রোজ প্রাতরাশে কী বানাবেন, তা ভাবতেই অনেকের অনেকটা সময় চলে যায়। কর্মব্যস্ত জীবনে জলখাবার বানাতে খুব বেশি সময় ব্যয় করার উপায় নেই। তাই চটজলদি নিত্যনতুন কোন পদ বানানো যায়, ভেবেই পান না অনেকে। ছাতু কিন্তু সকালের জলখাবারে ভাল বিকল্প হতেই পারে।
একটা সময় ছাতুর শরবত, ছাতুমাখা কিন্তু প্রায়ই তৈরি হত বাড়িতে। বিকেলের মুড়িমাখায় একমুঠো ছাতুও মিশিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু দিনে-দিনে জাঙ্ক ফুডের বাহারে ছাতুর মতো উপকারী খাবারও এখন ব্যাকসিটে। রোজের ডায়েটে ফিরিয়ে আনতে পারেন ছাতুকে। ছাতুর গুণ অনেক। শরীর ভাল রাখতে, পেশির সুগঠনে, ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে, চুল পড়া কমাতেও ছাতু সহায়ক। ছাতুতে যে আয়রন থাকে, তা মহিলাদের জন্যও খুব জরুরি। তার উপরে ছাতুতে ফাইবার থাকে। কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে এর জুড়ি নেই। তবে রোজ রোজ ছাতুর শরবত খেতে মোটেও ভাল লাগে না, ছাতু দিয়ে বানিয়ে ফেলুন প্রাতরাশের ৫ রেসিপি।
ছাতুর পরিজ: প্রথমে দুধের সঙ্গে ছাতু গুলে একটি ঘন মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এ বার সেই মিশ্রণে কলা, আমন্ডকুচি, কিশমিশ, আর খেজুরের টুকরো ভাল করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ছাতুর পোরেজ।
ছাতুর ছাস: দইয়ের সঙ্গে ভাল করে ছাতু গুলে নিন। এ বার সেই মিশ্রণে বিটনুন, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতাকুচি আর লেবু মিশিয়ে নিন। সাধারণ ছাতুর শরবতের থেকে এই ছাসের স্বাদ অনেকটাই বেশি। সকাল সকাল এই প্রোবায়োটিক পানীয় খেলে হজমও ভাল হয় আর সারা দিন কাজ করার জন্য শক্তিও পাবেন।
ছাতুর চিল্লা: প্রথমে টক দইয়ের সঙ্গে ছাতু আর সামান্য সুজি মিশিয়ে রেখে দিন মিনিট দশেক। এ বার তার মধ্যে টম্যাটো, পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতাকুচি, কাঁচালঙ্কাকুচি, স্বাদ মতো নুন মিশিয়ে নিন ভাল করে। ননস্টিক তাওয়ায় সামান্য তেল মিশিয়ে মিশ্রণটি গোল গোল পরোটার আকারে সেঁকে নিন। ছাতুর চিল্লা টক দইয়ের সঙ্গে খেতে কিন্তু বেশ লাগে।
ছাতুর টোস্ট: প্রথমে ছাতুর সঙ্গে পেঁয়াজকুচি, কাঁচালঙ্কাকুচি, ধনেপাতাকুচি, লেবু, চাটমশলা আর গোলমরিচ দিয়ে মেখে নিন ভাল করে। এ বার পাউরুটির উপর একটু টম্যাটো সস্ মাখিয়ে তার উপর ছাতুর মিশ্রণ ছড়িয়ে ভাল করে টোস্ট করে নিন।
ছাতুর স্মুদি: ছাতু, দুধ, খেজুর আর কলা একসঙ্গে মিশিয়ে মিক্সিতে ভাল করে বেটে নিন। এই স্মুদি বানাতে খুব কম সময় লাগবে আর এই খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরোলে পেটও ভর্তি থাকবে অনেক ক্ষণ।