• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চিত্র সংবাদ

এ ভাবেই পড়ে রয়েছে এক সময় ভারতের কোটিপতিদের অহংকার শেখাওয়াতি ম্যানসন

শেয়ার করুন
১০ sekhawat1
এক সময় এই শেখাওয়াতি ম্যানসনে বসবাস ছিল ভারতের কোটিপতিদের। এখনও অনেক হাভেলিরই ভগ্নদশা।
১০ ekhawat2
পঞ্চদশ শতকে রাজপুত রাজা রাও শেখার তৈরি শেখাওয়াতি ম্যানসন উনিশ শতক পর্যন্ত উন্নতি করে। জয়পুর ও বিকানের থেকে ব্যবসা আনার জন্য শেখাওয়াতির কর কম করা হয়। আশেপাশের জেলা থেকে শেখাওয়াতিতে এসে বসবাস শুরু করে মারওয়াড়ি, বানিয়া সম্প্রদায়।
১০ sekhawat3
১৮২০ সালে সমুদ্র ও রেলপথে বাণিজ্য শুরু হয়। শেখাওয়াতি ব্যবসায়ীরা বম্বে, কলকাতা পাড়ি দিতে শুরু করেন।
১০ sekhawat4
এই ম্যানসনের সব হাভেলিই মূলত একই কায়দায় তৈরি। দু’-তলা হাভেলির সামনে দু’-চারটে খোলা আয়তাকার উঠোন। একেকটা উঠোন ব্যবহার করা হত একেক কাজের জন্য। হাভেলিতে ঢোকার পর প্রথম উঠোন ছিল বাড়ির পুরুষদের ব্যবহারের জন্য। দ্বিতীয় উঠোন মহিলাদের জন্য, তৃতীয় ও চতুর্র্থ ছিল রান্নাঘর ও আস্তাবল। সদরে ছিল কাঠের আর্ক, কাচের কাজ।
১০ sekhawat5
সপ্তদশ শতকে জয়পুরের আমের কেল্লায় রাজপুত ফ্রেস্কোর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শেখাওয়াতি ম্যানসনের ভিতরের, বাইরের দেওয়াল, সিলিংয়ে ফুটে ওঠে মহাভারত, রামায়ণের গল্প। ফুলের নক্সা।
১০ shekhawat6
প্রথম দিকে জয়পুরের পেন্টাররাই এই শেখাওয়াতি পেন্টিং করতেন। কিন্তু ফ্রেস্কোর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকায় শেখাওয়াতি কুমোর সম্প্রদায়ও এই কাজ শিখতে শুরু করেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই কাজে খনিজ ও ভেজিটেবল কালার প্যালেট ব্যবহার করা হত। লাল, মেরুন, ইন্ডিগো, ল্যাপিস লাজুলি, তামাটে নীলের সঙ্গে গোমূত্র থেকে প্রস্তুত উজ্জ্বল হলুদের ব্যবহার দেখা যায় এই সব ফ্রেস্কোতে। ১৮৬০ সালের পর থেকে সিন্থেটিক রঙের ব্যবহার শুরু হয়।
১০ sekhawat7
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ফ্রেস্কোতে ইউরোপীয় প্রভাব পড়তে শুরু করে। ট্রাডিশনাল মোটিফের পাশাপাশি কুইন এলিজাবেথ, যীশুর পেন্টিং করা শুরু হয়।
১০ sekhawat8
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত শেখাওয়াতিদের প্রতিপত্তি বজায় ছিল। তারপর থেকেই শেখাওয়াত পরিবারের সদস্যরা বম্বে, কলকাতায় পাড়ি দেন। লক্ষ্মী মিত্তল, কুমার বিড়লার মতো কোটিপতিদের জন্মও এই শেখাওয়াতিতেই।
১০ sekhawat9
১৯৫০ সালের পর থেকেই শেখাওয়াতদের পতন হতে শুরু করে। পারিবারিক বাংলো বিক্রি ও পুনর্নির্মাণের কাজে হাত দেননি কেউই। এই সব একেকটা বাংলোয় ৫০টি পরিবার পর্যন্ত বসবাস করতে পারে। কিন্তু শরিকী ও আইনি ঝামেলায় এ ভাবেই পড়ে থাকে ম্যানসন। শেখাওয়াতদের পারিবারিক সম্পত্তি হওয়ায় হাত ছোঁয়াতে পারেনি সরকারও।
১০১০ sekhawat10
১৯৯৯ সালে শেখাওয়াতি ম্যানসনের নন্দ লালা দেভরা হাভেলি কিনে নেন নাদিন লে প্রিন্স। পুনর্নিমাণের পর এখন শেখাওয়াতি ম্যানসন ফতেপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। দানলোদের শেঠ অর্জুন দাস গোয়েঙ্কা হাভেলি নওয়ালগড়ের শ্রী জয়রাম দাসজি মোরারকার পারিবারিক ম্যানসনও মিউজিয়ামে পরিণত করা হয়। এ ছাড়াও মাজী কা কামরা, কুলওয়াল কোঠি ও ক্যাসল মান্ডোয়াও হেরিটেজ হোটেলেও পরিণত করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন