Advertisement
E-Paper

শান্ত অথচ দৃঢ় মনোভাবেই প্রকাশ পাবে আত্মবিশ্বাস, আচরণে কোন বদল সম্মান অর্জনে সাহায্য করবে

কর্মজগতে বা ব্যক্তিজীবনে কেউ কতটা সম্মাননীয় হয়ে উঠবেন তা শুধু পদ দিয়ে নয়, নির্ধারিত হয় আচরণ দিয়েও। অন্যের সম্মান আদায়ে আচরণে কোন গুণ থাকা জরুরি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭
আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন কী ভাবে, কী ভাবে অর্জন করতে পারেন সম্মান?

আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন কী ভাবে, কী ভাবে অর্জন করতে পারেন সম্মান? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বাড়ি হোক বা অফিস, কেউ থাকেন ভীষণ দাপুটে। কিন্তু সেই দাপট দেখানোরও পন্থা আছে। কেউ সামান্য বিষয়ে এতটাই চিৎকার করেন যে বাকিরা তটস্থ হয়ে থাকেন। আবার এমন মানুষও পেশাজগতে দেখা যায়, যিনি উচ্চপদে আসীন হয়েও মার্জিত ব্যবহারের দ্বারা সকলের মন জয় করে নেন। হয়ে ওঠেন শ্রদ্ধার পাত্র।

প্রতিপত্তির প্রকাশ দুই ক্ষেত্রেই থাকে। কিন্তু তাদের রূপ আলাদা। ঠিক সেই কারণেই আত্মবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও কারও ভাবমূর্তি ভীতিপ্রদ, কেউ বা হয়ে ওঠেন ভালবাসার, সম্মানের পাত্র।

জীবনে ভালবাসা, সম্মান অর্জন করতে কে না চাইবেন? তবে সে জন্য নিজেকে তার যোগ্য করে তোলাটাও জরুরি। আচরণে কোন বদল শ্রদ্ধা অর্জনে সাহায্য করতে পারে, আপনি হয়ে উঠতে পারেন সকলের পছন্দের মানুষ।

অন্যের কথা শোনা: অন্যের কথা শোনার অভ্যাস শুধু সৌজন্য নয়, জ্ঞাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও। দু’জনের কথোপকথন হোক বা দলগত বৈঠক— প্রতিটি সদস্য কী বলতে চাইছেন তা মন দিয়ে শুনলে, সেই মানুষটি যেমন ভাববেন তাঁর মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তেমনই অন্যের কথা শুনে নিজের মত জানানোটাও সহজ হবে। অন্যের কথা না শুনে শুধুই নিজের কথা বলে যাওয়া পারিবারিক বা পেশাগত জীবন কোনও ক্ষেত্রেই কাম্য নয়।

নম্রতা এবং ভদ্রতা: কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে হয়তো কম অভিজ্ঞ কোনও কর্মী তাঁর মতামত রাখলেন। তিনি এক রকম পরামর্শ দিলেন। হতেই পারে, কম অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তাঁর প্রস্তাব গুরুত্ব পেল না। আবার এমনও হতে পারে, তাঁর সেই প্রস্তাবটি পরীক্ষামূলক ভাবে পরখ করে দেখা হল। ফল যদি ভাল হয়, তা হলে নিজের ভাবনা বা দূরদর্শিতা নিয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে। আবার প্রকল্প ব্যর্থ হলে, সেই কর্মী বুঝতে পারবেন কোথায়, কোনটা ভুল ছিল। তবে অন্যের মতকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে সেটি গ্রহণ করা বা বিবেচনার তালিকায় রাখা নম্রতার পরিচয়। এতে পেশাগত জীবনে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

সাহায্য: মনস্তত্ত্বে ‘বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এফেক্ট’ বলে একটি শব্দবন্ধ রয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে কেউ যদি কাউকে সাহায্য করেন, পরবর্তীতে সেই সাহায্য ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকে। এমনকি, এই সাহায্য চাওয়ার সূ্ত্র ধরে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কও মজবুত হয়। কেউ যদি ইতিবাচক কাজ করেন এবং অন্যের প্রতি সেই মনোভাবই প্রকাশ করেন, তা হলে অন্য মানুষও তাঁকে স্বাভাবিক ভাবেই সম্মান করবেন।

লড়াইয়ের মানসিকতা: কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে, ব্যর্থতা নিয়ে হা-হুতাশ না করে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা অবশ্যই বড় গুণ। লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে ঝড়ের মুখে যিনি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাঁকে অন্যেরা সম্মান করেন, শ্রদ্ধাও করেন। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক এবং পেশাগত পরিসরেও এমন মানুষকে সকলে ভরসা করেন।

সহমর্মিতা: পেশাজগৎ হোক বা পরিবার কিংবা বন্ধুমহল— কেউ যখন সমস্যায় বা কষ্টে রয়েছেন, তাঁর জায়গা থেকে সেই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করাই হল সহমর্মিতা। তাঁর কষ্টে সমব্যথী হওয়া। কঠিন বা প্রতিকূল পরিস্থিততে যে মানুষ পাশে থাকেন, তাঁর প্রতি সকলেই শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন।

আচরণের এগুলি ইতিবাচক দিক। ব্যক্তিজীবন হোক বা পেশাজীবন— কোনও মানুষের আচরণগুলি, সকলে পর্যবেক্ষণ করেন। আচরণ দিয়েই একটি মানুষকে বিচার করার চেষ্টা করেন। ফলে এক সময় সেই আচরণই হয়ে নির্ধারক, যা ঠিক করে দেয়, কে কতটা শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠতে পারেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy