কাউন্টডাউন যখন শেষের মুখে, দ্রুত হয়েছে হৃদস্পন্দন। গোটা দেশের চোখ টিভি-ইন্টারনেটে। দেশবাসীর সঙ্গেই অধীর প্রতীক্ষায় টিভিতে চোখ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বেড়ে গিয়েছিল। তবে চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপ সফল হতেই বাঁধ ভাঙল আবেগ-উচ্ছ্বাসের। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ থেকে প্রধানমন্ত্রী— অভিনন্দন জানালেন ইসরোর বিজ্ঞানীদের। বললেন, ‘‘আজ দেশের প্রতিটি মানুষ গর্বিত।’’ রাজনীতিক থেকে সেলিব্রিটি, নেতা থেকে মন্ত্রী— সবার অভিনন্দনের বন্যায় ভাসলেন বিজ্ঞানীরা। আর আম জনতাও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটাই কথা বলেছেন, ‘গর্বের মুহূর্ত’।

গত ১৫ জুলাইতেই হয়তো এই দৃশ্য দেখত ভারত। কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সে দিন থেমে গিয়েছিল চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের কাউন্টডাউন। মাত্র ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে। ফলে সোমবার দুপুর দু’টো ৪৩ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধওয়ন স্পেস রিসার্চ সেন্টারের পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল-৩ (পিএসএলভি-৩) থেকে চন্দ্রযান-২ নিয়ে বাহুবলী রকেট উড়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ছিল চরম উৎকণ্ঠা। ইসরোর কন্ট্রোল রুমে তো ছিলই, সেই উদ্বেগ ছড়িয়েছিল দেশবাসীর মধ্যেও। তাই ‘ক্রস ফিঙ্গারে’ অধীর প্রতীক্ষায় ছিল সবাই।

উৎক্ষেপণ সফল হতেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ভারতের চন্দ্রাভিযানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা আরও নতুন নতুন সাফল্যের দিক উন্মোচন করুক— বার্তা রাষ্ট্রপতির।

প্রধানমন্ত্রী নিজেও যে উদ্বেগে ছিলেন, তার ছবি ধরা পড়েছে। নিজে টিভির সামনে বসেছিলেন অনেক আগে থেকেই। চন্দ্রযান চাঁদের উদ্দেশে উড়ে যায় ২টো ৪৩ মিনিটে। তার ১৬ মিনিট পরই প্রথম ধাপ শেষ হয়ে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন চালু এবং পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার কথা চন্দ্রযানের। তিনটে বাজতেই সেই সুসংবাদ  দেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। আর প্রধানমন্ত্রী মোদীর টুইট পোস্ট হয়েছে তার মাত্র ২০ মিনিট পরে। ভিডিয়ো-সহ টুইটে মোদী লিখেছেন, ‘‘আমাদের অতীত গর্বের ইতিহাসকে আরও গর্বিত করে তুলবে। চন্দ্রযান-২ প্রমাণ করল আমাদের বিজ্ঞানীদের দক্ষতা ও শক্তি। ১৩০ কোটি দেশবাসীর প্রতিজ্ঞা দেশকে উন্মোচন করে দিল বিজ্ঞানের নতুন দিক। প্রতিটি ভারতবাসী আজ বিরাট গর্বিত।’’

আরও পডু়ন: পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে গেল চন্দ্রযান-২, ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন: চাঁদে প্রথম পা পড়ার আগের দিনই ইতিহাস তৈরি হয়েছিল এ দেশে, ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ

দ্বিতীয় টুইট পোস্ট হয়েছে আরও তিনটে ২৩ মিনিটে। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘চন্দ্রযান-২-এর মতো মিশন দেশের যুব সমাজকে বিজ্ঞান গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে।এই চন্দ্রাভিযান মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চন্দ্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’’

 

দল-মত নির্বিশেষে প্রায় সবাই ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে টুইট করেছেন। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে একটি টুইট করে অভিনন্দনবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলিউড তারকা থেকে ক্রিকেটার সবার পক্ষ থেকেই এসেছে শুভেচ্ছাবার্তা। শাহরুখ খান থেকে বিরাট কোহালি— সবাই টুইটারে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন ইসরোকে। বাদ নেই আম জনতাও। সব কিছুর মূল সুর একটাই, গর্বিত দেশ, গর্বিত ভারত।

আরও পড়ুন: চন্দ্রযান সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানেন?