পটল, উচ্ছে, বেগুন খেয়ে একঘেয়ে হয়ে গেলেও, মিষ্টি দিয়ে রান্না করা থোড় ভাজা বেশ ভালই লাগে। ঘণ্ট, থোড়ের বড়া, ভাজা— নানা ভাবেই তা খাওয়া হয়। থোড় হল কলা গাছের কাণ্ডের নরম অংশ। এটি খেতেও ভাল, উপকারীও। তবে একই রকম রান্না বাদ দিয়ে যদি নতুন কিছু ভাবতে চান গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে একবার থোড় রান্না করে দেখুন। এই রান্না যে নতুন, তা নয়। তবে নারকেল দিয়েই ঘণ্ট খাওয়ার চল বেশি।
উপকরণ
একটি মাঝারি মাপের থোড়
১টি বড় আলু ছোট টুকরো করে কাটা
এক মুঠো গোবিন্দভোগ চাল
স্বাদমতো নুন, চিনি
আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো
১ টেবিল চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো
৬-৭টি কাঁচালঙ্কা
এক টুকরো দারচিনি
২টি ছোট এলাচ
২টি লবঙ্গ
১টি শুকনো লঙ্কা
১টেবিল চামচ গোটা জিরে
এক ইঞ্চি আদা বাটা
১টি তেজপাতা
১ চা-চামচ গরমমশলা
১টেবিল চামচ ঘি
প্রণালী: থোড় যতটা সম্ভব পাতলা এবং সরু করে কুচিয়ে নুন দিয়ে কচলে কচলে মেখে নিন। এতে থোড় নরম হয়। একটি পাত্রে অল্প হলুদ দিয়ে আর সামান্য নুন দিয়ে থোড় ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। গোবিন্দভোগ চাল জলে ভিজিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট।
কড়াইয়ে তেল দিয়ে গরম হতে দিন। একে একে যোগ করুন তেজপাতা, জিরে, শুকনো লঙ্কা, লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি। আদা বাটা দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে আলু দিন। আলু ভাজা হলে যোগ করুন গোবিন্দভোগ চাল। একে একে দিয়ে দিন নুন, হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। জলে গুলে যোগ করলে মশলা পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। মশলা কষানো হলে যোগ করতে হবে টম্যাটো। টম্যাটো গলে গেলে গোবিন্দভোগ চাল দিন। চাল দিয়ে খানিক নাড়াচাড়ার পর অল্প একটু জল দিয়ে ঢাকা দিন সেদ্ধ হওয়ার জন্য। ৭-৮ মিনিট পরে যোগ করুন থোড়। সমস্ত উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে অল্প একটু গরম জল যোগ করে, আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিন। ছড়িয়ে দিন কয়েকটি চেরা কাঁচালঙ্কা। তারপর আবার খুন্তি দিয়ে সব উপকরণ মিশিয়ে দিন। স্বাদ অনুযায়ী চিনি দিন। চাল, থোড়, আলু সেদ্ধ হয়ে মাখো মাখো হয়ে এলে ঘি-গরমমশলা দিয়ে নামিয়ে দিন। গরম ভাতে এই রান্না দারুণ লাগবে।