Advertisement
E-Paper

পরিকল্পনার ভুলেই নষ্ট হতে পারে কষ্টার্জিত অর্থ, সম্পদ বৃদ্ধিতে কোন বিষয়ে নজর দেবেন

সম্পদ শুধু বেশি উপার্জনেই বৃদ্ধি পায় না, বরং কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করা এবং তা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাড়িয়ে তোলা যায়। সেই কৌশল না জানলেই নষ্ট হতে পারে সম্পদ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৭
Which mistakes silently drain your wealth

সম্পদ বৃদ্ধি করতে হলে কোন ভুলগুলি এড়ানো দরকার? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বয়স ৩৮। তবে তার মধ্যেই গাড়ি-বাড়ি সব করে ফেলেছেন। বছর বছর বেড়াতেও যাচ্ছেন সপরিবারে। বেতন যে আকাশছোঁয়া তেমনটা নয়। খুঁজলে বন্ধু বা পরিজনদের মধ্যে এমন কয়েক জনকে ঠিকই খুঁজে পাওয়া যাবে। তাঁদের দেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে, কী করে তাঁরা এই বয়সেই সম্পদ এমন বাড়িয়ে ফেলেছেন?

আর্থিক উপদেষ্টারা বলছেন, ‘‘সঠিক বিনিয়োগ যেমন সম্পদের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমনই এই সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং উদাসীনতা কষ্টার্জিত ধন-সম্পদ নষ্টও করতে পারে। সম্পদ তৈরি করার অর্থ শুধু বেশি উপার্জন নয়, বরং উপার্জিত অর্থ সঞ্চয় করা এবং তা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাড়িয়ে তোলা।’’

সম্পদ বৃদ্ধি করতে কোন ভুলগুলি এড়ানো দরকার?

ব্যাঙ্কে টাকা ফেলে রাখা নয়: মাস গেলে ব্যাঙ্কে টাকা জমে। তবে সে সব কি সেভিংস অ্যাকাউন্টেই পড়ে থাকে? সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের পরিমাণ একেবারেই স্বল্প। ফলে সেখানে মাসের পর মাস টাকা ফেলে রাখা মানেই সেই সম্পদের অপব্যবহার। এতে টাকার অঙ্ক যতটা বৃদ্ধি করা যেত ততটা কিন্তু হবে না।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য থোক টাকা এমন এমন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুন যা নিরাপদ এবং যখন ইচ্ছা তুলে নেওয়া যায়।এমন কিছু ফিক্সড ডিপোজ়িট আছে যেখানে সেভিংসের চেয়ে সুদ বেশি হলেও, টাকা ইচ্ছামতো ভাঙিয়ে নেওয়া যায়। তেমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন।

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরুরি পরিস্থিতির জন্য রেখে বাকি টাকা লাভজনক কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন। মিউচুয়াল ফান্ড, এনপিএস-এর মতো জায়গায় বিনিয়োগ করা ভাল। তবে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে কি না, কতটা ঝুঁকি সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি।

বিমা: বিমা হল সম্পদ রক্ষার জন্য, বৃদ্ধির জন্য নয়। অনেক বিমায় সুদের অঙ্কও তেমন ভাল নয়। ভুল ইনশিওরেন্স সম্পদ নষ্ট করতে পারে। বিনিয়োগ করতে হলে টার্ম ইনশিওরেন্স বেছে নিতে পারেন। এতে পরিবার, সন্তান প্রয়োজনের সময় অর্থ পাবে। আবার চিকিৎসার খরচ যে ভাবে বাড়ছে মেডিক্যাল ইনশিওরেন্সও অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ছে।

দেরিতে শুরু: অনেকেই উপার্জনের অর্থ কম বলে জমাতে চান না বা বয়স কম বলে দু’হাতে খরচ করে ফেলেন। কিন্তু সঞ্চয় কম বয়সের জন্য নয়, বরং বৃদ্ধ বয়সে সুফল ভোগ করার জন্য। কম বয়স থেকে সঞ্চয় করলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের অঙ্ক বাড়বে। কেউ যদি ২০ বছর বয়স থেকেই সঞ্চয় করেন, বয়স বৃদ্ধি এবং উপার্জনের সঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করেন তা হলে ৩৮-৪০ বছরে গিয়ে তিনি ভাল রকম অর্থ সঞ্চয় করে ফেলতে পারবেন। কেউ যদি ৩৩ বা ৩৫ বছর থেকে এসআইপি করেন, তাহলে ৫০ বছর পেরিয়ে তিনি মোটা টাকার মালিক হতে পারবেন। আরও কম বয়স থেকে বিনিয়োগ করলে, টাকার অঙ্ক বাড়বে আরও।

এসআইপি, রেকারিং ডিপোজ়িটের মতো বিনিয়োগ কম অঙ্ক দিয়ে শুরু করা যায়। মাসে মাসে বিনিয়োগ করতে হয় বলে সঞ্চয়ে অসুবিধাও হয় না।

একদিকে বিনিয়োগ: রিয়েল এস্টেট, সোনা বা ইক্যুয়িটি, যে কোনও এক দিকে সমস্ত অর্থ বিনিয়োগ করা খুবই ঝুঁকির ব্যাপার। অর্থ কোনও নির্দিষ্ট পরিসরে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করা ভাল। এতে ঝুঁকি কমে।

জানা: বিনিয়োগের আগে নিজের বিষয়টি জানা জরুরি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড সবেরই পরিষেবা বদল হয়। কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় বিনিয়োগ না করে, সময়ের সঙ্গে লাভ বুঝে বিনিয়োগের জায়গা বদল করা দরকার। এ ব্যাপারে অভিজ্ঞদের মত নেওয়া ভাল।

Money Saving Tips Wealth Savings Planning
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy