E-Paper

আগুনের শিখা

বাথরুমে গেলাম। তাকাতেই নজর পড়ল, টুথব্রাশ যেখানে রাখা হয়, সেখানে দিব্যি শোভা পাচ্ছে বাবার প্রিয় কলম। এই রকম ছোটখাটো ঘটনা দিয়ে শুরু। সাবান-কেসে মানিব্যাগ, বেসিনে হাতঘড়ি, গ্যাস সিলিন্ডারের উপর বাঁধানো দাঁত— যা যেখানে রাখার কথা নয় রাখতে থাকল বাবা, এবং না পেয়ে বাড়ি মাথায় করা শুরু করল।

অভিজিৎ তরফদার

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২০

ছবি: কুনাল বর্মণ।

একটা কাজ নিয়ে বসেছিলাম। চেঁচামেচি শুনে উঠে পড়তে হল। বাবা।

“কী হল? চিৎকার করছ কেন?”

“আমার কলম! কলমটা পাচ্ছি না, তোরা কেউ নিয়েছিস?”

বাবা এখনও কলমকে ‘পেন’ বলা রপ্ত করতে পারেনি। ছত্রিশ বছর কলম পিষেছে। বাজার করতে বেরোলেও বুকপকেটে কলম না গুঁজে বেরোয় না। বাবার কাছে কলম কী জিনিস আমি জানি।

“আমরা নিতে যাব কেন? তোমার কলম দিয়ে আমরা কী করব? দেখো তুমিই কোথাও রেখেছ ভুল করে।”

“আমি? ভুল করে? না, না, হতেই পারে না।”

“বাজার থেকে ফিরে প্রথম কোথায় গিয়েছিলে?”

“কোথায় আবার? পা ধুতে বাথরুমে ঢুকেছিলাম।”

বাথরুমে গেলাম। তাকাতেই নজর পড়ল, টুথব্রাশ যেখানে রাখা হয়, সেখানে দিব্যি শোভা পাচ্ছে বাবার প্রিয় কলম। এই রকম ছোটখাটো ঘটনা দিয়ে শুরু। সাবান-কেসে মানিব্যাগ, বেসিনে হাতঘড়ি, গ্যাস সিলিন্ডারের উপর বাঁধানো দাঁত— যা যেখানে রাখার কথা নয় রাখতে থাকল বাবা, এবং না পেয়ে বাড়ি মাথায় করা শুরু করল। এর পর শুরু হল কোনও কাজ করেও ভুলে যাওয়া। ছুটির দিন, আমি বাড়িতে, খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাবা শুতে গেছে, ভরদুপুর, হঠাৎ আবার টেবিলে এসে বসে পড়ল।

“কী হল?” মা জিজ্ঞেস করল।

“খেতে দিলে না এখনও? খিদে পেয়ে গেছে।”

মা অবাক হল, “এই যে একটু আগে খেয়ে উঠে গেলে? মনে নেই?”

বাবা তার চেয়েও বেশি অবাক হল, “খেয়েছি? ঠিক বলছ? কই মনে করতে পারছি না তো!”

চেনা লোকের নাম ভুলে যেতে লাগল। বাবার পিসতুতো দাদার ছেলে জয়দা, অনেক দিন পর এসেছে। এই জয়দা বাবার হাত ধরে বহু বার মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছে। তাই কলকাতা এলে এক বার দেখা না করে যায় না। বাবা পাশের ঘরে গিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “কে রে লোকটা? ভীষণ চেনা-চেনা লাগছে। অথচ কিছুতেই নামটা মনে পড়ছে না।”

জয়দা না-হয় কালেভদ্রে আসে। কাগজ দেয় যে সত্যেন, গ্যাসের তপন, সবাইকে উল্টোপাল্টা নামে ডাকা শুরু করল বাবা। প্রথমে বিরক্ত হলেও ওরা বুঝে গেল, বাবা এখন থেকে উল্টোপাল্টা নামেই ওদের ডাকবে। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সবচেয়ে বিপদ হল, বাইরে বেরিয়ে মাঝে মাঝে ফেরার রাস্তা ভুলে যেতে লাগল। প্রথম দিনটা আমার বেশ মনে আছে। খেয়েদেয়ে অফিসে বেরোব, মা মুখ কালো করে এসে বলল, “তোর বাবা যে এখনও ফিরল না। একটু খোঁজ নিবি?”

