বন্যা কবলিত ওয়েনাডের জন্য কেন্দ্রের ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ চাইলেন রাহুল গাঁধী। গত কালই বন্যা পরিস্থিতি দেখতে তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ওয়েনাডে পৌঁছেছেন কংগ্রেসের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি। বন্যায় কেরলে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই জেলাটিই। সেখানে দাঁড়িয়ে আজ রাহুল বলেছেন, ‘‘এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। এটা বিপর্যয়। তাই কারও কাঁধে দোষ চাপাচ্ছি না। গোটা ওয়েনাড একযোগে কাজ করছে।’’

গত তিন দিনে কেরলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৩ জন। টুইটারে রাহুলের আবেদন, ‘‘আমাদের জলের বোতল, কম্বল, পোশাক, অন্তর্বাস, শিশুদের পোশাক, সাবান, ব্রাশ, ডেটল, ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিনের মতো সামগ্রী খুব দ্রুত প্রয়োজন। সকলের কাছে তাই ত্রাণ পাঠানোর আবেদন জানাচ্ছি।’’ ওয়েনাডের সাংসদ জানিয়েছেন, সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন।  এরই মধ্যে কেরলের এর্নাকুলামে এক পোশাক ব্যবসায়ীর ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। বন্যা কবলিতদের জন্য তাঁর দোকানের সব পোশাক পাঠিয়ে দিয়েছেন এম নওশাদ নামে ওই ব্যবসায়ী। 

কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাত— বন্যা কবলিত এই চার রাজ্যে সোমবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩। গুজরাতের কচ্ছ জেলায় বন্যায় আটকে পড়া ১২৫ জনকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। ধস ও বৃষ্টিতে ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে। কর্নাটকের বগলাকোট জেলার আইহোল ও পাত্তাডাকালে ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইটের তকমা পাওয়া দু’টি মন্দির জলে ডুবে গিয়েছে। গত ছ’দিন ধরে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের কাছে বন্ধ ছিল মুম্বই-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়ক। বন্যায় জল নেমে যাওয়ায় আজ সেই রাস্তা আংশিক ভাবে খুলেছে।

বিপদের মধ্যে আশার কথা শুনিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। তাঁর আশ্বাস, গত দু’দিন বৃষ্টি খানিকটা কমেছে। ফলে আগামী চার থেকে ছ’দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। কেন্দ্রের থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা অনুদান আদায়ের জন্য ১৬ অগস্ট দিল্লি যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইয়েদুরাপ্পার কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এসে পরিস্থিতি দেখে গিয়েছেন। সব ক’টি জেলা মিলিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অবিলম্বে কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার সাহায্য প্রয়োজন।’’