প্রেমের এক্সট্রাটাইম করছেন ভারতীয় ফুটবলভক্তেরা! ঘুমের পরোয়া না করে রাত ১টা, ২টো কিংবা ৩ নাগাদ শুরু হচ্ছে সেই প্রেম। চলছে অন্তত ঘণ্টা দু’য়েক। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই প্রেমের সময় দীর্ঘায়িতও হচ্ছে। কখনও বাড়তি আধ ঘণ্টা। কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সঙ্গী পছন্দসই হলে সময়ের পরোয়া করছেন না প্রেমিক মানুষটি। তবে এমন প্রেমের কিছু শর্তও আছে!
প্রেমের কারণ অবশ্যই বিশ্বকাপ ফুটবল। এ দেশে অধিকাংশ দেখা যাচ্ছে মূলত গভীর রাতেই। বিশেষত ভারতে যে সব ফুটবল দলের সমর্থক বেশি— ব্রাজ়িল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশের কোনওটিরই খেলা মাঝরাতের আগে নয়। একটি ডেটিং অ্যাপ দেখেছে, ওই সময়ে ডেটিং অ্যাপেও যাতায়াত বাড়ছে। গভীর রাতে ঠিক কাদের পাশে পেতে চাইছেন ভারতীয় তরুণ ফুটবলপ্রেমীরা? মাঝরাতের প্রেমের চাহিদা বুঝতে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল তারা। তাতেই জানা গিয়েছে নানা রকমের তথ্য।
‘না’ বলতে পারছেন না ৯৩ শতাংশ!
১৮-৩৫ বছর বয়সি ৩৮০০ ফুটবলভক্তদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গিয়েছে ৯৩ শতাংশই মাঝরাতে ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন চেনা অচেনা মানুষের সঙ্গে ডেটিংয়ে রাজি। তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি মাঝরাতে এক সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ দেখার ডেট-এ আমন্ত্রণ পান? উত্তরে কেবল ৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ওই আর্জি তৎক্ষণাৎ ফেরাবেন। ৩২ শতাংশ এক বাক্যে রাজি হয়েছেন। ৩৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এক বার অন্তত বিচার করে দেখবেন, যিনি আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, সেই মানুষটি কেমন? তবে তাঁরা আবদার ফেরাবেন এমন কথাও বলেননি।
প্রিয় কাউচে সঙ্গীকে আমন্ত্রণ!
যাঁরা একা, তাঁরা মানসচক্ষে দেখেও ফেলেছেন, কেমন হবে সেই ডেট? ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সঙ্গীকে বাড়িতে ডেকে নিজের প্রিয় কাউচে বসার আমন্ত্রণ জানাবেন। ৪০ শতাংশ আবার বলছেন, ডেটে কোনও কমতি থাকা চলবে না। পিৎজ়া-বিয়ার সহযোগে প্রিয় দলের জার্সি গলিয়ে ফুটবল থিমড প্রেম হবে রাতভর। তার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণও ভুলতে রাজি তাঁরা।
বিপক্ষের প্রেম ‘ইন্টারেস্টিং’!
সম্পর্কে বোঝাপড়া জরুরি, ফুটবল-ডেটিংয়ে নয়। তাই সঙ্গী যদি বিরুদ্ধ টিমের সমর্থক হন, তাতে একেবারেই আপত্তি নেই ৫৩ শতাংশের। বরং তাঁরা বলছেন, তাতে খেলার নানা মোচড়ে প্রেম আরও ‘ইন্টারেস্টিং’ হয়ে উঠবে। ৩১ শতাংশ মনে করেন, সঙ্গী বিরুদ্ধ টিমের সমর্থক হলে অসুবিধা কিছু নেই। কেবল খেলায় সত্যিকারের আগ্রহ থাকলেই খুশি হবে তারা।
সঙ্গীর টিম হারলে?
যদি সঙ্গীর টিম হারে তা হলে কী হবে? এ ব্যাপারে মোটেই গায়ের জ্বালা মেটানোর কথা বলেননি ভারতীয় তরুণ প্রজন্ম। সঙ্গীর টিম হারলে তারা পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন বরং। ৪৭ শতাংশ বলেছেন, সঙ্গী যদি দূরে থাকেন, তবে তাদের মন ভোলানো মেসেজ পাঠাবেন তাঁরা। বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন প্রিয় খাবারদাবার। ১২ শতাংশ বলেছেন, তাদের তখন বিরক্ত না করে সময় দেবেন তাঁরা। তবে ৩০ শতাংশ মনে করেন সঙ্গীর সঙ্গে এ ব্যাপারে একটু খুনসুটি করতে খারাপ লাগবে না তাদের।