অন্তঃসত্ত্বা হলে মায়ের দায়িত্ব অনেক। কারণ তাঁরই জঠরে আশ্রিত থাকে সন্তান। বাবাদের সেই ভার সামলানোর বাধ্যবাধ্যকতা থাকে না ঠিকই, কিন্তু কিছু জরুরি ভূমিকা থাকে তাঁদেরও। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন স্বামী তাঁর পাশে কতটা থাকছেন, তার উপর নির্ভর করে হবু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তার সূত্র ধরে শারীরিক ভাল থাকা, মন্দ থাকাও।
অনেকেই এই পাশে থাকার প্রয়োজন বা গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। অনেকে নানা কাজের ব্যস্ততায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। হয়তো হবু বাবা ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি করে কাজ গোছাতে থাকেন। সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকার পরে যখন স্ত্রীর পাশে এসে দু’টো কথা বলার সময় হয় তাঁর, তখন হয়তো স্ত্রী ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন। এক জনের চেষ্টা আর এক জনের চোখে পড়ে না। এই পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ বাড়তে পারে। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিতে না পেরে অভাববোধে ভুগতে পারেন হবু মা-ও। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন যেহেতু হরমোনের ক্রিয়াকলাপ অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তাই নানা রকম আবেগের বহিঃপ্রকাশ হতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি সঙ্গীর তরফেও পাশে থাকার চেষ্টাটুকু চোখে পড়ে, তবে মানসিক ভাবে অনেক আরামে থাকেন হবু মা। বলিউডের এক মা দীপিকা পাড়ুকোন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে অনেক হবু বাবা-র কাছে আদর্শ হতে পারেন রণবীর সিংহ।
নিজে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন রণবীরের কাছ থেকে তিনি কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন, সে কথা জানিয়ে দীপিকা বলেছেন, ‘‘হয়তো বিদেশে টানা শ্যুটিং চলছে। তার মধ্যেও রণবীর চেষ্টা করে কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে নিত সেই সময়ে। হয়তো ৩-৪ দিনের ছুটি পেল। তবু সেটুকু সময়েই ফ্লাইট নিয়ে চলে এল পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবে বলে। রণবীর যে ভাবে পেরেছে, সেই সময় আমার দারুণ খেয়াল রেখেছে। ও ওর পরিবারের প্রত্যেকের জন্যই এতটা যত্নবান।’’
আরও পড়ুন:
দীপিকার কথায় স্পষ্ট, ব্যস্ততা সত্ত্বেও রণবীরের পাশে থাকার ইচ্ছে আর চেষ্টাটুকু অনুভব করতে পেরেছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে সব সময় পাশে থাকা সম্ভব না হলেও সঙ্গ দেওয়ার জন্য যে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন রণবীর, সেই ভাবনাই ভাল রেখেছে দীপিকাকে। হবু মা দীপিকার নিজেকে অবহেলিত মনে হয়নি, মনে হয়নি রণবীর খেয়াল রাখছেন না তাঁর। বরং উল্টোটাই মনে হয়েছে। হয়ত অন্য বাবাদের থেকে কম সময় থেকেছেন তিনি। কিন্তু ওই চেষ্টাটুকুই দীপিকার মন জয় করেছে। যা হবু বাবাদের জন্য শিক্ষণীয়।
বিশেষ করে যাঁরা প্রথম বার বাবা-মা হচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই কেরিয়ারের এমন পর্যায়ে থাকেন, যখন ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। কাঁধে থাকে হাজার রকমের দায়িত্ব। সেই সময় কাজের দায়িত্ব সামলে পরিবারের জন্য সময় বার করতে একটু বাড়তি চেষ্টা করতেই হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাটুকুই অনেক জটিল সমীকরণ সহজ করে দিতে পারে।