বাসে বিক্রি করতেন লিপস্টিক, নেল পলিশ, ছেড়ে দেন পড়াশোনাও, জয়ার সুপারিশে অভিনয়ে নামেন আরশাদ
দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ছেড়ে দেন আরশাদ ওয়ারসি। বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায়, মুম্বইয়ের বোরিভালি এবং বান্দ্রা এলাকার বাসগুলিতে লিপস্টিক এবং নেল পলিশ বিক্রি করে রোজগার করতেন তিনি।
অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল না কোনও দিনই। কিন্তু জীবন এবং ভাগ্যের চাকা তাঁকে সেই পথেই নিয়ে যায়। হিন্দি ফিল্মজগতের কৌতুকাভিনেতা হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন আরশাদ ওয়ারসি। তবে জীবনের এই চড়াই-উতরাইয়ের পথ খুব একটা সহজ ছিল না অভিনেতার।
১৯৬৮ সালের ১৯ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম আরশাদের। তাঁর বাবা ছিলেন বলি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গীতশিল্পী। ১৯৮৭ সালে আরশাদের বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার দু’বছরের মধ্যে মারা যান অভিনেতার মা। কিডনির অসুখে ভুগে মারা যান তিনি।
বাবা-মা মারা যাওয়ার পর নিঃস্ব হয়ে পড়েন আরশাদ। তাঁদের ঘরবাড়ি সমস্ত হারিয়ে ফেলেন অভিনেতা। মাথার উপর ছাদটুকুও ছিল না তাঁর।
দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ছেড়ে দেন আরশাদ। বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায়, মু্ম্বইয়ের বোরিভালি এবং বান্দ্রা এলাকার বাসগুলিতে লিপস্টিক এবং নেল পলিশ বিক্রি করে রোজগার করতেন তিনি।
এমনকি বাড়ি গিয়েও প্রসাধনী দ্রব্য বিক্রি করতেন আরশাদ। পরে একটি ফোটো ল্যাবরেটরিতে কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নাচের প্রতি আগ্রহ জন্মায় আরশাদের।
আরও পড়ুন:
মুম্বইয়ে নাচ শিখতে শুরু করেন আরশাদ। তার পর নৃত্য পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি। বলিউডের ছবিনির্মাতা মহেশ ভট্টের সহকারী হিসাবে ‘কাশ’ এবং ‘ঠিকানা’ ছবিতে কাজ করেন আরশাদ।
২১ বছর বয়সে লন্ডনে নাচের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন আরশাদ। পরে নিজস্ব একটি নাচের স্টুডিয়ো গড়ে তোলেন তিনি। নাটকের একটি দলের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রুপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ ছবির একটি নাচের দৃশ্যে নৃত্য পরিচালক হিসাবে কাজ করেন আরশাদ। তার তিন বছর পর বলিপাড়ায় অভিনেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরে মেরে সপনে’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন আরশাদ। বক্স অফিসে সফল হয় এই ছবি।
আরও পড়ুন:
তার পর ‘বেতাবি’, ‘মেরে দো অনমোল রতন’, ‘হিরো হিন্দুস্তানি’, ‘হোগি প্যার কি জিত’, ‘ত্রিশক্তি’র মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায় আরশাদকে।
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবিতে সার্কিটের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আরশাদ। ‘মুন্নাভাই’ ফিল্ম সিরিজ়ের পাশাপাশি ‘গোলমাল’ ফিল্ম সিরিজ়ে কৌতুকাভিনেতা হিসাবে অভিনয় করে দর্শকমনে জায়গা করে নেন তিনি।
‘কাবুল এক্সপ্রেস’, ‘ধামাল’, ‘ধন ধনা ধন গোল’, ‘ইশকিয়া’, ‘জলি এলএলবি’র মতো সফল ছবিও যুক্ত হয়েছে আরশাদের কেরিয়ারের ঝুলিতে। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বচ্চন পাণ্ডে’ ছবিতে শেষ অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে।
বড় পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘অসুর’ ওয়েব সিরিজ়ে দুর্দান্ত অভিনয় করে প্রশংসা কুড়োন আরশাদ। তা ছাড়া বিভিন্ন শোয়ে সঞ্চালনা করা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনে অভিনয়ও করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় নাচের রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারকের আসনে রয়েছেন আরশাদ। সমাজমাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকেন অভিনেতা। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা ১৩ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। ইনস্টাগ্রামেই আরশাদ উল্লেখ করেছেন যে ‘ভগবত’, ‘ঘামাসান’ এবং ‘বন্দা সিংহ’-এ তাঁকে অভিনয় করতে দেখা যাবে।