চলতি মাসেই মরাঠা ভূমে নির্বাচনী লড়াই। আর সে দিকে তাকিয়েই নির্বাচনী ইস্তাহারে চমক দেওয়ার চেষ্টা মহারাষ্ট্র বিজেপির। মহারাষ্ট্রে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরে এলে বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেবেন্দ্র ফডণবীসরা। আর তা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আগামী ২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে মহারাষ্ট্র বিজেপি। তাতে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে বিজেপি পুনর্নির্বাচিত হলে বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ছাড়াও জ্যোতিবা ফুলে ও সাবিত্রীবাই ফুলের মতো সমাজ সংস্কারককেও ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে নির্বাচনী ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, জাতিভেদের বিরুদ্ধে এবং নারী স্বাধীনতার পক্ষে দীর্ঘকাল ধরেই লড়াই চালিয়েছেন ওই মরাঠি দম্পতি। এ ছাড়াও, রাজ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান, ২০২২ সালের মধ্যে সকলের বাড়ি-সহ এক গুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মহারাষ্ট্র বিজেপি। ওই দিন নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা-সহ অনেকেই।

বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে ঐতিহাসিক বিতর্ক নতুন করে সামনে চলে এসেছে। কারাবন্দি থাকাকালীন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছিলেন সাভারকর। মহাত্মা গাঁধী হত্যাতেও জড়িয়েছিল তাঁর নাম। যদিও, উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে মুক্তি পান হিন্দু মহাসভার ওই সদস্য। আর এই সব বিতর্ককে হাতিয়ার করেই মহারাষ্ট্র বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারির কথায়, “মহাত্মা গাঁধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে সাভারকরকে ভারতরত্ন দিতে চায় বিজেপি। তা হলে একমাত্র ভগবানই এই দেশকে রক্ষা করতে পারেন।” এ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদকও। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “এমন দিন বেশি দূরে নেই, যখন বিজেপি গাঁধীজির হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকেও ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি তুলবে।”

আরও পড়ুন: ‘যথেষ্ট হয়েছে, আজ বিকেলে অযোধ্যা শুনানি শেষ হতেই হবে’, বললেন প্রধান বিচারপতি

আরও পড়ুন: ১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ নম্বরে, ক্ষুধা সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত