ছেলেবেলায় ইচ্ছে ছিল, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। সে সাধ মেটাতে না পারলেও তাঁর আর একটি স্বপ্নপূরণ হয়েছে। হাত তুলে নিয়েছেন হাতা-খুন্তি। শিখেছেন তেল-মশলায় রসানো রান্নার কসরত। গোলাবারুদের গন্ধ নয়, বরং ফরাসি কুইজিনের স্বাদে-গন্ধে এখন খাদ্যরসিকদের মাতাচ্ছেন প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায়। সোমবার তাঁকে ফরাসি সরকারের তরফে ‘অর্ডার অব দ্য এগ্রিকালচারাল মেরিট’ সম্মানে ভূষিত করা হল। বছর তিরিশের প্রিয়মই হলেন প্রথম ভারতীয়, যিনি এ সম্মান লাভ করলেন।

গত কাল নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রিয়মকে সম্মানিত করেন এ দেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রে জিয়েগলার। ভারতীয় রন্ধনশিল্পে তাঁর অবদানের জন্যই এ সম্মান, জানিয়েছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। এ সম্মান লাভের পর স্বাভাবিক ভাবেই আপ্লুত প্রিয়ম। তিনি বলেন, ‘‘কোনও কথায় বোঝানো যাবে না, কেমন বোধ করছি! মনে হচ্ছে যেন স্বপ্নের ঘোরে রয়েছি।’’

প্রিয়মের সঙ্গে গত কালের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তাঁর কাছের মানুষজন। তাঁদের সামনেই প্রিয়ম ফিরে গেলেন নিজের ছোটবেলায়। জানালেন, বাড়ির সকলেরই দারুণ রান্নার হাত ছিল। নিজের পরিবারের রন্ধনপটু বড়দের উৎসাহ ছিল শিল্প-সংস্কৃতির দিকেও। ফলে তা-ই যেন জারিত হয়েছে প্রিয়মের মধ্যে। শিল্পকলা থেকে সঙ্গীত, সবেতেই উৎসাহ তাঁর। তবে প্রিয়মের কথায়, ‘‘নিজেকে সবচেয়ে ভাল ভাবে মেলে ধরতে রন্ধন শিল্পের জুড়ি নেই।’’

আরও পড়ুন: ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ থেকে ঢালাও সমর্থন, মোদীর অ্যাডভেঞ্চার শো দেখে দু’ভাগ নেটিজেনরা

নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানিত করেন এ দেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রে জিয়েগলার। ছবি: সংগৃহীত।

ফরাসি কুইজিনের সঙ্গে তাঁর ভালবাসা গড়ে উঠেছিল হায়দরাবাদে পার্ক হায়াতে কাজ করার সময়। সেখানকার ফরাসি শেফ জাঁ ক্লদের কাছ থেকেই ফরাসি রান্নার প্রতি আগ্রহ তুঙ্গে ওঠে। জাঁ ক্লদই তাঁকে ফরাসি কুইজিনের খুঁটিনাটি শেখান। সে সময় থেকেই সে দেশের প্রতি আগ্রহের জন্ম।

আরও পড়ুন: জনপ্রিয়তায় দীপিকা-প্রিয়ঙ্কা-অক্ষয়দেরও লজ্জা দেবে এই টিকটক স্টাররা!

এই মুহূর্তে ফ্রান্সের একটি রেস্তরাঁর প্রধান শেফ প্রিয়ম। এর আগে মেহরৌলি,  দিল্লিতে এবং ওমানে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন নামজাদা মিশেলিন শেফদের সঙ্গেও।

ফ্রান্সের এই সম্মান লাভের পর প্রিয়মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? প্রিয়ম জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই প্যারিসে পাকাপাকি পাড়ি দিতে চান। যদিও অন্য শেফদের মতো ফরাসি রান্নার সঙ্গে ভারতীয় খাবারের মেলবন্ধন নয়, বরং তার বিশুদ্ধতা বজায় রাখাতেই আগ্রহী প্রিয়ম। সেই সঙ্গে তাঁর ইচ্ছে, ‘‘ফরাসি পদ্ধতিতে খাঁটি ভারতীয় খাবার রান্না করা।’’