গুজরাতের বনসকণ্ঠা জেলার দান্তিওয়াড়া তালুকে ঠাকর সম্প্রদায়ের বাস। গত ১৪ জুলাই ওই এলাকার ঠাকর সম্প্রদায়ের বয়স্ক ব্যক্তিরা জেগোল গ্রামে বসেছিলেন আলোচনায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০০ জন। সেখানে তাঁরা অবিবাহিত মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার ও ভিন জাতের বিয়ে করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার পর নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে চাপিয়ে দিয়েছেন ফতোয়া। আর তার পরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে সমাজের বিভিন্ন মহলে।

ঠাকর সম্প্রদায়ের কর্তাব্যক্তিরা সে দিন আলোচনা করে ঠিক করলেন, ঠাকর সম্প্রদায়ের কোনও মেয়ে যদি অন্য সম্প্রদায়ের কোনও ছেলেকে বিয়ে করে তাহলে সেই ঘটনার দায় বর্তাবে মেয়েটির বাবা-মায়ের উপর। ওই কাজের জন্য মেয়েটির পরিবারকে ১.৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এই কাজ যদি ঠাকর সম্প্রদায়ের কোনও ছেলে করে তাহলে ছেলেটির পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই সভায়।

শুধু তাই নয়, অবিবাহিত মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার করা নিয়েও ঠাকর সম্প্রদায়ের নেতারা বেশ চিন্তিত। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তির দিকে মেয়েরা বেশি ঝুঁকে পড়লে তাঁদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে। তাই কলেজে যাওয়া অবিবাহিত মেয়েদের হাতেও মোবাইল দিতে বারণ করা হয়েছে অভিভাবকদের।

আরও পড়ুন: গণটুকলি! ৯৫৯ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে একই ভুল

এই সমস্ত সিদ্ধান্তের কথা ছড়িয়ে পড়তেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। এ ভাবে সভা ডেকে গ্রামের মোড়লরা কী ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। যদিও ঠাকর সম্প্রদায়ের এই সিদ্ধান্তে ভুল কিছু দেখছেন না সেখানকার কংগ্রেস বিধায়ক গানিবেন ঠাকর। এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে তিনি জানিয়েছেন, পড়াশোনায় মন দিতে মেয়েদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। 

আরও পড়ুন: জীবনের সঞ্চয় দেশের প্রতিরক্ষার জন্য দিলেন বায়ুসেনার এই প্রাক্তন কর্মী