এখনও সরু সুতোয় ঝুলে রয়েছে ‘চন্দ্রযান-২’-এর ভাগ্য! একটু এ দিক ও দিক হয়ে গেলেই জলে যাবে ১ হাজার কোটি টাকা।

বেঙ্গালুরুতে ইসরোর চন্দ্রযান-২-এর মিশন কন্ট্রোল রুমে তাই এখন রীতিমতো দাঁতে দাঁত চেপে উৎকণ্ঠায় দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টার প্রত্যেকটি সেকেন্ড কাটাচ্ছেন প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীরা। বলা ভাল, উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছেন মিশন কন্ট্রোল রুমের সদস্যরা।

উত্তেজনায় ঘুম আসছে না মিশন কন্ট্রোলের সদস্যদের!

হিসাবে একটু ভুলচুক হয়ে গেলেই চন্দ্রযান-২-এর আর চাঁদে নামা হবে না! চাঁদের পাশ কাটিয়ে ভারতের মহাকাশযান চলে যেতেই পারে সৌরমণ্ডলের অন্য কোনও দিকে। কোনও অজানা, অচেনা গন্তব্যে। চাঁদ সে ক্ষেত্রে অধরাই থেকে যেতে পারে ভারতের! আশঙ্কাটা যথেষ্টই জোরালো এখনও পর্যন্ত। সঠিক ভাবে দিনক্ষণ গুণে বলতে হলে, ২০ অগস্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই।

‘‘এক শিফ্‌ট থেকে অন্য শিফ্‌ট বা তার পরের শিফ্‌ট বা তার পরের...। দায়িত্ব বদলে যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কাজ সেরে গভীর রাতে বাড়ি ফিরেও তীব্র উৎকণ্ঠায় আর চোখের পাতাদু’টো এক হচ্ছে না’’, টেলিফোনে বললেন ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমের এক বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ। তাঁর কথায়, ‘‘বলতে পারেন, সামনের ২৪/২৫ দিন আমাদের নাওয়া-খাওয়া এক রকম বন্ধই! অগস্টের ২০ তারিখ পর্যন্ত। তার পর চাঁদের কক্ষপথে চন্দ্রযান-২ ঢুকে পড়লে একটুনিশ্চিন্ত হতে পারব। তার পর আবার শুরু হবে টেনশন। সেপ্টেম্বরের ৩/৪ তারিখ থেকে। ৬ সেপ্টেম্বরই যে চাঁদে আলতো ভাবে পা ছোঁয়ানোর (সফ্‌ট ল্যান্ডিং) কথা ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর।

কেন ২০ অগস্ট পর্যন্ত আশঙ্কা এতটা জোরালো?

এই প্রশ্ন নিয়ে ইসরো তো বটেই, ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’-তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ বা ‘ইসা’)-র মতো বিশ্বের বড় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলির বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে। কথা বলা হয়েছে ভারতীয় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গেও।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর যে অংশে নামার জন্য রওনা দিয়েছে চন্দ্রযান-২

বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের একটি বড় অংশেরই বক্তব্য, চাঁদের কক্ষপথে যত ক্ষণ না ঢুকে পড়তে পারছে চন্দ্রযান-২, তত ক্ষণ বা তত দিন ‘কী হয় কী হয়’ আশঙ্কাটা থেকেই যাবে ইসরোর। তার থেকে রেহাই পাওয়ার কোনও উপায় নেই। সেটা চলবে ২০ অগস্ট পর্যন্ত।লুনার ট্রান্সফার অরবিটে চন্দ্রযান-২ ঢুকে পড়ার (যা হওয়ার কথা ১৪ অগস্ট) ৫/৬ দিন পরেও।

