সোনার চেয়ার থেকে গণেশের সহস্রাধিক মূর্তি! রইল ৪৩ বছর আগে কেনা ‘ডিস্কো কিং’-এর অন্দরমহলের ছবি
সদর দরজার পাশে নামফলকে লেখা ‘লাহিড়ী হাউজ়’। ধবধবে সাদা রঙের বাড়িটি ৪৩ বছর আগে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কিনেছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। বর্তমানে লাহিড়ী পরিবারের বাসস্থান সেই ‘লাহিড়ী হাউজ়’।
সঙ্গীতজগতের ‘ডিস্কো কিং’। চোখে কালো চশমা, গলায় রাশি রাশি সোনার গয়না। হাতেও সোনার আংটি, সোনার ব্রেসলেট, সোনার ঘড়ি ঝলমল করছে। কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ীর কাছে সোনা কেবল অলঙ্কার ছিল না। সোনাকে ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ বলে মনে করতেন তিনি। ৪৩ বছর আগে কেনা বাড়িটিকেও যেন সোনায় মুড়িয়ে রেখেছিলেন বাপ্পি। রইল জনপ্রিয় সঙ্গীতনির্মাতার অন্দরমহলের ছবি।
১৯৮৩ সালে ১৯.৩২ লক্ষ টাকা খরচ করে মুম্বইয়ে বাড়ি কিনেছিলেন বাপ্পি। সদর দরজার পাশে নামফলকে লেখা ‘লাহিড়ী হাউজ়’। ধবধবে সাদা রঙের বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলে সামনে কিছুটা খোলামেলা জায়গা রয়েছে। বাড়ির বাইরে পাঁচিলের ধারে গাছ পোঁতা রয়েছে। এমনকি, বাড়ির চারদিকে ছোটখাটো ‘ইন্ডোর প্ল্যান্ট’ও লাগানো রয়েছে।
মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই তবলা বাজাতেন বাপ্পি। সেই সময় তবলা বাজানোর জন্য তিনি যতগুলি মেডেল পেয়েছিলেন, সবগুলিই একটি ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় দেওয়ালে ঝোলানো রয়েছে। তার চারপাশে কিশোর কুমার, দেব আনন্দ, লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, আশা ভোঁসলে, অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকাদের সঙ্গে তোলা ছবি রয়েছে।
বাপ্পির গানগুলি শ্রোতামহলে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, গানের ব্যাপক প্রচারের ফলে তাঁকে বিভিন্ন সময় ‘প্লাটিনাম ডিস্ক’ও দেওয়া হয়েছিল। বসার ঘরে সেই ডিস্কগুলি ফ্রেমে বাঁধিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
বসার ঘরের মাঝখানে একটি সোনার চেয়ার রাখা রয়েছে। সেই চেয়ারের উপর বাঁধানো রয়েছে বাপ্পির একটি সাদা-কালো ছবি। ঘরের অন্য আসবাবপত্রেও রয়েছে সাদা এবং সোনালির ছাপ। এক নজরে দেখলে মনে হয়, পুরো বাড়িটিই যেন সোনায় মোড়া।
আরও পড়ুন:
বসার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া রয়েছে ডাইনিং রুম। পরিবারের সঙ্গে সেখানেই খাওয়াদাওয়া সারতেন বাপ্পি। ছিমছাম সাজানো ডাইনিং রুমের পিছনের দেওয়ালে বাপ্পির একটি ছবি বড় ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে। সেই ছবিটিই ডাইনিং রুমের মূল আকর্ষণ।
লস অ্যাঞ্জেলসে গিয়ে নিজের ফোটোশুট করিয়েছিলেন বাপ্পি। সোনাদানায় মোড়া, কালো চশমা পরে সোফায় বসেছিলেন তিনি। সেই ছবিটিই পরবর্তী কালে তাঁর সমস্ত গানের অনুষ্ঠানে ‘কভার’ হিসাবে ব্যবহৃত হত। ডাইনিং রুমের পিছনেও সেই ছবিটি রয়েছে।
হিন্দু দেবতাদের মধ্যে গণেশের ভক্ত ছিলেন বাপ্পি। সারা বাড়ি জু়ড়ে গণপতির মূর্তিও রেখেছিলেন তিনি। জানা যায়, বাপ্পির বাড়িতে বিভিন্ন আয়তনের এক হাজারেরও বেশি গজাননের মূর্তি রয়েছে।
বাপ্পির মৃত্যুর পর বাড়ির একটি ঘর ‘হল অফ ফেম’ নামে সাজিয়েছেন লাহিড়ী বাড়ির সদস্যেরা। বাপ্পি সারা জীবনে যত পুরস্কার পেয়েছেন, সেই ঘরে অধিকাংশ পুরস্কারই সাজানো রয়েছে। তবে, কিছু পুরস্কার আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্টও হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন:
‘হল অফ ফেম’ ঘরের এক দিকে রয়েছে বাপ্পির সঙ্গে বহু তারকার ছবি। মাইকেল জ্যাকসন, কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকর এবং জ্যাকি চ্যানের মতো তারকাদের সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন বাপ্পি। সেই ছবিগুলি দিয়েই ঘরের এক কোণ সাজানো রয়েছে।
গান রেকর্ড করার জন্য বাপ্পির বাড়িতে একটি স্টুডিয়ো রুম রয়েছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি রেকর্ডিং বুথও রয়েছে সেখানে।
১৬ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে মুম্বই গিয়েছিলেন বাপ্পি। নিজের প্রয়োজনীয় গুটিকতক জিনিসের পাশাপাশি ১০০ বছরের পুরনো হারমোনিয়াম এবং তবলা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। সেই পুরনো হারমোনিয়াম এবং তবলা এখনও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
বাড়ির বারান্দা ছিল বাপ্পির অন্যতম প্রিয় জায়গা। সময় পেলেই সেখানে বসে চা পান করতেন তিনি। এমনকি, বাড়িতে কোনও পুজো হলে সেই বারান্দাতেই সমস্ত আয়োজন সারা হয়। বারান্দার পিছনে বাপ্পির তিনটি ছবিও ফ্রেম করে বাঁধানো রয়েছে। গায়কের সঙ্গে কোনও অনুরাগী দেখা করতে গেলে নাকি বারান্দায় বসে গল্প করতেন ‘ডিস্কো কিং’।