“ফেরেনি? কোথায় গেছে?”

“বাজারে যাওয়ার নাম করে সেই সাতসকালে বেরিয়েছে, রোজ এর মধ্যেই ফিরে আসে… কী যে হল! চিন্তা হচ্ছে।”

চিন্তাটা আমার মাথায় গুঁজে দিয়ে মা চলে গেল। বেরোলাম খোঁজ নিতে। প্রথম গেলাম বাজারে। সবাই চেনে বাবাকে।

“হ্যাঁ হ্যাঁ, দেখব না কেন? এসেছিলেন। ঘণ্টা দুয়েক আগে তো বটেই। চলে গেছেন। না, না, তার পর আর দেখতে পাইনি।”

খোঁজ করতে করতে পাড়ার শিবুর সঙ্গে দেখা। স্নান করে গঙ্গার ঘাট থেকে ফিরছে।

“মেসোমশাই? ওই তো ঘাটের সিঁড়িতে বসে রয়েছে।”

ঘাটের সিঁড়িতে! হন্তদন্ত হয়ে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে দেখি, গাছের ছায়ায় বসে তন্ময় হয়ে নদী দেখছে বাবা। আমাকে দেখেই, “এসেছিস? চল...” বলে উঠে পিছন পিছন হাঁটা দিল। ভুলে যায়, কিন্তু খুব ছোটবেলার জিনিস বা ঘটনা আশ্চর্য ভাবে মনেও করতে পারে। মা নারকোলের পুর দিয়ে পটল রান্না করেছে, খেতে খেতে বাবা বলে উঠল, “বাহ্‌! দারুণ হয়েছে। এই রকম পটলের তরকারি খেয়েছিলাম লছমনঝুলায়।”

“লছমনঝুলা? সে তো কলেজে পড়তে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলে। মনে আছে তোমার?”

“কেন থাকবে না? এই তো সেদিনের ঘটনা! নদীর উপর প্রদীপ জ্বালানো! সে সব কখনও ভোলা যায়? হরিদ্বার! লছমনঝুলা!”

*****

সেদিনের পর থেকে বাবার বাইরে বেরনো বন্ধ হয়ে গেল। বাজার-দোকান আমি করি। আমি না থাকলে বাবাকে ফেলে মা-ও একলা বেরোয় না। তাও বাবা যে হুটহাট বেরিয়ে যায় না তা নয়। বেরিয়ে পড়লে ফেরার রাস্তা চিনতে পারে না। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের বাইরের দরজাটা বাবার কাছে এমন কিছু, যা দিয়ে বেরনোই যায় শুধু, ঢোকা যায় না। পাড়ার লোকও জেনে গেছে। বাবাকে রাস্তায় একলা দেখতে পেলেই ধরে ফেলে। সেখানেও মুশকিল। অন্যদের কথায় ফিরতে চায় না।

ক্রমশ অবস্থা এমন দাঁড়াল, আমাকেও ভাল করে চিনতে পারে না বাবা। এক জনই ব্যতিক্রম, মা। মা গিয়ে হাত ধরলেই জোঁকের মুখে নুন পড়ে। কথা না বাড়িয়ে মাথা নিচু করে বাধ্য ছেলের মতো ফিরে আসে। ডাক্তার দেখানো হল। ডাক্তার বললেন, “ডিমেনশিয়া। সারে না। কোনও চিকিৎসা নেই।”

