শিশুর জন্য কোনও উপহার কেনার কথা মাথায় এলেই সবার আগে খেলনার কথা মাথায় আসে বাবা-মায়ের। সে জন্মদিন হোক বা ক্রিসমাস, পরীক্ষায় ভাল ফল হোক বা শিশুদিবস— বাজার থেকে একটা ভাল খেলনা নিয়ে এলেই খুদে খুব খুশি। শিশুর জন্য খেলনা কিনতে গেলে বাবা-মায়েরা সাধারণত যে খেলনাটি থেকে সবচেয়ে বেশি আলো বেরোচ্ছে, যেটি সবচেয়ে চকচকে করছে, যেটি সবচেয়ে বেশি আওয়াজ করছে বা বাজারে নতুন যেই খেলনাটি এসেছে— সেইগুলিকেই পছন্দের তালিকায় প্রথমে রাখেন।
মনোবিদ অনন্যা সেনগুপ্ত মনে করেন, বেশির ভাগ অভিভাবকেরা শিশুর জন্য খেলনা কেনার সময় বড় ভুল করে বসেন। এমন কিছু খেলনা কিনে আনেন যা শিশুর মনে বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সে যেন কেবলমাত্র নীরব দর্শক হয়েই না থেকে যায়। শিশু যেন খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে খেলনাটির সাহায্যে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মনোবিদ বলেন, ‘‘এমন কিছু খেলনা যেগুলি নিজে নিজেই ঘোরে, আলো ছড়ায়, কথা বলে, হেঁটেচলে বেড়ায়, এগিয়ে যায় সেগুলি খুদেকে ‘প্যাসিভ অবজ়ার্ভার’ করে তোলে। এই সব খেলনার ক্ষেত্রে শিশুর অ্যাকটিভ রোল থাকে না। এর বদলে শিশুকে এমন খেলনা দিতে হবে, যেটা নিয়ে শিশু প্রকৃত অর্থে খেলতে পারে। এমন খেলনা দিতে হবে যেটা খুদে শুধু দেখবে না, তার বুদ্ধির বিকাশও হবে, তাকে ভাবতেও শেখাবে।’’
বয়সভেদে শিশুর হাতে কোন খেলনা তুলে দেবেন?
শূন্য থেকে ছ’মাস: এই বয়সের শিশুদের এমন কোনও খেলনা দেওয়া উচিত নয়, যার খুব বেশি আলো জ্বলে কিংবা খুব বেশি শব্দ হয়। তাদের এমন খেলনা দিতে হবে যাতে জ্যামিতিক চিত্র রয়েছে। তাদের ছোট ঝুনঝুনি দিতে পারেন, এতে তাদের হাতে কোনও জিনিস ধরার ক্ষমতা বাড়বে। ছোট কোনও পুতুল যা অল্প অল্প মাথা নাড়ায়, ধীরে ধীরে চলে— এমন খেলনাও দেওয়া যায়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেগুলি থেকে খুব বেশি আলোর ঝলকানি না হয় বা শব্দ না হয়।
শিশুর হাতে খেলনা তুলে দিন বুঝেশুনে। ছবি: এআই।
ছয় থেকে বারো মাস: এই বয়সে শিশুকে এমন কিছু খেলনা দিয়ে হবে যেগুলি তাকে কারণ ও ফলাফল বুঝতে শেখাবে। ব্লক দিয়ে বাড়ি বানানো, লুকোচুরি খেলা তাদের বুদ্ধির বিকাশে সাহায্য করবে। অনেক সময় দামি খেলনার প্রয়োজনও পড়ে না। একটি বাক্সের মধ্যে অনেক জিনিসের মাঝে তার প্রিয় খেলনাটি লুকিয়ে তাকে বলুন সেটি খুঁজে বার করতে। এতেও কিন্তু খুদের বেশ মজা লাগবে।
এক থেকে তিন বছর: এই বয়সে শিশুকে এমন খেলনা দিতে হবে যেটা তাদের মটর স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়। যে কোনও কাজ করতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট মুভমেন্ট হয় আমাদের শরীরে। হাঁটা, দৌড়োনো, সাইকেল চালানোর সময়ে নির্দিষ্ট কিছু মাসল কাজ করে। এটাই হল মোটর স্কিল, যার সঙ্গে আমাদের শরীরের নার্ভাস সিস্টেম, মাসল এবং ব্রেন যুক্ত। এই বয়সে খুদের হাতে ক্রেয়ন ধরিয়ে দিতে পারেন, ডক্টর সেট, কিচেন সেট দিতে পারেন।