গতকাল শুরু করিয়েছিলেন রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালাকে দিয়ে। আর আজ শুক্রবার ‘পুলওয়ামার পরও তথ্যচিত্রের শুটিং’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আরও তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করলেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস সভাপতির কটাক্ষ, ‘ফোটোশুট সরকার’ এবং তার প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাইম টাইম মিনিস্টার’। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গতকালই পুলওয়ামা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ এনেছিল বিজেপি। আর শুক্রবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও দুই কৌশল­ প্রধানমন্ত্রী যে পুলওয়ামার পর থেকেই প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন ছিলেন, সেটা বোঝানোর চেষ্টা এবং রাহুলের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে নিয়ে আসা।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার খবর পাওয়ার পরও উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে দীর্ঘক্ষণ একটি তথ্যচিত্রের শুটিং করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা। তার কিছুক্ষণ পরই বিজেপির পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ অস্বীকার না করেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনীতির অভিযোগে সরব হন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।

এর পর আজ শুক্রবার ফের সেই ইস্যুতেই সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধলেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস সভাপতির টুইট, ‘‘পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় ৪০ জওয়ানের মৃত্যুর পরও প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ‘প্রাইম টাইম মিনিস্টার’ শুটিং করছিলেন। নিহত জওয়ানদের পরিবার এবং গোটা দেশবাসী শোকসাগরে ডুবে ছিল, আর উনি হাসি হাসি মুখে লেকের ধারে ফোটোশুট করছিলেন।'' রাহুল ওই পোস্টে হ্যাশট্যাগ দেন ‘ফোটোশুট সরকার’।

আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কতটা জানেন? 

সুরজেওয়ালার পাল্টা বিজেপির জবাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুলওয়ামার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে রাজনীতি করা, পাকিস্তানের নেতাদের মতো কথা বলা, সেনার মনোবল ভাঙার চেষ্টার মতো তোপ দেগেছিলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। শুক্রবার অবশ্য সেই পথে না হেঁটে বরং আত্মরক্ষার পথেই এগিয়েছে বিজেপি। রাহুলের পাল্টা হিসেবে টুইটারেই নেমে পড়েন বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পুলওয়ামার পর প্রধানমন্ত্রীর শুটিং ইস্যু কংগ্রেসের তৈরি করা।রাহুল বা তাঁর অনুগামীরা কি জানেন, হামলার পর থেকে প্রতি মিনিটের খবর নিচ্ছিলেন। ওখানে বসেই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কনফারেন্স করে গিয়েছেন পর পর।’’ এর পাশাপাশি রাহুলের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন মীনাক্ষী। একটি সংবাদপত্রে ছবি-সহ একটি রিপোর্টের ছবি আপলোড করে তাঁর দাবি, ২০০৮ সালে ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময় রাহুলও পার্টি মুডে ছিলেন।

আরও পডু়ন: ‘বন্ধ করে দেব তিন নদীর জল’, ঘোষণা গডকড়ীর, পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াল ভারত

শুধু রাজনৈতিক নয়, সরকারি ভাবেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টা হয়েছে সরকারি তরফেও। সরকারি সূত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি সিআরপিএফ কনভয়ে হামলার হামলার দিন দুপুরের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির খুঁটিনাটি দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, ঘটনার প্রায় ২৫ মিনিট পর প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। খারাপ নেটওয়ার্কের কারণেই প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া যায়নি। ওই দিন সকালে দেহরাদূনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। খারাপ আবহাওয়ার জন্য সেখানেই তাঁকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত বেলা ১১.১৫ নাগাদ জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ছিলেন। তার মধ্যে একটি টাইগার সাফারি, ইকো টুরিজম সেন্টার এবং প্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রের সূচনা করেন। তার পর মোটর বোট রাইড করেন।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসে মদত দিলে আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ হতে পারে পাকিস্তানের

কিন্তু সরকারি সূত্রের সফরসূচিতে শুটিংয়ের কথা উল্লেখই করা হয়নি। আবার শুটিং করেননি, এমন কথাও বলা হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী যে শুটিং করেছেন,তার ছবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রী যে পুলওয়ামা উদাসীন ছিলেন না, সেটাও প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। ওই সরকারি সূত্রের দাবি, পুওয়ামায় জঙ্গি হানার খবর পেয়েই প্রধানমন্ত্রী একটি জনসভা বাতিল করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জম্মু-কাশ্মীরের গভর্নর সত্য পাল মালিকের সঙ্গে ক্রমাগত কথা বলেছেন এবং ঘটনার ‘আপডেট’ নিয়েছেন। সুরজেওয়ালার আভিযোগ ছিল, শুটিং ও চ্যানেলের লোকজনের সঙ্গে রামনগরের সরকারি অতিথিশালায় চা-পকোড়ার আড্ডায় মেতেছিলেন মোদী। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওই সূত্রের দাবি, হামলার খবর পাওয়ার পর থেকে ওই দিন আর কিছুই খাননি প্রধানমন্ত্রী।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা নিয়ে রাজনীতি করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী। শাসক দলের পক্ষ থেকেও রাজনীতি না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুরু করেন অমিত শাহ। বুধবার তিনি বলেন, পুলওয়ামা হামলার জঙ্গিরা শাস্তি পাবেই, কারণ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার, কংগ্রেস নয়। পরের দিনই কার্যত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যত ‘নিরোসুলভ’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয় কংগ্রেস। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, সুরজেওয়ালার সাংবাদিক বৈঠকের পর থেকেই বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি। এ দিন রাহুলের খোঁচায় সেই অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আর সেটা ঢাকতেই বিজেপি এখন চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না।