Advertisement
E-Paper

গ্যাস ছাড়াই আগুনের আঁচে রান্না হবে! ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেডকেও টক্কর দিতে আসছে প্লাজ়মা স্টোভ

গ্যাস ও ইন্ডাকশনে রান্নার ঝক্কি কাটিয়ে রান্নাঘরে আসতে পারে নতুন এক স্টোভ। গ্যাস ছাড়াই, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করার এক নতুন উপায় নিয়ে আলোচনা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭
নতুন এই স্টোভে বিশেষ কী কী সুবিধা মিলবে?

নতুন এই স্টোভে বিশেষ কী কী সুবিধা মিলবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

এখনও গ্যাসের ভাঁড়ারে টান। গ্যাস সিলিন্ডার বুক করে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেবল অপেক্ষাই করে যেতে হয়। তার উপর সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ। আর এই সময়েই নানা দিকে নানা রকম বিকল্পের পথ খুঁজছেন দেশের মানুষ। বাজারে ইন্ডাকশনের বিক্রি বেড়েছে। লোকে নতুন করে ব্যবহার বাড়াচ্ছেন ইলেকট্রিক কেটলির। পরিচয় হচ্ছে ইনফ্রারেডের সঙ্গে। আরও এমন নানা ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রের আবিষ্কার, তা নিয়ে আলোচনা এবং শেষমেশ ব্যবহার বাড়ছে। এরই মধ্যে নতুন এক যন্ত্র নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছে চারদিকে। নাম, প্লাজ়মা ইলেকট্রিক স্টোভ।

হেঁশেলে গ্যাসের টানের সমস্যা না হয় নতুন কিন্তু সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হওয়ার ভয়, বার বার বুকিং— এই সমস্ত ঝক্কি তো পুরনো। তার উপর ইলেকট্রিক কেটলিতে সমস্ত রান্না করা সম্ভব হয় না। ও দিকে ইন্ডাকশনে কোনও কোনও রান্না শ্লথ গতিতে হয়। তা ছাড়া বিশেষ বিশেষ পাত্র ছাড়া ওই কুকটপে বসানো যায় না। উপরন্তু আগুনের শিখা দেখা যায় না বলে নাকি বড্ড মনখারাপ হয় রাঁধুনীদের। যদি সমস্ত ঝক্কি মিটিয়ে এই নতুন স্টোভ জায়গা করে নেয়, তবে এই সমস্ত অভাব-অভিযোগ কি অতীত হয়ে যাবে? সেই প্রশ্নটাই এখন উঠছে নতুন এই প্রযুক্তিকে ঘিরে।

প্লাজ়মা ইলেকট্রিক স্টোভ।

প্লাজ়মা ইলেকট্রিক স্টোভ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শুনে মনে হতে পারে, এ তো দূরকল্পনা! কিন্তু এই স্টোভ ইতিমধ্যেই আলোচনায়। কারণ এটি গ্যাস ছাড়াই, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করার এক নতুন রাস্তা দেখাচ্ছে।

Advertisement

প্লাজ়মা ইলেকট্রিক স্টোভের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এতে আগুনের মতো শিখা দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবে কোনও জ্বালানি পোড়ে না। বিদ্যুতের সাহায্যে বাতাসকে আয়নাইজ় করে তৈরি করা হয় ‘প্লাজ়মা’, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপ তৈরি করতে পারে। এই তাপই রান্নার কাজে ব্যবহার হয়। ফলে এলপিজি-রও প্রয়োজন নেই, পাইপ গ্যাসেরও দরকার নেই। শুধু বিদ্যুৎ দিয়েই তৈরি হচ্ছে আগুনের মতো তাপ।

কোনও কোনও স্টোভে আবার নবও রয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের বার্নারের মতো নব ঘুরিয়ে আঁচ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এবং সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায়, লোহা থেকে শুরু করে স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামও। এখানেই ইন্ডাকশনের থেকে আলাদা এই স্টোভ। ইন্ডাকশনে যেমন নির্দিষ্ট পাত্র লাগে, এখানে সেই সীমাবদ্ধতা নেই। এই স্টোভের আগুন নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়, তাই খাবার পুড়ে যাওয়ার কোনও ঝুঁকি নেই।

এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব। এতে ধোঁয়া তৈরি হয় না, কালি পড়ে না, গ্যাস লিকের ঝুঁকিও নেই। কিন্তু এই প্রযুক্তি এখনও ততটা সহজলভ্য হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে এই স্টোভকে দ্রুত সহজলভ্য করার। তা হলে গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমবে। এমনকি, সৌরশক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে পুরো রান্নার প্রক্রিয়াই হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব।

তবে এই স্টোভের দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি। কোথাও কোথাও এর দাম প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তবে আশা করা হচ্ছে, বাজারে সহজলভ্য হয়ে গেলে দাম নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হবে।

Cooking Stove Induction Stove LPG Crisis
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy