বাড়ির চার পেয়ে পোষ্যকে নিয়ে অনেকটা সময় কাটে? কিন্তু সারমেয়র ভাললাগা, খারাপলাগা বুঝতে পারেন কি? কুকুর ছানার সঙ্গে খানিক খেলা, সময় করে তাকে খাওয়ানো— এইটুকুই কিন্তু তার স্বাস্থ্যের পক্ষে যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া, তার মনের দিকটিতেও নজর দেওয়া দরকার। না হলে অবসাদে ভুগতে পারে সে-ও।
আরও পড়ুন:
নতুন বছরে পোষ্যের সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করে তুলতে, তার দেখভালেও খানিক বদল আনুন। পোষ্য সারমেয়কে ভাল রাখতে কী কী করা দরকার?
১। নিয়ম করে পশুরোগ চিকিৎসকের কাছে সারমেয়কে নিয়ে যেতে হবে। পোষ্যের ভাষা সব সময় যে তার অভিভাবেকরা বুঝতে পারবেন তা নয়। বয়স যেমনই হোক, মাঝে মধ্যে পশুরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন তার কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। ডায়াবিটিস-বাত-সহ অনেক অসুখ হতে পারে। বিশেষত পোষ্যের বয়স বাড়লে। পোষ্য ছোট থাকলে তার টিকাকরণটিও সঠিক ভাবে করা প্রয়োজন।
২। সারমেয়কে নিয়মিত শরীরচর্চা করানো, হাঁটানোও জরুরি। বাড়ির চৌহদ্দি থাকতে থাকতে পোষ্যও হাঁপিয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া ল্যাব্রাডর-সহ বেশ কিছু প্রজাতির কুকুরের মধ্যে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে। স্থূলত্ব কুকুরের চলাফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই নিয়ম করে তাদের হাঁটানো, শরীরচর্চা করানো জরুরি। এতে মানসিক এবং শারীরিক দুই ধরনের স্বাস্থ্যই ভাল থাকবে।
৩। যে কোনও খাবার দিয়ে পেট ভরানো নয় বরং নতুন বছরে নজর দিন পোষ্যের পুষ্টির দিকেও। প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং খনিজেরও দরকার আছে। খাবারে যেন সমস্ত রকম পুষ্টি মেলে তা নিশ্চিত করতে হবে। পশুরোগ চিকিৎসকের পরামর্শেই পোষ্যের খাবার বাছাই করুন।
৪। পোষ্য যাতে নিরাপত্তার অভাব বোধ না করে, ঘরের মধ্যে শান্তিতে চলাফেরা করতে পারে, নতুন বছরে সেই দিকেও নজর দিন। পরিবেশ ঠিক থাকলে, পোষ্যের মন-মেজাজ ভাল থাকবে। সে নিজের মতো খেলাধুলা করতে পারবে।
৫। পোষ্য যদি বেড়াতে ভালবাসে মাঝেমধ্যে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। সব সময়ে যে দূরে যেতে হবে তা নয়। পার্কে হাঁটিয়ে আনলেও তার মন ভাল হবে। তা ছাড়া, খোলা হাওয়ায় একসঙ্গে হাঁটলে, খেলাধুলা করলে অভিভাবকের সঙ্গে তার ভাল সখ্যও তৈরি হবে।