নববর্ষের বাঙালিয়ানায় কোন রেস্তরাঁয় কী কী পদ আর দামই বা কত?

নিজস্ব প্রতিবেদন
নববর্ষের বাঙালিয়ানায় কোন রেস্তরাঁয় কী কী পদ আর দামই বা কত?

কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর বাঙালির পার্বণ মানে পেটপুজো হবে না, তা হতেই পারে না। আর কিছু না হোক, হাঁড়ির খবরে এই জাতি এগিয়ে থাকতেই পছন্দ করে। সামনেই পয়লা বৈশাখ। তাই নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়েও বাঙালির তোড়জোর কম নয়। অন্যান্য দিন বিলেতি কায়দায় চপসি আর স্টেক খেলেও, এই দিন যে পাতে বাঙালি খাবার চাই-ই চাই। এপার-ওপার দুই বাংলার খাবার হলে ষোলকলা পূর্ণ হয় সেখানেই।

তাই পয়লা বৈশাখের সময় জুড়ে বিভিন্ন রেস্তোরায় পাওয়া যায় বিশেষ বাঙালি মেনু। স্টার্টার থেকে ডেজার্ট সব কিছুতেই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকে এই সময়ে। আর বাঙালির কাছে রসনা তৃপ্তি হলে উৎসব উদযাপনও সফল। দেখে নিন কোন রেস্তরাঁয় কেমন পদ?

দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন: কলকাতার পাঁচতারা রেস্তরাঁ ললিত গ্রেট ইস্টার্নের আলফ্রেসকো-র মেনুতেও তাই এদিন থাকছে বাঙালি খাবারের সম্ভার। লাঞ্চ ও ডিনার, দুবেলাই বাফের মাধ্যমে চলবে ভুরিভোজ। মেনুতে এপার -ওপার দুই বাংলার রান্নাই রয়েছে। দেখে নেওয়া যাক মেনুতে কী কী রয়েছে—

আরও পড়ুন: ‘চিলেকোঠা’-র ফিউশন এই খাবার আপনাকে ভালবাসতে শেখাবে দাঁড়াওয়ালা চিংড়িকেও!

দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্নের বাঙালি থালি।

পানীয়: আম পোড়ার শরবত, বেলের শরবত।

স্যুপ: বিলাতি বেগুন আর টোম্যাটোর রসা, পোড়া রসুন আর মুরগি শিরুয়া।

নিরামিষ থালি: সাদা ভাত, পোলাও, লুচি, এঁচড়ের রেজালা, যুক্তি ফুল, পটল-ঝিঙে-দুধ সুক্তো, লেডিকেনি ডালনা, গন্ধরাজ লেবু দিয়ে কাঁচা মুগের ডাল। এর সঙ্গে চাইলে আলু আর কাঁচা আম দিয়ে চপ, ফুলুরি, সুতলির চপ নিতে পারেন।

আমিষ: সাদা ভাত, পোলাও, লুচি, কাঁকড়া ভুনা, সজনে ডাটা, ডালের বড়া আর চিংড়ির তরকারি, ধুমরো মুরগি, শিম বীজ দিয়ে শোল মাছের কালিয়া, পিঠালি গোস্ত, মাংসের তিহারি। এ ছাড়া তেলে ভাজার মধ্যে পাবেন ডিমের ডেভিল, চিংড়ির চপ, মুরগির পিজ্জাই ভাজা, গন্ধরাজ মাংসের চপ।

ডেজার্ট: গুলকানদ জেলি, চকোলেট মালাই অ্যান্ড স্যান্ডউইচ পেস্ট্রি, কুরকুরে গুড়ের সন্দেশ ট্রাফল, ম্যাঙ্গো লেমন বেকড দই, লবঙ্গ লতিকা, কমলা ভোগ, নিকুতি, চম চম আনন্দ আনারস, বাটার স্কচ, আতার পায়েস।

এছাড়াও রয়েছে নানা রকমের সালাড ও ফুচকা। লাঞ্চের জন্য ২২৫০ টাকা ও ডিনারের বুফের জন্য খরচ হবে ২০২০ টাকা।

আহেলি: রাজারহাটের অ্যাক্সিস মল এবং পিয়ারলেস-এর ‘আহেলি’-ও পয়লাযাপনে পিছিয়ে নেই। বরং সমান তালে সেজে উঠছে তারাও। পয়লা বৈশাখের বিশেষ বাফে, থালি ও আ লা কার্টে সব রকম আয়োজনই এখানে মজুত। রান্নার হাতযশ আর আতিথেয়তা দুই-ই তাক লাগিয়ে দেয়!

আহেলির আম-কাসুন্দি মাংস।

পয়লা বৈশাখ স্পেশাল পদ কেবল বাঙালিয়ানার কী কী পাওয়া যাচ্ছে—

পয়লা বৈশাখী মেনুতে রয়েছে দুধ মাছের সংযুক্তি, ফুলকপি বড়ি পোস্ত, রাঙা চিংড়ি কষা, চিংড়ি ভরা পটল, হাতে মাখা ইলিশ, ভেটকি ভাপা বাহার, কই আতলা, আম কাসুন্দি মাংস, গন্ধরাজ মুরগি, সামুদ্রিক পোলাও।

এখানেই শেষ নয়, বাঙালি মিষ্টিমুখের আয়োজনেও তারা পিছিয়ে নেই। তাই ডেজার্টে রয়েছে ভাপা মিহিদানা, বেকড রসগোল্লা। রয়েছে থালির ব্যবস্থাও। পয়লা বৈশাখে একজনের প্লেটের জন্য খরচ হতে পারে ২০০০টাকা।

আরও পড়ুন: বাড়িতে মুচমুচে

৬, বালিগঞ্জ প্লেস: বাংলার উৎসব আর ৬, বালিগঞ্জ প্লেস হাত গুটিয়ে বসে থাকবে তা কী হয়! বছরের পয়লা দিনের জন্য এক বিশেষ মেনু সাজিয়েছে এরাও। তবে একমাত্র এই দিনের জন্যই বিশেষ বাফেটি প্রযোজ্য। তাই বাঙালি রান্নার অন্যতম সেরা খাবার চাখতে যাঁরা বরাবর পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ৬, বালিগঞ্জ প্লেস কী কী সাজিয়েছে জানেন?

