Advertisement
E-Paper

একটু পড়েই ক্লান্ত? ভাল লাগছে না কিছুই? পড়াশোনার কৌশলে ছোট বদলেই সমাধান হতে পারে

পড়তে পড়তে ক্লান্ত লাগছে? ঘুম এসে যাচ্ছে কিংবা কিছুই ভাল লাগছে না? ক্লান্তি কাটানোর উপায় কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৮
পড়াশোনায় ক্লান্তি এলে, কোন উপায়ে তা দূর করা যায়?

পড়াশোনায় ক্লান্তি এলে, কোন উপায়ে তা দূর করা যায়? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সামনেই পরীক্ষা। দিনরাত এক করে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু পড়তে ভাল লাগলে তো! পরীক্ষা, এত পড়া রয়েছে, আর পড়তে হবে ভাবলেই একরাশ ক্লান্তি যেন চেপে বসছে। পড়াশোনা একটু করতে না করতেই ঘুমে চোখ ঢুলে আসছে।কিন্তু পড়াশোনা তো করতেই হবে। বিশেষত পরীক্ষার আগে।

ক্লান্তি কাটিয়ে পড়ার উপায়

মনোবিদ, পেরেন্টিং কনাসালট্যান্টদের কথায়, পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত পড়ার ঝোঁক তৈরি হয় বেশিরভাগ পড়ুয়ারই। সমস্যা সেখানেই। ঠিকমতো না ঘুমিয়ে, ঘণ্টার ঘণ্টা পড়তে গেলে, স্বাভাবিক ভাবেই মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সহজ সমাধান হল, রুটিন করে বছরভর পড়াশোনা। পরীক্ষার এক মাস আগে গুরুত্ব দিয়ে না পড়ে অন্তত ৩-৪ মাস আগে থেকেই যদি প্রয়োজন বুঝে রুটিন তৈরি করা যায়, তাহলে ভাল হয়।

কী করা যেতে পারে

২৫/৫ রুল: পড়াশোনার নানা ধরনের কৌশলের মধ্যে ২৫/৫ রুল বা নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এই কৌশল বলছে, টানা ২৫ মিনিট পড়াশোনার পরে ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। এ ভাবে ২ ঘণ্টা পড়লে মোট ২০ মিনিট বিরতি নিতে হবে। তবে ২ ঘণ্টা পর আর পড়া নয়। উঠে পড়তে হবে। আবার অন্তত এক-আধ ঘণ্টা পরে পড়া যেতে পারে।

পরিকল্পনা

নির্দিষ্ট দিনে কোন কোন বিষয় কতটা পড়তে বা রিভাইজ় করতে হবে, পড়তে বসার আগে ছকে নেওয়া ভাল। এতে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়, কতটা সময়ে কতটা পড়া যাবে। ভাবনা না থাকলে, একটি বিষয় নিয়ে পড়ার মাঝেই মাথায় ঘুরতে পারে কোন বিষয়গুলি পড়া হয়নি, কী কী শেষ করতে হবে সেই সব। ফলে বর্তমান পড়াটা নষ্ট হয়।

একসঙ্গে অনেক কাজ নয়

শিক্ষক থেকে মনোবিদেরা বলছেন, পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্টের অন্যতম কারণটি হল মোবাইল। পড়তে পড়তে হোয়াটস্অ্যাপ অ্যাপ দেখলে, ফেসবুকে কোন ছবি কত লাইক পড়ল সে সব মাথায় ঘুরতে থাকলে, বার বার মোবাইল খুললে, পড়ায় মন না বসাই স্বাভাবিক। অনেকটা সময় চলে গেলেও সেই পড়াটা না হওয়ার ফলে ক্লান্তি আসবেই। তাই পড়ার সময় শুধুই পড়ার অভ্যাস জরুরি।

খাট নয়

অনেক পড়ুয়া খাটে পড়তে বসে। কিন্তু খাটের সঙ্গে ঘুমোনো বা আরাম করার গভীর সংযোগ রয়েছে। তাই বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসে পড়ার পরে মস্তিষ্কে বিশ্রামের সংকেত পৌঁছোতে পারে। সে কারণে খাটের বদলে নিয়ম করে চেয়ার-টেবিলে বসে পড়লে, মনোযোগে সুবিধা হবে। চট করে ঘুম আসবে না।

বুঝে পড়া

ঘড়ি ধরে পড়ার বদলে, পড়ার লক্ষ্য হিসাবে বইয়ের নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার বা অংশ স্থির করে নেওয়া ভাল। শুধু জোরে জোরে পড়লেই হয় না, বরং সেই বিষয়টি আত্মস্থ করা জরুরি। সে কারণে, যেটি পড়া হচ্ছে তা বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন। পড়াশোনার সময়, নিজেকে নিজেই বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে। নিজের মতো করে লিখে বা এঁকে যে ভাবে কাজটি করলে সুবিধা হয়, সে ভাবেই করা যায়।

পড়া মানেই ঘড়ি ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া নয়। বুঝে পড়লে, বা পরিকল্পনা করে নিলে অনেকটা পড়াই কম সময়ে হয়ে যেতে পারে। আর দ্রুত পড়া হয়ে যাচ্ছে মানেই, ঘড়ির হিসাবে নতুন বিষয় জুড়ে দেওয়া যায়, তা ভাবাও ঠিক নয়। বরং মনোবিদেরা পরামর্শ দেন, একটানা বেশিক্ষণ না পড়ে বিরতি জরুরি। তবে সেই বিরতি মোবাইল দেখা নয়। বরং হতে পারে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, রাস্তায় হেঁটে আসা, ছাদে একটু পায়চারি করা। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জল, খাবার খাওয়া এবং ঘুমেও জোর দিতে বলা হয়। পড়তে বসে ক্লান্ত লাগলে মুখে-চোখে জলের ঝাপটা দিলে, খোলা হাওয়ায় খানিক ক্ষণ বসলে, মনের মতে গান শুনলেও ভাল লাগবে।

Effective Study Habits Examination
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy