খাবারে একটুখানি গোলমরিচের গুঁড়ো পড়লেই অনেক বিস্বাদ খাবারও খেয়ে ফেলা যায়। বিশেষ করে স্যুপ হোক বা ডিম সিদ্ধ, উপরে একটু ছড়িয়ে নিলে খাওয়ার স্বাদই বেড়ে যায়। আবার কোনও চাইনিজ রেস্তরাঁয় খেতে গেলেও নুডলসের সঙ্গে একটু গোলমরিচ না হলে চলে না।

কিন্তু শুধুই কি স্বাদ বাড়াতে সক্ষম গোলমরিচ? তা কিন্তু নয়। গোলমরিচে এমন কিছু রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মহৌষোধির মতো কাজ করে। তাই কেবল স্বাদ নয়, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ দিন।

সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে গোলমরিচ অত্যন্ত কার্যকরী, কিন্তু তা ছাড়াও গোলমরিচের বেশ কিছু উপকার রয়েছে। জানেন, কোন কোন অসুখে মহৌষোধির মতো কাজে লাগে গোলমরিচ?  

আরও পড়ুন: এ সব উপায়েই মিটবে হজমের সমস্যা, কমবে মেদ! কিন্তু কী ভাবে?

  • ত্বকের রোগ থাকলে তার চিকিৎসাতে কাজে লাগে গোলমরিচ। গোলমরিচ গুঁড়ো করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। ফলে ত্বকে সহজে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন হয়। পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ।
  • গোটা মরিচের খোসা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ফলে গোলমরিচ দিয়ে খাবার বানান। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে সহজেই।
  • গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে। কারণ এটি পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়।  হজম ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাকে এড়ানো যায়। হজমের সমস্যা থেকে অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সেইগুলি এড়ানো যায়।

আরও পড়ুন: জল খেয়েই রোগা হওয়া যায়, শেখাচ্ছে ১০০ বছরের পুরনো এই থেরাপি

কেবল স্বাদ নয়, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ দিন।

  • যাঁরা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করেন তাদের জন্য গোলমরিচ খুবই উপকারী। গোলমরিচ তেলের গন্ধ নিয়মিত সেবন করুন। অথবা সরাসরি ভাবে গোলমরিচ খেলেও ধূমপানের প্রতি আসক্তি কমবে অনেকটাই।
  • দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে মুখে গোলমরিচ রাখতে পারেন। ব্যথা নিরাময় করতে গোলমরিচ সাহায্য করে।
  • নাক বন্ধ থাকা, হাঁপানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি দিতেও গোলমরিচের জুড‌়ি মেলা ভার। এক কাপ গরম জলে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হবে। গলা ব্যথা কমবে।
  • গোলমরিচ খেলে শরীর গরম হয়ে ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন কমতে থাকে। ফলে ত্বক ভাল থাকে ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।