Advertisement
E-Paper

পর পর দু’বার বিচ্ছেদ, আমির মনে করেন, নেপথ্যে ছিল তাঁর দুই স্বভাব, দাম্পত্যে তা কি ক্ষতিকর?

‘‘আমি সিনেমার জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম’’। নিজের ডিভোর্স নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন আমির খান। কোন কারণকে তিনি দায়ী করছেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৭
ডিভোর্সের জন্য আমির খান নিজের কোন  ভাবনাকে দায়ী করেন?

ডিভোর্সের জন্য আমির খান নিজের কোন ভাবনাকে দায়ী করেন? ছবি: সংগৃহীত।

পর পর দু’বার বিবাহবিচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন বলিউড তারকা আমির খান। সম্প্রতি তাঁর জীবনে এসেছেন নতুন বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাট। কিন্তু দু’বার সম্পর্ক ভাঙার কারণ কী? সাধাারণত আমির তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনও দিন সমাজমাধ্যম বা গণমাধ্যমের সামনে খোলামেলা ভাবে কিছুই বলেন না। তবে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে অবশেষে একটি সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। আমির মনে করেন, তাঁর অতীত জীবনে দু’বার বৈবাহিক সম্পর্ক না টেকার পিছনে ছিল তাঁরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। নিজের দিকেই আঙুল তুলেছেন অভিনেতা। জানিয়েছেন, তিনি কাজপাগল। সিনেমাই তাঁর জগৎ। আর কাজ করতে গিয়ে কোথাও হয়তো অবহেলিত হয়েছে পরিবার-পরিজন।

আর একটি কারণ নেপথ্যে থাকতে পারে বলে মনে করেছেন আমির। তিনি যখন আঘাত পেয়েছেন বা মনঃকষ্টে ভুগেছেন, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কারও সঙ্গে তিনি কথা বলতেন না। এমনকি, ৩-৪ দিন তিনি একলা একেবারে নিজের মতোই থেকেছেন। নিজেকে আড়াল করেছেন।

অভিনেতার ভাবনা, হয়তো সম্পর্কে ফাটল ধরানোর ক্ষেত্রে তাঁর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুঘটকের কাজ করেছে। কিন্তু কোনও মানুষের কাজের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হওয়া কি অন্যায়? কিংবা ব্যক্তিবিশেষের এমন আচরণ কি সত্যি দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরায়, কাছের মানুষকে দূরে করে দিতে পারে?

কাজের প্রতি ভালবাসা, নিষ্ঠা থাকা, কাজপাগল হওয়াটা এক অর্থে ইতিবাচকই। পেশাগত জীবনে সাফল্য পেতে গেলে এমনটা জরুরি। তবে মনোরোগ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার বলছেন, ‘‘দাম্পত্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া একান্ত জরুরি। একে যদি অন্যকে বোঝেন, নিজেদের রসায়ন ঠিক থাকে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকে, তা হলে তা সম্পর্ককে দুর্বল করে দিতে পারে না।’’

সমস্যা কোথায় হয়

· দাম্পত্য সম্পর্কে এক জন যদি অতিরিক্ত কাজপাগল হয়ে পারিবারিক দায় এড়িয়ে চলেন, তা কোথাও গিয়ে অন্যের পক্ষে বাড়তি চাপ বলে মনে হতে পারে। এক সময় পরিবারের দায়িত্ব একা কাঁধে নেওয়া ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

· দাম্পত্য সম্পর্কে আশা থাকে, স্বামী-স্ত্রী সন্তান পালন থেকে, সাংসারিক দায়দায়িত্ব— দু’জনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামলাবেন। তেমনটা না হলেও ছন্দপতন হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে এক পক্ষ তা সামলে নিলেও, এক সময় মনে হতেই পারে, অন্য মানুষটির কাছে তিনি বা সংসার গুরুত্বহীন।

· কাছের মানুষটি বিপদের দিনে মনের কথা খুলে বলবেন, সেটাই ধরে নেওয়া হয়। অথচ সেই মানুষটি নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন, ধারেকাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না, এমন আচরণে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর নিজেকে গুরুত্বহীন বলে মনে হতে পারে।

· সঙ্গী বা সঙ্গীনী যে সব সময়ে যে শুধু একে অন্যের কাছে আর্থিক নিরাপত্তা আশা করেন তা নয়, বরং পরস্পরের কাছে মানসিক সমর্থন খোঁজেন। এক পক্ষ কাজ নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলে, একেবারেই সময় না দিলে, নিজেকে উপেক্ষিত মনে হতে পারে। আর তা থেকেই জন্ম নিতে পারে দূরত্ব।

মনোরোগ চিকিৎসকের কথায়, প্রতিটি মানুষের নিজস্ব ভাবনা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাজপাগল মানুষও দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারেন। আসলে সম্পর্কের রসায়ন এবং বোঝাপড়াটাই শেষকথা। শর্মিলা বলছেন, ‘‘এক পক্ষ যদি পেশাজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তা হলে অন্য পক্ষ এ নিয়ে দোষারোপ না করে নিজেকে সৃজনশীল বা অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন। কাজের চাপ কমলে দু’জনে মিলে সুন্দর করে যৌথ যাপনের পরিকল্পনা করতে পারেন।’’

আমিরের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যও কি দাম্পত্যে ফাটল ধরাতে পারে?

কোনও মানুষ দুঃখে বা মনঃকষ্টে থাকলে প্রিয়জনের কাছে যেমন মনের কথা উজাড় করে দেন, কোনও মানুষ উল্টোও হন। কেউ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের মতো করে পরিস্থিতির মোকাবিলার চেষ্টা করেন। সেই সময় তিনি চান না, কেউ এসে কথা বলুক। শর্মিলার মতে, যিনি একলা থাকতে চাইছেন, তাঁকে একলা থাকতে দেওয়াই ভাল। যদি কোনও মানুষের এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে, তা হলে তাঁর সঙ্গী বা সঙ্গীনী এক সময় সেটি বুঝে যাবেন। হতে পারে, ২-৩ দিন কথা বললেন না। তার পরে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে গেল। এই সময়টায় এক পক্ষ ধৈর্য ধরলে কিন্তু দাম্পত্যে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তবে কাজ হোক বা আঘাতের ধাক্কা— সেই সব সামলে সঙ্গীকে সময় দেওয়া জরুরি। যদি এক পক্ষের মনে হয়, অন্য জন তাঁকে বুঝছেন না বা তাঁর আবেগের বিন্দুমাত্র কদর করছেন না, তখনই সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে।

Aamir Khan Relationship Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy