শিবসেনার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের প্রক্রিয়া কি এ বার শুরু করে দিল বিজেপি? বাল ঠাকরের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এমন জল্পনা উস্কে দিল বিজেপি। মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে ঝামেলার জেরে দীর্ঘ তিন দশকের জোটে ইতি টানার পর থেকে গত তিন সপ্তাহে দুই দলের কাউকেই এক সঙ্গে দেখা যায়নি। বাল ঠাকরেকে শ্রদ্ধা জানাতে কিন্তু সটান মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পৌঁছে যান বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডনবীস। তিনি ঢোকার কিছু ক্ষণ আগেই যদিও ছেলে আদিত্যকে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। তাই মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁদের। তবে উদ্ধবরা না থাকলেও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবসেনার একাধিক নেতা।

শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার আগে এ দিন টুইটারেও বাল ঠাকরেকে শ্রদ্ধা জানান ফডণবীস। তাতে তিনি লেখেন, ‘আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব বালাসাহেবই আমাদের বুঝিয়েছিলেন।’ তাঁর এই সেই মন্তব্যও যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ। কারণ এর আগে, এনসিপি-কংগ্রেস মিলে শিবসেনাকে বোকা বানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা নারায়ণ রানে। তাই বাল ঠাকরের কথা উল্লেখ করে বিজেপি আসলে শিবসেনাকে সতর্ক করতে চাইছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীও এ দিন টুইটারে বাল ঠাকরেকে শ্রদ্ধা জানান।

যদিও  এ সবে লাভ নেই বলে জানিয়েছেন শিবসেনার সচিন আহির। ফডণবীসের টুইট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আজ সম্মান দেখিয়েছেন বটে, কিন্তু এটা আগে কাজে করে দেখাতে পারতেন। আমরা অনেক দূর চলে এসেছি।’’

ফড়ণবীসের টুইট।

আরও পড়ুন: এনডিএ-র বৈঠক বয়কটের পর এ বার সংসদেও বিরোধীর আসনে শিবসেনা!

অন্য দিকে, এ দিন সকালে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বালাসাহেবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘‘বালাসাহেবের জন্য সবকিছু করতে পারি আমরা। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার প্রার্থীই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উদ্ধবজি। খুব শীঘ্রই তা হতে দেখবেন আপনারা।’’ তবে বিজেপির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক জোড়া লাগানো নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। উদ্ধব ঠাকরে ও তাঁর পরিবার এবং শিবসেনার নেতাদের পাশাপাশি এ দিন শিবাজি পার্কে বালাসাহেবকে শ্রদ্ধা জানাতে জান এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল এবং জয়ন্ত পাটিলও।

শিবাজি পার্কে ফড়ণবীস।

আরও পড়ুন: পারলেন না প্রেমাদাসা, শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘চিন-ঘনিষ্ঠ’ রাজাপক্ষ​

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে বিজেপি এবং শিবসেনার মধ্যে সমস্যার শুরু। শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রীর পদটি নিজেদের দখলে রাখতে চাওয়াতেই এর সূত্রপাত। বিজেপি তাদের দাবি না মানায়, তাদের সঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের জোট ভেঙে দিয়েছে শিবসেনা। ইস্তফা দিয়েছে মন্ত্রিসভা থেকে। এমনকি শীতকালীন বৈঠকের আগে রবিবার এনডিএ-র বৈঠকে বাজির না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।