সিবিআই আধিকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর মুখ খুললেন অলোক বর্মা। তাঁর দাবি, মিথ্যে, গুরুত্বহীন এবং প্রমাণ নেই এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিবিআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানকে বাইরের প্রভাবমু্ক্ত হয়ে কাজ করা উচিত, কিন্তু সেটা ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে, মত বর্মার।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মাত্র দু’দিন আগেসিবিআই ডিরেক্টরের পদ ফিরে পান অলোক বর্মা। কিন্তু তার দু’দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার রাতের সেই সিদ্ধান্তের পর রাতেই তাঁকে কার্যত গুরুত্বহীন পদে বদলি করে দেওয়া হয়। আর শুক্রবার বর্মা বলেন, “উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি সিবিআই-এর স্বতন্ত্রতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ফের দায়িত্ব নিতে বললে, আমি সেই চেষ্টাই করব।”

গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে অলোক বর্মার সঙ্গেই ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিবিআই-এর স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে। রাকেশের অভিযোগের ভিত্তিতেই মূলত ছুটিতে পাঠানো হয় অলোক বর্মাকে। এ নিয়ে বর্মার বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনওটা ভিত্তিহীন, কোনওটার তথ্যপ্রমাণ নেই, কোনওটা পুরোপুরি মিথ্যে। বর্মা বলেন, ‘‘এমন এক অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে সরানো হল, যিনি নিজেই অপরাধী।”

আরও পড়ুন: রাজ-শক্তি, সিবিআই ডিরেক্টরের পদ ফিরে পাওয়ার দু’দিনের মাথাতেই বিদায় বর্মার

আরও পড়ুন: জোট চূড়ান্ত? কাল লখনউতে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক মায়া-অখিলেশের

কিন্তু অলোক বর্মার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ তুলেছিলেন রাকেশ আস্থানা? গত ২৪ অগস্ট ক্যাবিনেট সচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মার বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ অভিযোগ লিখিত আকারে পেশ করেন আস্থানা। তাতে দুর্নীতি, তদন্তে হস্তক্ষেপ করা, ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তরফে সেই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে ৩১ অগস্ট সেই ফাইল সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনকে (সিভিসি)পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সিভিসি ১০ সেপ্টেম্বর আস্থানাকে ডেকে পাঠায়। ওই দিনই আস্থানা প্রচুর নথিপত্র-সহ তথ্যপ্রমাণ সিভিসির কাছে জমা দেন। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করে সিভিসি।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)