বাবার পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসতে লাগল। মার ভাল নাম শাশ্বতী, বাবা ডাকে সতী বলে।

“সতী খিদে পেয়েছে, খেতে দাও।”... “মাথা যন্ত্রণা করছে সতী, টিপে দাও।”... "গরম লাগছে, ফ্যানটা চালিয়ে দাও।”

পৃথিবীটা যেন এক অন্ধকার ঘর, সেখানে একটাই আলোর রেখা, যার নাম ‘সতী’। সেই দিকে তাকিয়ে বাবা বেঁচে আছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব সবাই বলেছে, “এ ভাবে পারা যাবে না। তোর মা-ই এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়বে, অ্যাটেনডেন্টের ব্যবস্থা কর। দিন-রাতের অ্যাটেনডেন্ট। তোরা মাঝে মাঝে দেখে আসবি।”

মাকে বলতে মা মুখ কালো করে চলে গেল। এক জন খবর আনল, মধ্যমগ্রামের দিকে এই জাতীয় রোগীর দেখাশোনার ভাল ব্যবস্থা আছে এমন হোম তৈরি হয়েছে। বাড়িতে রাখার চেয়ে ওটাই ভাল। খরচও বেশি নয়। কথাবার্তা মায়ের সামনেই হয়েছিল। রাতে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে মা আমার ঘরে এল।

“ঠিক করলি কিছু?”

“কার কথা বলছ?”

“ওই মধ্যমগ্রাম না কী যেন?”

“দেখি, যাব সামনের রোববার দেখে আসতে।”

“ওখানে গিয়ে আর একটা জিনিসও খোঁজ নিবি।”

চোখ তুলে তাকালাম।

“সঙ্গে বাড়ির কাউকে থাকতে দেয় কি না!”

দেখলাম, মা আঁচলে চোখ মুছছে, “মানুষটাকে একা ফেলে রেখে আমি কী ভাবে এখানে থাকব বল?”

সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি। মা গেছে মন্দিরে পুজো দিতে। আমি রেডি হচ্ছি বেরোব বলে। একটু আগেও দেখে এসেছি, বাবা চোখ বন্ধ করে ঘুমোচ্ছে। বাথরুমে ঢুকেছি স্নান করতে। বাইরের দরজায় খুট করে একটা শব্দ হল। নিশ্চয়ই বাবা। ভিজে গায়েই তোয়ালে জড়িয়ে বাইরে এসে দেখি, যা ভেবেছি তা-ই। বাইরের দরজা হাট করে খোলা। বাবা নেই। কী করব ভাবছি, মা ফিরল ফুলের সাজি আর প্রসাদ হাতে করে। উঁকি মেরে বাবাকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোথায় গেল?”

“বুঝতে পারছি না। ঘুমোচ্ছে দেখে স্নানে ঢুকেছিলাম। কিন্তু বেরিয়ে আর দেখতে পাচ্ছি না। বাইরের দরজাও খোলা।”

কোনও কথা না বলে ফুল আর প্রসাদ টেবিলে রেখে মা বেরিয়ে গেল। আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। অফিস যাওয়ার সময় পেরিয়ে গেল। বৃষ্টি সামান্য ধরেছে। রোদ ওঠেনি। কী করব বুঝতে পারছি না। ঘর খোলা রেখে বেরোতেও পারছি না। তালা দিয়ে বেরোলে আবার ওরা ঢুকতে পারবে না। দুপুর পার করে মা ফিরল। বিধ্বস্ত চেহারা।

“কোথাও পেলাম না। কী হবে বল তো?”

মায়ের গলা বুজে এল। চিন্তা আমারও হচ্ছিল। আজকাল তো রাস্তাঘাট পার হওয়ার সময়ও তালজ্ঞান থাকে না। অ্যাক্সিডেন্ট করেনি তো?

মা বলল, “দাঁড়া তোকে আগে খেতে দিই।”

“পরে হবে। যাই, আমি এক বার দেখে আসি,” পাঞ্জাবিটা গলিয়ে আমি বেরোলাম খোঁজ নিতে। তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও পাওয়া গেল না। যেখানে যেখানে বাবা যেতে পারে, তার একটা জায়গাও বাদ দিইনি। এমনকি এক জন সার্জেন্টকে দেখে জিজ্ঞেস করেছি, কোনও অ্যাক্সিডেন্টের খবর আছে কি না। ভদ্রলোক ভাল। যন্ত্র ঘেঁটে দেখে আমাকে নিশ্চিন্ত করলেন, “না, এই অঞ্চলে সকাল থেকে কোনও অ্যাক্সিডেন্ট হয়নি।”

বাবা কোনও দিনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। যখন থেকে হুটহাট বেরিয়ে যাওয়া শুরু করল, একটা মাদুলিতে নাম-ঠিকানা লিখে হাতে বেঁধে দিয়েছিলাম। সেটাও ছিঁড়ে ফেলেছে। এত অসহায় লাগছিল! নিজের উপর রাগও হচ্ছিল। তখনই বাথরুমে না গিয়ে যদি মায়ের জন্য অপেক্ষা করতাম, তা হলে এমন বিপদে পড়তে হত না! ঘুরে ঘুরে শেষ অবধি বাড়ির রাস্তা ধরেছি, পাড়ার মোড়ে দেখি চপল। অটো চালায়। অটোতে বাবা, বাবাকে ধরে বসে আছে পাড়ার একটা ছেলে।

চপল অটো থামিয়ে নেমে এল, “মেসোমশাই রাস্তার ধারে ফুটপাতে পড়ে ছিল। পাগল-টাগল হবে ভেবে সবাই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমার চোখ পড়তেই মনে হল, চেনা-চেনা লাগছে। কাছে গিয়ে দেখি, আরে! মেসোমশাই!… বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেলাম। আর একা ছেড়ো না। কখন কী হয়ে যায়, বলা তো যায় না।”

চপলকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম। টাকা দিতে চাইলাম, নিল না। বললাম, এক কাপ চা অন্তত খেয়ে যেতে, তাও শুনল না। অটো ঘুরিয়ে চলে গেল।

বাবাকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছি, মা এসে দাঁড়িয়েছে বারান্দায়, বাবা হঠাৎ হাউহাউ করে কেঁদে উঠল, “ভীষণ ব্যথা লেগেছে। শিখা, আমাকে ধরো। গালের ভিতরে কেটে গিয়েছে। রক্ত পড়ছে। দেখছ কী? আমাকে ঘরে নিয়ে চলো, শিখা।”

মায়ের দিকে তাকালাম, মায়ের চোখ এক বারও বাবার উপর থেকে সরেনি। চোখের ভাষা পড়তে আমার একটুও অসুবিধে হল না।

*****

বৃষ্টি থেমে গেছে, মেঘ কেটে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে শুক্লপক্ষের চাঁদ। শান্ত চাঁদের আলো ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘর-বারান্দা-খাবার টেবিল। বারান্দায় বসে ভাবছিলাম সারাটা সকাল-দুপুর-বিকেল কী ভাবে কেটেছে! একটা খারাপ খবর, একটা আশঙ্কা, আকাশ ছাওয়া মেঘের মতো ছায়া ফেলেছিল। মেঘ কেটে গিয়েছে, স্বস্তির আলোয় চরাচর ভেসে যাচ্ছে। এখন তো খুশি হওয়ারই কথা। বাবা ফিরে এসেছে। সামান্য আঘাত লেগেছে, কেটেকুটে গিয়েছে দু’-এক জায়গায়। ক’দিনেই ঠিক হয়ে যাবে। সব কিছু আগের মতো হয়ে যাবে। আমার অফিস, মা-র পুজোআচ্চা। অথচ কোথাও যেন কিছু কাঁটার মতো খচখচ করছে।

