মথুরার ক্ষীরের পেঁড়া গায়ানায় ‘পীরা’, ভারতীয় ছোলে বাটুরেই ক্যারবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলিতে ‘ডাবলস’। ভারতীয় সূত্রে ভিন্দেশে পাড়ি দেওয়া এমন অনেক খাবারই এখন সেই সব দেশে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় পড়ে। চমকপ্রদ সেই সব কাহিনি।
খাও স্যুয়ে ইডলি
খাও স্যুয়ে ইডলি পাওয়া যায় রেঙ্গুনের একটি মন্দিরের টিফিন রুমে। ছবি:সংগৃহীত।
ভারতীয় ইডলি জনপ্রিয় রেঙ্গুনের মুরুগান মন্দিরে। তবে সম্বর-চাটনি নয়, ইডলি সেখানে পরিবেশন করা হয় মায়ানমারের জনপ্রিয় খাবার খাও স্যুয়ের সঙ্গে। তথ্য বলছে, তামিল ব্যবসায়ী নাট্টুকোট্টাই চেট্টিয়ার ১৯ শতকে মুরুগান মন্দির এবং টিফিন রুম তৈরি করে ছিলেন। সেখানেই পাওয়া যেত ইডলি। নরম এবং গরম ইডলি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায় সেই মুলুকে। কিন্তু দেশ আলাদা। ফলে স্থানীয় ছোঁয়া লাগে ইডলিতে। নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি স্যুপ খাও স্যুয়ের সঙ্গে পরিবেশিত হয় ইডলি।
পীরা (গিয়ানা)
পেঁড়া গায়ানায় পীরা। ছবি: সংগৃহীত।
১৮৮ বছর আগে ভারত থেকে ব্রিটিশ গায়ানায় চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আখের ক্ষেতে কাজ করার জন্য। তাঁদের কয়েকজনের হাত ধরেই সেই দেশে তৈরি হয় মথুরার পেঁড়া। গিয়ানায় টাটকা দুধের অভাব ছিল। ফলে কন্ডেন্সড মিল্ক এবং চিনি দিয়ে তৈরি হয় মিষ্টি। বছরের পর বছর সেই দেশে থাকতে থাকতে ভারতীয়দের ভাষাতেও ক্যারিবিয়ান ভাষা বা টানের প্রভাব পড়ে। ফলে এক সময় পেঁড়া হয়ে যায় পীরা।
ডব্লস (ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো)
ত্রিনিদাদে ছোলে ভাটুরে হয়েছে ডব্লস। ছবি:সংগৃহীত।
১৯ শতকে ব্রিটিশরা বহু ভারতীয়কে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসাবে নিয়ে গিয়েছিলেন।সেই দলে ছিলেন মামুন দীন এবং রসুলান আলি।ভারতীয় ছোলে বাটুরে ত্রিনিদাদে গিয়ে এক সময় হয়ে যায় ‘ডাবলস’। তার নেপথ্য কাহিনি এই প্রকার— বাটুরে সেখানকার উপকরণ দিয়ে বানাতে শুরু করেন তাঁরা। বাটুরেতে যোগ হয় হলুদ, সেটি হয়ে যায় লুচির মতো, নাম হয় বড়া। ছোলে হয়ে যায় সাধারণ ছোলার তরকারি। এই বড়ার উপর ছোলার তরকারি দিয়ে খাওয়া হত। একটি খেয়ে স্থানীয় লোকের মন ভরত না বলে তাঁরা দ্বিতীয় বার চাইতেন। সেই থেকে দু’টি বড়ার মাঝে বেশি করে ছোলার তরকারি, চাটনি দিয়ে পরিবেশিত হতে শুরু করে। দু’টি করে দেওয়া হত বলে নাম হয় ডাব্লস।