তাঁদের এও বক্তব্য, এই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ইসরো কমাতে পারত যদি ক্ষমতা আরও বাড়াতে পারত ‘জিএসএলভি-মার্ক-৩’ রকেটের। নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির এক বিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘আমরা ১৯৬৯ সালেই যে ‘স্যাটার্ন-ফাইভ’ রকেটে চাপিয়ে পাঠিয়েছিলাম অ্যাপোলো-১১ মিশন, তা উৎক্ষেপণের পর চাঁদের বুকে নামতে সময় নিয়েছিল মাত্র চার দিন বা তার সামান্য বেশি। চিনও গত বছর চাঁদের না-দেখা পিঠে ল্যান্ডার ও রোভার পাঠিয়েছে উৎক্ষেপণের পর মাত্র পাঁচ দিনে। ইসরোর লাগছে ৪২ দিন। ইসরোর ল্যান্ডারের চাঁদে নামার কথা আগামী ৬ অক্টোবর। তাই এই উদ্বেগটা আমাদের অনেকটাই কম ছিল। কম ছিল চিনেরও।’’

এখনও পর্যন্ত যা হিসাব, তা যদি ঠিক ভাবে এগয়, চন্দ্রযান-২ তা হলে সোজা চাঁদে যাওয়ার রাস্তায় (লুনার ট্রান্সফার অরবিট) ঢুকবে আগামী ১৪ অগস্ট। মানে, আজ থেকে ১৯ দিনের মাথায়। সেটা চাঁদের বৃত্তাকার কক্ষপথ। কিন্তু সেই কক্ষপথের ব্যাসার্ধটা অনেক বড়। যার অর্থ, চাঁদ থেকে তখন অনেকটাই দূরে থাকবে চন্দ্রযান-২। তার পর ২০ অগস্ট, ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযান ঢুকে পড়বে চাঁদের কাছের কক্ষপথে। পড়ে যাবে পুরোপুরি চাঁদের অভিকর্ষ বলের খপ্পরে। যখন চাঁদকে এড়িয়ে সৌরমণ্ডলের আর কোথাও যাওয়া সম্ভব নয় চন্দ্রযান-২-এর। সেইখানেই বিগড়ে বা পুরোপুরি বিকল হয়ে গেলে চাঁদের কক্ষপথেই অনন্ত কাল ধরে ঘুরতে হবে ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযানকে।

যে ভাবে চাঁদে যাচ্ছে চন্দ্রযান-২: দেখুন ভিডিয়ো

আগামী ২৫/২৬ দিন মহাকাশে কখন কোথায় থাকবে চন্দ্রযান-২?

এ ব্যাপারে ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে এই প্রতিবেদক একটি নির্ধারিত সূচি পেয়েছেন। সেই সূচির গভীরে ঢোকার আগে একটু আলোচনা করে নেওয়ার প্রয়োজন, পৃথিবী থেকে রওনা হওয়ার পর ঠিক কোন ‘রুট’ ধরে, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে কী ধরনের কক্ষপথে ঘুরছে চন্দ্রযান-২।

ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম সূত্রের খবর, গত ২২ জুলাই, দুপুর ২টো ৪৩ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণের ১৬ মিনিটের মধ্যেই (দুপুর ২টো ৫৭ মিনিট নাগাদ বা তার কিছু পরে) চন্দ্রযান-২কে পিঠে চাপিয়ে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘জিএসএলভি-মার্ক-৩’ পৌঁছে যায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭০ কিলেমিটার উপরে। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে।

আরও পড়ুন- ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিরহস্যের জট খুলতে আরও রোমাঞ্চকর অভিযানের পথে ইসরো

আরও পড়ুন- চাঁদে এখন না নামলে পরে খুবই পস্তাতে হত ভারতকে!​

আর সেই দিন থেকেই ইসরো বিজ্ঞানীদের চেষ্টা শুরু হয়ে যায় রিমোট কন্ট্রোলে ঠেলেঠুলে চন্দ্রযান-২কে আরও দূরের কোনও উপবৃত্তাকার কক্ষপথে (ইলিপটিকাল অরবিট) ঢোকানোর। সেই কক্ষপথ থাকলেও পৃথিবীকেই প্রদক্ষিণ করতে হবে মহাকাশযানকে। কিন্তু গতি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব হবে চন্দ্রযান-২-এর। তাতে চন্দ্রযান-২কে আরও তাডা়তাড়ি এগিয়ে দেওয়া যাবে চাঁদের দিকে।