৬, বালিগঞ্জ প্লেসের নবাবি মটন

প্রথম পাতে‌ শরবতের জন্য বরাদ্দ বৈশাখী আমেজ, পাঁচমিশালি ভাজা, কলমি শাক ভাজা, পোস্তবাটা, সাদা ভাত, বাসন্তি পোলাও, হিংয়ের কচুরি, বাদশাহি ডাল, মটরশুঁটি দিয়ে আলুর দম, দি এঁচড়, পালং ছানার কোফতা, ফোর্ট উইলিয়ম খ্যাত ফিশ ফ্রাই, আলু-ঘিয়ের চপ, চিতল মাছের মুইঠ্যা, পুর ভরা আচারি লঙ্কা, ভেটকি চিংড়ি পাতুরি, নবরত্ন পাতুরি, মরিচ মুরগি, পটল পোস্ত, নবাবি মটন, ফুলকপি রোস্ট, আমের চাটনি, পাঁপড়।

এ তো গেল এলাহি পাতপেড়ে খাওয়ার বিভাগ। এর পর মিষ্টিতেও রয়েছে নানা চমক। কমলাভোগ, মিষ্টি দই, ছানার মালপোয়া, পান। সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ১২৫০। সঙ্গে কর অতিরিক্ত। সারা দিনই চলবে এমন ভোজ।

আরও পড়ুন: কলকাতার বুকে দুর্দান্ত বাঙালিখানার নতুন সন্ধান ‘চিলেকোঠা’, এদের বিশেষত্ব জানেন?

বিজলি গ্রিল: এরাও পিছিয়ে নেই এমন আয়োজনে। ফিউশন ও বাঙালি রান্নার মিশেলে পেটপুজো করতে চাইলে ঢুঁ মারতেই পারেন সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের ‘বিজলি গ্রিল’-এ। চটপটা বেবি কর্ন থেকে বাংলা কেতার মটন চপ, ভেজিটেবিল মুইঠ্যা সবই মিলবে প্রথম বিভাগে।

বিজলি গ্রিলের ফিশ ফ্রাই।

খাওয়াদাওয়ার মূল বিভাগে রাখা থাকবে শুক্তো, মুগ মোহন, বেগুনের পকোড়া, বেবি আলুর দম, পনির শাহি কোর্মা, ছ্যাঁচড়া, পাবদা লাল ঝাল, ভেটকি পাতুড়ি, বৈশাখী চিংড়ি, কষা মাংস, সাদা ভাত, বাসন্তী পোলাও, লুচি, আমের চাটনি, পাঁপড়।

মিষ্টির বিভাগ সাজানো থাকবে গোবিন্দভোগ পায়েস, মিষ্টি, আইসক্রিম কাপ, পান। দিন ও রাত সব সময়ই মিলবে এমন এলাহি খাবারদাবার। গোটা আয়োজনই মিলবে করসহ মাত্র ৯৯৯ টাকায়।

ভজহরি মান্না: আমবাঙালি উৎসবে মাতবে আর ভজহরি মান্না তাতে শামিল হবে না, তাও কী হয়! এরাও বৈশাখী থালি সাজিয়েছে এই বিশেষ দিনটার জন্য। রাজ্যের সব ক’টি আউটলেটেই মিলবে এমন নবাবি খাওয়া।

ভজহরি মান্নার  ইলিশ বরিশালি।

আমিষ ও নিরামিষ এই দুই ভাগে সাজানো হয়েছে থালি। করসহ মাত্র ৫২৫ টাকা দিয়ে মিলবে নিরামিষের বাহার। তাতে থাকছে আমপোড়া শরবত, ভাত, শুক্তো, ভাজা মুগ ডাল, কড়াইশুঁটি দিয়ে ফুলকপি, পোস্তর বড়া, ছানা-কড়াইশুঁটির কোর্মা, বাঙালি পোলাও, এঁচড়ের কালিয়া, আমের চাটনি, মিষ্টি দই, অন্তরামুখী (বিশেষ মিষ্টি) ও মিষ্টি পান।

আমিষ পাতে থাকবে আমপোড়া শরবত, ভাত, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, বাগদা চিংড়ি মালাই কারি, ইলিশ বরিশালি, বাঙালি পোলাও, কষা মাংস, আমের চাটনি, অন্তরামুখী ও মিষ্টি পান। আমিষ থালির দাম করসহ ৯২৫ টাকা।

এ ছাড়াও প্রতি দিনের আ কার্ট মেনুও মিলবে সব রেস্তরাঁতেই।

তা হলে আর দেরি কেন? পকেট আর ইচ্ছের মিশেলে চটপট পেটপুজোর ঠাঁই বেছে ফেলুন দেখি!