একটা মাত্র ঘটনাই রাতারাতি বদলে দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক পটভূমি। তার পর দু’দশকেরও বেশি কেটে গিয়েছে। এ বার এসপি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের অনুরোধে ১৯৯৫-এর সেই গেস্টহাউস কাণ্ড পিছনে ফেলে এগনোর সিদ্ধান্ত নিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। সেই ঘটনায় এসপি নেতা মুলায়ম সিংহ যাদবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পুরনো তিক্ততা ভুলে এ বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়েছিলেন মায়াবতী, মুলায়ম-পুত্র অখিলেশ যাদবের তৎপরতাতেই যা সম্ভব হয়েছিল। নির্বাচনের পরে সেই জোট যদিও ভেঙে যায়, কিন্তু প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কুকথা বলা থেকে বিরত থেকেছিলেন ‘বুয়া-বাবুয়া’ দু’জনই।

সেই অখিলেশের অনুরোধ রাখতেই মায়াবতী এসপি কুলপতি মুলায়মের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন মায়াবতী। সেখানেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা সকলকে জানিয়ে দেন। সেই সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দেন যে, লোকসভা নির্বাচনের সময় অখিলেশই বাবার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তাঁকে। 

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব-ডিজির সঙ্গে বৈঠক প্রধান বিচারপতির, খোঁজ নিলেন অযোধ্যার নিরাপত্তার​

এ নিয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে বিএসপির জাতীয় সাধারণ সচিব সতীশচন্দ্র মিশ্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলা তুলে নিতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মায়াবতী আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাঁরা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র রাজেন্দ্র চৌধরি। তিনি বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে কিছু জানি না আমি। আগে খোঁজ নিয়ে দেখি, তার পর না হয় মন্তব্য করব।’’

তবে মুলায়ম সিংহ যাদবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিলেও, সমাজবাদী পার্টির বাকি নেতারাও অব্যাহতি পাবেন কি না, তা এথনও পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। বিএসপি-র রাজ্যসভা সাংসদ সতীশ মিশ্র-কেই মায়াবতী গোটা বিষয়টি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সঁপেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে, ১৯৯৫ সালের ২ জুন গেস্টহাউস কাণ্ড ঘটে, যা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে কালো দিন হিসাবে চিহ্নিত। সেইসময় মায়াবতী ও বিএসপির সমর্থনে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ছিল মুলায়ম সিংহ যাদবের এসপি। কিন্তু নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে আচমকাই মুলায়ম সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন মায়াবতী।

আরও পড়ুন: আমি না গেলে কে যাবে! করতারপুর হয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার ছাড়পত্রে উচ্ছ্বসিত সানি দেওল​

লখনউয়ের একটি জনসভায় এই ঘোষণা সেরে মীরাবাঈ মার্গে রাজ্য সরকারের একটি গেস্টহাউসে বিএসপি বিধায়কদের নিয়ে ওঠেন তিনি। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের উপর হামলা চালান সমাজবাদী পার্টির নেতারা। আতঙ্কে নিজেদের ঘরে বন্দি করে নেন বিএসপি নেতারা। তাতে পিছু হটার বদলে গেস্টহাউসে ভাঙচুর চালান এসপি নেতারা। সমস্ত বিএসপি বিধায়কদের একটি ঘরে এনে জড়ো করেন। একা মায়াবতীকে আর একটি ঘরে। সেখানে বিক্ষুব্ধ এসপি নেতারা মায়াবতীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ।

মুলায়ম সরকারেই থাকবেন, এসপি নেতাদের দিয়ে এমন মুচলেকা লেখানোর চেষ্টাও হয় বলে পরবর্তীকালে দাবি তোলে মায়াবতীর দল। সেই পরিস্থিতিতে থেকে মায়াবতীকে উদ্ধার করেন প্রয়াত বিজেপি বিধায়ক ব্রহ্মদত্ত দ্বিবেদীর। পরে রাজভবনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনার পরই এসপি-বিএসপি জোটে ইতি পড়ে। মুলায়ম সরকারকে হটিয়ে বিজেপির সমর্থনে রাজ্যে সরকার গড়েন মায়াবতী। মুলায়ম সিংহ যাদব-সহ হামলাকারী এসপি নেতাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

সেই থেকেই দুই দলের মধ্যে শত্রুতা বজায় ছিল, এ বছরের শুরুতে যাতে ইতি টানেন মুলায়ম পুত্র অখিলেশ যাদব। বাবার আপত্তি এড়িয়েই লোকসভা নির্বাচনে মায়াবতীর সঙ্গে জোট গড়েন তিনি। ১৯৯৫-এর ওই ঘটনায় অখিলেশের কোনও যোগ ছিল না, এই যুক্তিতে তাঁর হাত ধরেন মায়াবতীও। যদিও নির্বাচন মিটে যেতেই সেই জোটে ইতি টানেন। তার পরেও অখিলেশের অনুরোধ রাখলেন বিএসপি নেত্রী।