লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে গোটা দেশে প্রায় ৪০০টি আসনে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছেন রাহুল গাঁধী। এ নিয়ে আজ মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা শরদ পওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বিহার নিয়ে লালু-পুত্র তেজস্বী যাদব এবং উত্তরপ্রদেশে এসপি-র অখিলেশ যাদবের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। অখিলেশ আবার কথা বলেছেন মায়াবতীর সঙ্গে।

রাজ্যওয়াড়ি বোঝাপড়ার বিষয়টি দ্রুত সারতে চাইছেন রাহুল। কংগ্রেস সভাপতির সিদ্ধান্ত, লোকসভা নির্বাচনের আগে কোনও পৃথক ফ্রন্ট ঘোষণা করা হবে না, বরং রাজ্যওয়াড়ি বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী দলের সঙ্গে প্রাক্ নির্বাচনী আসন সমঝোতা হোক।

আসন সমঝোতার বিষয়ে সীতারাম ইয়েচুরি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশের মতো বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন শরদ পওয়ারও। প্রবীণ এনসিপি নেতা কথা বলেছেন অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নায়ডু, তেলঙ্গানার চন্দ্রশেখর রাও, কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লার সঙ্গেও।

আরও পড়ুন: মডেল থেকে ধর্মগুরু, আত্মঘাতী ভাইয়ুজি

উত্তরপ্রদেশ (৮০), মহারাষ্ট্র (৪৮), বিহার (৪০)— এই তিন রাজ্যে সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ১৬৮। উত্তরপ্রদেশের পর সবচেয়ে বেশি আসন মহারাষ্ট্রেই। সে রাজ্যে শিবসেনা ছাড়া অন্য ছোট দলগুলির সঙ্গেও বোঝাপড়া চাইছে কংগ্রেস-এনসিপি জোট। এসপি, আরপিআই (কওয়াড়ে ও গাভাই গোষ্ঠী) এবং স্বভিমানী শ্বেতকারী সংগঠনকেও জোটে টানার চেষ্টা হচ্ছে। কথা চলছে বহুজন বিকাশ আগহাড়ি, পিজ়েন্টস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গেও।

মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে শিবসেনাকে কংগ্রেস-এনসিপি জোটে চাইছেন পওয়ার। শিবসেনাকে বেশি আসন দিতে বিজেপি রাজি নয় কিন্তু এনসিপি কৌশলগত কারণে তাতে রাজি। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য ভোটের আগে মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতার সম্ভাবনা কম।

উত্তরপ্রদেশে ৮০টি আসনের মধ্যে ৪০টি চাইছেন মায়াবতী। কৈরানা উপনির্বাচনের পরে তিনি বেশি আসন দাবি করছেন। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসও ২০টি আসন চায়। এখানে সমঝোতার অঙ্ক জটিল। তবে মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ় বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন মায়াবতী। পঞ্জাবেও তাঁকে আসন ছাড়বে কংগ্রেস। কংগ্রেসের আশা, অন্য রাজ্যের প্রাপ্তির নিরিখে উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী কিছুটা নরম হবেন। কংগ্রেস চাইছে, লোকসভার কিছু আসন ছেড়ে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বেশি আসন নিন মায়াবতী। কিন্তু অখিলেশও আবার বিধানসভায় বেশি আসন চান।

পওয়ারের সঙ্গে রাতে বৈঠকের পরে রাহুল বলেন, ‘‘আমরা মোদীর অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজ্যে রাজ্যে সমস্ত বিরোধী দলের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়তে চাই।’’