অযোধ্যা মামলার শেষ দিনের শুনানিতে চূড়ান্ত নাটক হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির মধ্যেই, বিতর্কিত জমির একটি মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে আদালত ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

নাটকের সূত্রপাত একটি বইকে ঘিরে। কুণাল কিশোরের লেখা ওই বই আদালতে রাম জন্মভূমির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার চেষ্টা করেন সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিংহ। তা দেখে মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী রাজীব ধবন বলে ওঠেন, “এই ধরনের বইয়ের উপর সুপ্রিম কোর্টের নির্ভর করা উচিত নয়।” তার পরই তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বইটি ছিঁড়ে ফেলার ‘অনুমতি’ চান। বিচারপতিদের জিজ্ঞাসা করেন, “এটা ছিঁড়ে ফেলার জন্য কি আপনাদের অনুমতি পেতে পারি?” বিরক্ত প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, “যা ইচ্ছে, তা-ই করুন।” এর পরেই, বইয়ে থাকা ‘রাম জন্মভূমি’ চিত্রিত একটি মানচিত্রের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন ধবন।

সব মিলিয়ে, আদালত কক্ষে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, “আদালতের সব শিষ্টাচার নষ্ট হয়েছে। শুনানি যদি এ ভাবে চলতে থাকে, আমরা উঠব আর সোজা বেরিয়ে চলে যাব।”

নাটকের এখানেই শেষ নয়। সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গায় প্রবীণ আইনজীবী রাজীব ধবনের এ হেন আচরণের কথা দ্রুতই খবরের শিরোনামে চলে আসে। সেই সূত্র ধরে ধবন তার পর আদালতেই বলেন, “সবাই বলছেন আমি নাকি মানচিত্রটা ছিঁড়ে ফেলেছি। কিন্তু ছিঁড়েছি তো প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই!”

প্রধান বিচারপতি গগৈ ধবনের সঙ্গে একমত হন। বলেন, “হ্যাঁ, আমিই তো বলেছিলাম— যা আপনার ইচ্ছে করুন!” মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলার পর্বের ইতি হয় এখানেই।

এ দিন অযোধ্যা মামলার বর্তমান পর্বের দৈনিক শুনানি চল্লিশতম দিনে পড়ল। বুধবারই এই পর্বের শেষ শুনানির দিন বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তার পরেও, এ দিন শুনানির শুরুতেই আরও কিছু দিনের সময় চেয়েছিলেন এক আইনজীবী। রাজি না হয়ে প্রধান বিচারপতি বলে দেন, “যথেষ্ট হয়েছে! আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে অযোধ্যা শুনানি শেষ হতেই হবে।”

বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ শেষ হয় শুনানি। তবে এ দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করেনি সুপ্রিম কোর্ট। তেইশ দিন পর ঘোষিত হবে রায়।

আরও পড়ুন: ‘যথেষ্ট হয়েছে, আজ বিকেলে অযোধ্যা শুনানি শেষ হতেই হবে’, বললেন প্রধান বিচারপতি

আরও পড়ুন: ১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ নম্বরে, ক্ষুধা সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত