প্রয়োজনে রোজ এক ঘণ্টা বেশি সময় ধরে শুনানি হবে। দরকারে ছুটির দিন শনিবারেও বসবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে রঞ্জন গগৈ অবসর নেবেন ১৭ নভেম্বর। যে করেই হোক, তার এক মাস আগেই, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ জমি মামলার শুনানি শেষ করে ফেলার লক্ষ্য স্থির করলেন প্রধান বিচারপতি। যা থেকে স্পষ্ট, অবসর নেওয়ার আগেই প্রধান বিচারপতি গগৈ অযোধ্যা মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। ১৮ অক্টোবর শুনানি শেষ হলেও সাংবিধানিক বেঞ্চের হাতে রায় লেখার জন্য এক মাস সময় থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের পরে বিজেপি আশা করছে, দীপাবলির মরসুমেই রামমন্দিরের পক্ষে ফয়সালা আসতে চলেছে। কিন্তু বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় কারা দোষী, সেই মামলার শুনানি এখনও শেষ হয়নি। লখনউয়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে মামলা চলছে। অযোধ্যা জমি মামলার রায়ের আগে বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা হবে, এমন সম্ভাবনা কম। কারণ সুপ্রিম কোর্টই লখনউয়ের আদালতকে রায় ঘোষণার জন্য আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়ে রেখেছে।

শীর্ষ আদালতে হিন্দু শিবির দাবি তুলেছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে মসজিদের কাঠামোর আগে রামমন্দির ছিল। ওই জমিই রামের জন্মস্থান। প্রশ্ন উঠেছে, সুপ্রিম কোর্ট যদি সেই যুক্তি মেনে নিয়ে রায় দেয়, তা হলে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে অভিযুক্তরা কী ছাড় পেয়ে যাবেন? সুপ্রিম কোর্টের আজকের ঘোষণার পরে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ‘‘মন্দির তৈরির জন্য যে ট্রাস্টের কাছে জমি যাবে বা সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। কোনও বিষয়ে বিবাদ হলেই তা আদালতে পৌঁছয়। আদালতের রায় যা-ই হোক, তা সবাইকে স্বীকার করতে হয়।’’

লোকসভা ভোটে বিজেপি একাই তিনশো পার করে ফেলার পরেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত নরেন্দ্র মোদীকে শুনিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘রামের কাজ করতে হবে।’’ আজ দিল্লিতে বিজেপি মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন বলেন, ‘‘গোটা দেশ অপেক্ষা করছে, রামমন্দিরের বিষয়ে ফয়সালা হোক। অযোধ্যায় এখন তাঁবুর মধ্যে রামের মন্দির রয়েছে। সেখানে দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করতে হবে। রামজি কত দিন আর তাঁবুতে থাকবেন?’’

তা শুনে এমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির প্রশ্ন, বিজেপি নেতারা কী ভাবে জানলেন যে রায় তাঁদের পক্ষেই যাবে? তাঁর মন্তব্য, ‘‘ফয়সালা তো সুপ্রিম কোর্ট করবে, বিজেপি নেতারা নন।’’ অমিত শাহর জবাব, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট কারও ইচ্ছেয় চলে না। বোধহয় এই রায় আগেই চলে আসত যদি না কপিল সিব্বল ও কংগ্রেস আদালতে বলত, ভোটের আগে রায় হওয়া উচিত নয়। এখন ভোট মিটে গিয়েছে। শীর্ষ আদালতে শুনানি চলছে। এ বার রামমন্দিরের রায়ও চলে আসবে।’’ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সব পক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কার সওয়াল করতে কতদিন সময় লাগবে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আজ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সবাই মিলে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে শুনানি শেষের চেষ্টা করা যাক। প্রয়োজন হলে আমরা শনিবারেও বসতে রাজি। সপ্তাহের দিনেও কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় বসা যাবে।’’

মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেই শুনানি শুরু হয়েছিল। ২৬ দিন শুনানি হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ফের মধ্যস্থতায় বসতে চেয়েছে। আজ প্রধান বিচারপতি জানান, মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সমান্তরাল ভাবে চলুক। কিন্তু তা গোপন থাকবে।