দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন বলে কেউ কেউ তাঁর উপর খুব চটে গিয়েছেন। তাই তাঁকে আক্রমণ করছেন। বিজেপিকে আক্রমণ করছেন। ব্রিগেডের সমাবেশ নিয়ে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ব্রিগেডে শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির নেতাদের তোপ দাগার প্রেক্ষিতে দাদরা ও নগর হাভেলির সিলভাসায় মোদী বলেছেন, ‘‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অভিযান কয়েক জনকে রাগিয়ে দিয়েছে। খুবই স্বাভাবিক। ওঁরা মানুষের টাকা লুঠ করছিলেন। আমি সেটা রুখেছি। তারই পরিণতিতে ওঁরা জোট বেঁধেছেন। মহাজোট। বিজেপির বিরোধিতা করছেন। আদতে তাঁরা দেশেরই ক্ষতি করছেন।’’

ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী, তাঁর সরকার ও তাঁর দল বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টি (সপা) নেতা অখিলেশ যাদব, তেলুগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিরোধী দলগুলির নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রী ঠিক হবে ভোটের পরে: চোখ ধাঁধানো ব্রিগেড থেকে দ্ব্যর্থহীন মমতা​

আরও পড়ুন- রাফালে নয়া অস্ত্র কংগ্রেসের​

তারই প্রেক্ষিতে মোদী বলেছেন, ‘‘যাঁরা তাঁদের নিজের নিজের রাজ্যেই গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন, তাঁরাই সরব হয়েছেন গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে। এটা সত্যিই খুব মজার। এঁরাই এক সময় কংগ্রেসের সমালোচনা করতেন। এখন আমার সমালোচনা করছেন। বিজেপির সমালোচনা করছেন। এঁদের সবাই এখনও মঞ্চে আসেননি। কিন্তু ওঁদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার খেলাটা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।’’

মোদীর বক্তব্য, দেশের নাগরিকরা, এই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন যাঁরা, সেই তরুণ প্রজন্ম এই সব কিছুই দেখছেন। ওঁরা বিরোধী নেতাদের কথাবার্তার উপর নজর রাখছেন। তাঁরা এটাও দেখতে পাবেন, লড়াইটার ফলাফল কী হয়।

মোদীর কথায়, ‘‘সেই লড়াইটা আসলে গঠনমূলক ভাবনাচিন্তার সঙ্গে শুধুই সমালোচনামূলক মনোভাবের। সেই লড়াইটা উন্নয়ন আর দুর্নীতির মধ্যে।’’ এও বলেছেন, বিজেপির মাত্র এক জন সদস্য রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। যে রাজ্যে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা মাত্র এক, সেই রাজ্যেই বিজেপির বিরোধিতা করতে ছুটে গিয়েছেন সবাই। মোদীর কথায়, ‘‘তা হলে বুঝতে হবে, এক জন বিজেপি বিধায়কই ওঁদের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছেন।’’