দেওয়া থাকে। যেমন, ছানি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিমা সংস্থা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা দেয় না। সাধারণ চিকিৎসায় মোট বিমার টাকার ১ শতাংশ ঘর বা শয্যার ভাড়া হিসেবে ধরা থাকে। আইসিসিইউ-এর ক্ষেত্রে ধরা হয় ২ শতাংশ।

বিমা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে কোথায় জানাবেন?

প্রথমেই বিমা সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পরে এক মাসের মধ্যে উত্তর না পেলে ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন গ্রাহক।

১৯৩৮ সালের বিমা আইনে, ইনসিওরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইআরডিএ)-র নির্দেশ অনুযায়ী পলিসিতে উল্লিখিত গ্রাহকের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে বিমা সংস্থার সঙ্গে বিরোধ বাধলে গ্রাহক ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। ওম্বাডসম্যান এক বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। তাঁর রায় বিমা সংস্থা মানতে বাধ্য।

বিমা সংস্থাগুলি ওম্বাডসম্যানের রায় মানতে বাধ্য থাকলেও, গ্রাহক কিন্তু তা মানতে বাধ্য নন। তিনি নিম্ন ও উচ্চ আদালত, ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। তবে প্রথমেই অন্য আদালতে গেলে ওম্বাডসম্যান আর অভিযোগ নেবেন না, কারণ তখন বিষয়টি বিচারাধীন হিসেবে ধরা হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন