দোলের দিন রয়েছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। ভারত থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না। তবে এ দেশের মানুষ পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন না। কম সময়ের জন্য হলেও ওই চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন এ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষজন।
রাজ্যের কোথা থেকে কখন দেখা যাবে?
কলকাতায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে চন্দ্রোদয় হবে। সেই সময় থেকেই দেখা যাবে গ্রহণ। কারণ, এ দেশের বেশির ভাগ জায়গায় চন্দ্রোদয়ের আগেই শুরু হয়ে যাবে গ্রহণ। কলকাতার আকাশে এক ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে গ্রহণ। তা চলবে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে গ্রহণ। চলবে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যাবে গ্রহণ।
চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে।
সূর্যগ্রহণ যেমন খালি চোখে দেখা যায় না, চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও সমস্যা নেই। রাতে আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যায়। চন্দ্রগ্রহণ চলে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। তবে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে তা দেখা যাবে না। আমেরিকার পশ্চিমের স্টেটগুলিতে সেই গ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ ভোর ৪টে ৪ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত (আমেরিকার সময়)।
আরও পড়ুন:
ভারতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ বিকেল ৪টে ৫৮ মিনিট থেকে (ভারতীয় সময়)। দেশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে। খণ্ডগ্রাস দেখা যাবে রাত ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। পূর্ণগ্রাস যখন চলবে, তখন ভারতের অনেক জায়গাতেই সন্ধ্যা নামবে না। সে ক্ষেত্রে ওই সব জায়গা থেকে পূর্ণগ্রাস না-ও দেখা যেতে পারে।
কেন পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের রং লাল হয়?
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে (তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়), তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনও কালো দেখায় না।