সকাল সকাল কলকাতার আকাশে বিমানের যুদ্ধগর্জন। দমদম বিমানবন্দর থেকে উড়ল বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান সুখোই থার্টি এমকেআই। না, যুদ্ধ বাধেনি কোথাও, কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। কিন্তু বায়ুসেনার নতুন কৌশলে এ বার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর।

এ রাজ্যে সামরিক বিমানঘাঁটি রয়েছে ব্যারাকপুর, হাসিমারা, কলাইকুণ্ডা, পানাগড়ে। কিন্তু পরিচিত বলেই যে কোনও সময় শত্রুপক্ষ (পড়ুন চিন) বিমানহানা চালাতে পারে এই বিমানঘাঁটিগুলিতে। সে ক্ষেত্রে পাল্টা হামলা চালাতে নতুন রণকৌশল তৈরি করছে বায়ুসেনা। আর তাই ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইস্টার্ন এয়ার কম্যান্ড বেছে নিয়েছে ছ’টি অসামরিক বিমানঘাঁটি।  এ রাজ্যের কলকাতা এবং অন্ডাল, অসমের গুয়াহাটি,  অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাট,  নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর এবং মণিপুরের ইম্ফল।

 শুনতে সহজ লাগলেও ততটা নয়। অসামরিক বিমান ওঠানামা আর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর পরিচালনা করা মোটেই এক জিনিস নয়। অসামরিক বিমানবন্দরের চরম ব্যস্ততার সময় শত্রুপক্ষ চকিতে আক্রমণ করলে তা সামাল দিতেও অভিজ্ঞতা লাগে। এই বিষয়গুলির উত্তর খুঁজতেই ১৬ অক্টোবর,  বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বায়ুসেনার মহড়া। লক্ষ্য, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অসামরিক বিমানঘাঁটিগুলিতে সামরিক বিমান ওড়ানোর সক্ষমতা গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন: রণথম্ভোরে দুই বাঘের তুমুল লড়াই, দেখুন ভিডিয়ো

মোদী জমানায় গণপিটুনি বাড়েনি, প্রয়োজন নেই নতুন আইন, দাবি অমিত শাহর

এই মহড়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে ব্যস্ত বিমানবন্দর থেকে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর ক্ষেত্রে অসামরিক বিমানকর্মীদের সঙ্গে সেনাকর্মীদের সমন্বয় সাধনে। যুদ্ধকালীন অবস্থায় যাতে অসামরিক বিমানকর্মীরাও সহজেই বায়ুসেনার অভিযানের অঙ্গ হয়ে উঠতে পারেন, মহড়ায় চলছে তারও প্রশিক্ষণ। দু-দফায় এই মহড়া পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৬-১৯ অক্টোবর এবং ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর দু-দফায় চলবে মহড়া। বায়ুসেনার অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান সুখোই থার্টি এমকেআই এবং প্রশিক্ষক বিমান হক ১৩২ এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে।

তবে কলকাতা থেকে যুদ্ধবিমান ওঠানামা এই প্রথম নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেড রোড থেকে নিয়মিত উড়ত মিত্রশক্তির যুদ্ধবিমান।