শিখামাসি মায়ের দূর সম্পর্কের বোন। স্বামীর সংসারে কী সব ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট, আমি তখন ছোট, অত কিছু বুঝতেও পারিনি। এসে সংসারটা মাথায় তুলে নিয়েছিল। আমার স্কুলের জামা-প্যান্ট ইস্তিরি করা থেকে স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসা। বাবার সমস্ত কিছু, এমনকি জুতোজোড়াও পালিশ করে হাতের কাছে রাখা। বাড়িঘর ঝকঝকে তকতকে করে সাজানো, নিত্যনতুন খাবার বানিয়ে খাওয়ানো। সংসারের চেহারাটাই বদলে দিয়েছিল শিখামাসি। সেই শিখামাসি এক দিন চলে গেল।

সেদিনটা আমার বেশ মনে আছে। বাবা অফিসে বেরিয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বেরিয়ে দেখলাম, বারান্দার ধারে পা ঝুলিয়ে বসে শিখামাসি। চোখে আঁচল, পিঠটা কান্নার দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছে। দূরে দাঁড়িয়ে মা। কিছু বলছিল, আমাকে দেখে থেমে গেল। শিখামাসিও আমাকে দেখেছিল। চোখ মুছে কাছে টানল। আদর করল। গাল টিপে কপালে একটা চুমু খেল। এখন যে ঘরে আমি থাকি, সেখানে থাকত মাসি। আমাকে আদর করে উঠে ঘরে ঢুকে, পুরনো একটা তোরঙ্গ, যার ভিতর মাসির জিনিসপত্র থাকত, সেটা নিয়ে কোনও দিকে না তাকিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। বাড়ি ফিরে রাত্তিরে খেতে বসে সর্ষে দিয়ে রান্না করা সজনে ডাঁটার চচ্চড়ি মুখে দিয়ে বাবা বলেছিল, “বাঃ! সজনে ডাঁটাটা তো দারুণ হয়েছে। শিখা রেঁধেছে?”

মা জবাব দেয়নি। বাবা ঘাড় ঘুরিয়ে এ দিক-ও দিক দেখে জানতে চেয়েছিল, “শিখাকে দেখছি না? কোথায় গেল শিখা?”

“চলে গেছে,” মা বলেছিল।

বাবার হাত থেমে গিয়েছিল। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “চলে গেছে? কেন?”

“আমি চলে যেতে বলেছি,” এইটুকু বলে উঠে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল মা। বাবাও, খানিক ক্ষণ খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করে হাত ধুয়ে ফেলেছিল।

এত বছর পর বাবার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে শিখামাসি। বাবা ঘুমিয়ে পড়েছে, ঘরে এখনও খুটখাট আওয়াজ, মা বোধহয় বাসন গুছোচ্ছে। কাল সকাল থেকে শুরু হবে রোজকার রুটিন। রাত্তিরে বাসন ধুয়ে না রাখলে সকালে দেরি হয়ে যাবে। বারান্দায় ছায়া পড়ল। মা।

“কিছু বলবে?”

“হ্যাঁ।”

“বলো।”

“মধ্যমগ্রাম না কোথায় যেন বলছিলি রেখে আসার কথা?”

“খোঁজ নেওয়া হল না তো! তুমিই বারণ করলে।”

আঙুলের ডগায় আঁচল পাকাল মা, একটু দ্বিধা করল। তার পর সোজা তাকাল, “এ বার যা, আর পারা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে রেখে আসাই ভাল।”

মায়ের মুখের দিকে তাকালাম। চাঁদের আলো পড়েছে মুখে। মুখের এক পাশ অন্ধকার, অন্য পাশে আলো, “আর হ্যাঁ, সেদিন বলেছিলাম না, খোঁজ নিস, ওখানে বাড়ির কাউকে সঙ্গে থাকতে দেয় কি না? তার আর দরকার নেই।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Short Story Bengali Story Short story

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy