বয়স বাড়লে অনেকেই নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগেন। অবসাদ, উদ্বেগ, বিরক্তি বা ঘুম কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় অনেকের ক্ষেত্রে। এই সব সমস্যার সহজ সমাধান— যৌন সম্পর্ক। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং অ্যাঞ্জেলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগে গবেষণা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। শুধু মানসিক সমস্যা নয়, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়াদের নানা শারীরিক সমস্যার সমাধান সূত্রও লুকিয়ে আছে যৌন সম্পর্কের মধ্যে। এমনই বলেছেন গবেষকরা।
এই গবেষক দলের প্রধান লি স্মিথ জানিয়েছেন, তাঁদের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত প্রৌঢ় বা প্রৌঢ়া নিয়মিত যৌন সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তাঁরা তুলনায় অনেক কম পরিমাণে চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ তাঁদের শারীরিক সমস্যা এবং মানসিক সমস্যার পরিমাণ তুলনায় অনেকটাই কম।
তবে যৌন সম্পর্ক বলতে তাঁরা কী বলতে চেয়েছেন? গবেষক দলের অন্য এক সদস্য সারা জ্যাকসন বলছেন, তাঁরা বিষয়টাকে ‘যৌন সম্পর্ক’ বলে ব্যাখা করলেও, সকলের ক্ষেত্রে বিষয়টা এক রকম নয়। যেমন মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ‘যৌন সম্পর্ক’ অনেকটাই চুম্বন, হালকা স্পর্শ বা আদরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাঁরা এতেই খুশি হন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পুরুষরা অনেক বেশি পছন্দ করেন পুরোদস্তুর শারীরিক সম্পর্ক। কিন্তু ধরন যাই হোক না কেন, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়াদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্পর্ক যে আখেরে লাভের, তা প্রমাণিত।
এই গবেষক দলের দাবি, প্রৌঢ় বা প্রৌঢ়াদের যৌন সম্পর্কে কোনও উৎসাহ নেই— এমন ভাবাটা অযৌক্তিক। বরং তাঁরা যদি সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে নিয়মিত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারেন, তা হলে তাঁদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলেই মত গবেষকদের। শারীরিক সম্পর্কের সময়ে মস্তিষ্কে রক্তচলাচলের পরিমাণ বাড়ে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও তাতে বাড়ে। একাধিক পেশি সচল হয়, ফলে পেশির ক্ষয় কমে। তাই সব মিলিয়ে শরীর এবং মন— দুটোই চাঙ্গা হয় এ ধরনের সম্পর্কের কারণে।