• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আকাশে অশনিসঙ্কেত, মার্চে কর্মীদের মাইনে কাটার ঘোষণা গোএয়ার-এরও

GoAir
বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে গোএয়ার-এর বিমান। —ফাইল চিত্র

করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রত্যক্ষ ভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র। তার কোপ পড়তে শুরু করেছে কর্মীদের উপর। কোনও সংস্থা বিনা বেতনে ছুটি, কেউ আবার আংশিক বেতন কাটার ঘোষণা করছে। কিছু সংস্থা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথেও হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা দানা বাঁধছে। কর্মীদের বেতন কাটার তালিকায় শেষ সংযোজন ‘গোএয়ার’ সংস্থা। বুধবার সংস্থার তরফে কর্মীদের ই-মেল পাঠিয়ে এই বেতন কাটার কথা জানানো হয়েছে। তবে কত শতাংশ বেতন কাটা হবে, তার উল্লেখ নেই ওই ই-মেলে।

গোএয়ার-এর চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) বিনয় দুবে এ দিন কর্মীদের ই-মেল করে বলেছেন, ‘‘মার্চ মাসে সব কর্মীর বেতন কাটা হবে। কারণ করোনাভাইরাসের জন্য বিমান পরিষেবা বন্ধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই।’’ কয়েক দিন আগেই গোএয়ার বেশ কিছু পাইলটককে ছাঁটাই করেছে। বর্ষীয়ান কর্মী-অফিসারদের ৫০ শতাংশ মাইনে কাটার ঘোষণা করেছে। বহু কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটি পাঠিয়েছে। এ বার সব কর্মীর মাইনে কাটার ঘোষণা করায় তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সংস্থার কর্মীরা।

অবশ্য শুধু গোএয়ারই নয়, করোনা পরিস্থিতির জেরে একই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিকাংশ বিমান পরিবহণ সংস্থা। গত সপ্তাহেই ‘ইন্ডিগো’ ঘোষণা করেছে সিনিয়র অফিসারদের ৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেতন কাটা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ও কেবিন ক্রু বাদ দিয়ে বাকি সব কর্মী-অফিসারদের বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে যে অনুদান দেওয়া হয়, তার ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে গোটা বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেই অশনিসঙ্কেত।আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ হয়েছে গত ২২ মার্চ থেকে। অল্প সংখ্যক যে অন্তর্দেশীয় উড়ান চলছিল, গতকাল মঙ্গলবার দেশ জুড়ে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার পর তা-ও বন্ধ। ফলে ভারতের আকাশপথ স্তব্ধ। সব বিমান মাটিতে। সব সংস্থার আয় এখন শূন্য। বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, অন্য সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বাজার-দোকানে ‘সুরক্ষারেখা’ টানল কলকাতা পুলিশ

আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত বিলেতফেরত ছেলে, ঘুরে বেড়ালেন ডিএসপি বাবা

সেই পথে হেঁটেই গোএয়ার জানিয়ে দিল, যে হেতু সংস্থার লোকসানের বহর বেড়েই চলেছে এবং তিন সপ্তাহের লকডাউনে সেই পরিমাণ বিপুল আকার নেবে, তাই মার্চ মাসে কর্মীদের পুরো বেতন দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। বিনয় দুবে বলেছেন, ‘‘বেতন কাটা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনও বিকল্প নেই।’’ তবে বিনয় দুবে কর্মীদের প্রতি বার্তায় আশ্বস্ত করেছেন, ‘‘আমরা এটা নিশ্চিত করব যে, সবচেয়ে কম বেতন যাঁরা পান, তাঁদের যাতে সবচেয়ে কম বেতন কাটা হয়। পরিস্থিতি উন্নতি হলে আপনারা এই দুঃসময়ে যে কষ্ট স্বীকার করছেন, সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সংস্থা।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন