মেকআপ যে কত বড় শিল্প, তা প্রমাণ হয় দক্ষ রূপটান শিল্পীর হাতযশে। মুখের যে কোনও দাগ-ছোপ মুহূর্তে ঢেকে ত্বকে দীপ্তি আনতে পারে মেকআপ। ছোট চোখ বড় দেখানো, ভোঁতা নাক টিকালো করা, মুখের ভারিক্কি গড়ন বদলে তাকে তীক্ষ্ণ করে তোলা— সবই সম্ভব হয় রূপটানের গুণে।
তবে সেই শিল্প-সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে অপটু হাতে পড়্লে। চোখের নীচের কালি, মুখের কালো দাগছোপ ঢাকতে ব্যবহার হয় কনসিলার। ঘরোয়া মেকআপেও এই প্রসাধনীর অবাধ প্রবেশ। কিন্তু তা ব্যবহারের খানিক পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে চোখের নীচের ভাঁজ এবং সূক্ষ্ম বলিরেখা। কনসিলার ব্যবহারের কিছু ক্ষণ পর থেকেই ক্রমশ চোখের নীচের সূক্ষ্ম রেখাগুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা রূপটান নষ্ট করতে পারে। ধাপে ধাপে জেনে নিন, কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে কনসিলার।
১। মেকআপ শুরুর আগে যেমন ত্বকের প্রস্তুতি জরুরি, তেমনই চোখের মেকআপের জন্যও একই শর্ত প্রযোজ্য। চোখের উপর এবং নীচের অংশে হাইড্রেটেড বা জলীয় ভাবের জোগান দেয় এমন আই ক্রিম মেখে নিন।
২। আই ক্রিম ব্যবহারের পর কনসিলার লাগালে, সেটি ত্বকে মেশাতে সুবিধা হবে। তরল, ক্রিমের মতো কনসিলার পাওয়া যায়। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক শেডটি বাছাই করা জরুরি। তবে ভারী বা পুরু ধরনের নয়, হালকা কনসিলার বেছে নেওয়াই ভাল। ত্বকের উপর পরত যত হালকা হবে, ততই তা ভাল ভাবে মিশবে। বলিরেখা পড়ার সম্ভবনা কমবে। আই ক্রিম মাখার কিছু ক্ষণ পরে কনসিলার লাগাতে হবে।
৩। কনসিলার সঠিক ভাবে চোখের নীচে মেশাতে হলে আঙুল নয়, দরকার ব্রাশ বা স্পঞ্জের। কনসিলার লাগানোর জন্যই ছোট মুখের বিশেষ ধরনের ব্রাশ হয়। আবার চোখের নীচে ব্যবহারের সুবিধা হয় এমন ছোট, সুচালো মুখের ব্লেন্ডারও বেছে নিতে পারেন।
৪। চোখের কোণের অংশ, চোখের পাতার উপরের অংশ, সব জায়গাতেই কনসিলার দিতে হবে। তুলির সাহায্যে প্রতিটি কোণ, সূক্ষ্ম স্থানও ভরে দিতে হবে কনসিলার দিয়ে। এমন ভাবে তা ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে যেন ত্বকের কালচে ভাব ঢাকা পড়ে, আবার মনে না হয়, ত্বকের উপরে কিছু মাখা হয়েছে। যতটা প্রয়োজন, ততটা দেওয়াই ভাল। বেশি কনসিলার দিলে তা মোটা স্তরে ত্বকের উপর বসে থাকবে। সাজ কৃত্রিম মনে হবে।
৫। কনসিলার ব্যবহারের পর সেটিং পাউডার দিন।এই পাউডার মেকআপ মুখের উপর ঠিক ভাবে বসিয়ে দিতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত পাউডার ব্রাশের সাহায্যে ঝেড়ে ফেলতে হবে।