কোনও বৃত্তের থাকে একটি কেন্দ্রীয় বিন্দু। কিন্তু কোনও উপবৃত্তের থাকে দু’টি কেন্দ্রীয় বিন্দু। ফলে, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণের সময় কোনও বৃত্তাকার কক্ষপথে থাকলে মহাকাশযান সব সময়ই আমাদের গ্রহটি থেকে থাকে একই দূরত্বে। সেই বৃত্তাকার কক্ষপথের প্রতিটি বিন্দুতেই মহাকাশযানটির উপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের পরিমাণও থাকে একই রকম। অভিন্ন।

কেন ঠেলেঠুলে চন্দ্রযান-২কে পাঠানো হচ্ছে উত্তরোত্তর দূরের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে?

নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির ‘ইউরোপা’ মিশনের টিম লিডার গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘তাতে মুশকিলটা হল, মহাকাশযানকে চাঁদের দিকে এগিয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, চাঁদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে মহাকাশযানের উপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের পরিমাণ কমাতে হবে। তার জন্য পৃথিবী থেকে সেই মহাকাশযানের দূরত্ব ও গতি- দু’টোই বাড়াতে হবে উল্লেখযোগ্য ভাবে।’’

চন্দ্রযান-২-এর নকশা

কলকাতার ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের (আইসিএসপি) অধিকর্তা সন্দীপ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, সেটার জন্যই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণের সময় চন্দ্রযান-২কে ঠেলেঠুলে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করতে হয় বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদদের। যে কাজটা গত ২২ জুলাই থেকেই শুরু করে দিয়েছেন ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমের প্রযুক্তিবিদরা। উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় কোনও মহাকাশযান এক বার চলে আসে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে। আর এক বার চলে যায় পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে।

২২ জুলাই থেকে চন্দ্রযান-২-এর মহাকাশ পরিক্রমা

তাই গত ২২ জুলাই উৎক্ষেপণের পর চন্দ্রযান-২ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে ছিল, তখন ভূপৃষ্ঠ থেকে তা ছিল ১৭০ কিলোমিটার দূরে। আর ওই দিন যখন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ছিল ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযান, তখন সেটি ছিল ৪৫ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার দূরে। ইসরো সূত্রেই এ কথা জানা গিয়েছে।

পৃথিবীর মায়ার টান যে বার বার টানছে চন্দ্রযান-২কে!

কিন্তু পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টান যে বার বারই কাছে টেনে আনার চেষ্টা করছে চন্দ্রযান-২কে। তাকে চাঁদের কাছে যেতে দিতে চাইছে না! ফলে, বার বার ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে কম্যান্ড পাঠিয়ে চন্দ্রযান-২কে ঠেলেঠুলে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে পৃথিবী থেকে আরও দূরের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে।

তাই ইসরো জানাচ্ছে,  গত ২৪ জুলাই দুপুর ২টো থেকে বিকেল সাড়ে তিনটের মধ্যে চন্দ্রযান-২কে কম্যান্ড পাঠিয়ে ঠেলেঠুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, সেখানে চন্দ্রযান-২ ছিল পৃথিবী থেকে সর্বাধিক ৪৫ হাজার ১৬২ কিলোমিটার দূরত্বে। ওই দিন আমাদের সবচেয়ে কাছে যখন এসেছিল চন্দ্রযান-২, তখন তার দূরত্ব ছিল ২৪১.৫ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন- ৩০ বছরের মধ্যেই চাঁদে বড় শিল্পাঞ্চল গড়ে ফেলবে মানুষ!​

আরও পড়ুন- চার বছরের মধ্যেই চাঁদের পাড়ায় ‘বাড়ি’ বানাচ্ছে নাসা!​

তার পর আজ, শুক্রবার (২৬ জুলাই) চন্দ্রযান-২কে ঠেলেঠুলে পাঠানো হয়েছে (রাত ১টা থেকে ২টো) নতুন একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। যেখানে মহাকাশযানটি থাকবে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক ৫৪ হাজার ৮৪৮ কিলোমিটার দূরত্বে। সবচেয়ে কাছে এলে থাকবে ২৬২.৯ কিলোমিটার দূরে।

আগামী ২৯ জুলাই, সোমবার চন্দ্রযান-২কে পাঠানো হবে (দুপুর ৩টে থেকে বিকেল ৪টে) আর একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। সেখানে পৌঁছলে চন্দ্রযান-২ পৃথিবী থেকে থাকবে সর্বাধিক ৭১ হাজার ৩৪১ কিলোমিটার দূরে। সবচেয়ে কাছে থাকলে সেই দূরত্বটা হবে ২৮১.৬ কিলোমিটার।

আগামী ২ অগস্ট চন্দ্রযান-২ যাবে নতুন আর একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে (দুপুর ২টে থেকে দুপুর ৩টে)। সেখানে পৌঁছলে চন্দ্রযান-২ পৃথিবী থেকে থাকবে সর্বাধিক ৮৯ হাজার ৭৪৩ কিলোমিটার দূরে। সবচেয়ে কাছে থাকলে সেই দূরত্বটা হবে ২৬২.১ কিলোমিটার।

উৎক্ষেপণের পর জিএসএলভি-মার্ক-৩ রকেটের অনবোর্ড ক্যামেরার পাঠানো ছবি। দেখুন ভিডিয়ো

আর আগামী ৬ অগস্ট চন্দ্রযান-২ যাবে নতুন আর একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। সেখানে পৌঁছলে চন্দ্রযান-২ পৃথিবী থেকে থাকবে সর্বাধিক ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৫৩ কিলোমিটার দূরে। সবচেয়ে কাছে থাকলে সেই দূরত্বটা হবে ২৩৩.২ কিলোমিটার।

এর থেক়েই স্পষ্ট পরের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ছে চন্দ্রযান-২-এর। আর তা তত বেশি করে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁদের দিকে।

সোজা চাঁদে যাওয়ার রাস্তায় পা ১৪ অগস্টে

ওই দিন রাত ৩টে থেকে ভোর ৪টের মধ্যে চন্দ্রযান-২ ঢুকে পড়বে সোজা চাঁদের যাওয়ার রাস্তায়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, লুনার ট্রান্সফার অরবিট। যখন পৃথিবীর অভিকর্ষ বল আর চন্দ্রযান-২-এর উপর কার্যকরী হবে না। ওই সময় চন্দ্রযান-২ পৃথিবী থেকে থাকবে সর্বাধিক ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৫০৫ কিলোমিটার দূরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৭৮.৪ কিলোমিটার উপরে।

এল-ওয়ান পয়েন্টে না পৌঁছনো পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটবে না ইসরোর

সন্দীপ জানাচ্ছেন, চাঁদ পৃথিবী থেকে রয়েছে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূরে। কিন্তু চাঁদ আর পৃথিবীর মাঝে এমন একটি বিন্দু রয়েছে, যেখানে চাঁদ ও পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের পরিমাণটা হয় সমান সমান। ওই বিন্দুটিকে বলা হয়, ‘ল্যাগরাঞ্জ-ওয়ান (এল-ওয়ান) পয়েন্ট’। সেই বিন্দুতে যখন পৌঁছবে চন্দ্রযান-২, আর তখন যদি চাঁদ পৃথিবী থেকে থাকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে, সেই সময়টিই হবে চাঁদের কাছের কক্ষপথে ঢুকে পড়ার জন্য চন্দ্রযান-২-এর পক্ষে সেরা সময়। কারণ, ওই সময় চন্দ্রযান-২-এর উপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বল হবে সবচেয়ে কম। আবার চাঁদের অভিকর্ষ বলও ততটা বেশি হবে না, যা চন্দ্রযান-২কে আছড়ে ফেলতে পারে চাঁদের বুকে। এই সময়গুলি একে অন্যের সঙ্গে না মিললেই যে কোনও সময় ঘটতে পারে বিপত্তি।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

ছবি সৌজন্যে: ইসরো ও নাসা

ভিডিয়ো সৌজন্যে: ইসরো