বরফের টুকরো ফেলা এক গ্লাস ঠান্ডা কফি। এক চুমুকেই শরীর জুড়িয়ে যায়। গরমের দিনে এই পানীয়ের কোনও তুলনা নেই। সেই সঙ্গে কারও আবার শুরু হয় দুশ্চিন্তাও। এই যে সকালে উঠে ঘণ্টাখানেক জিমে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা, সবই তো বিফলে যাবে। ‘কোল্ড কফি’ মানেই ক্রিম দেওয়া দুধ, একগাদা চিনি, তার উপর আইসক্রিমের ছোঁয়া। ভরপুর ক্যালোরি। এক দিকে ওজন কমানোর তীব্র চেষ্টা অন্য দিকে কোল্ড কফির প্রতি গভীর প্রেম— ওজন ঝরানোর সময়ে এমন দোটানায় পড়তে হয় মাঝেমধ্যেই। তবে ওজন কমাতে চাইছেন বলে কি ঠান্ডা কফিতে চুমুকই দেবেন না! তা কেন? বরং জেনে নিন, কোন কোন উপায়ে ‘কোল্ড কফি’র ক্যালোরি কমানো যায়।
কোল্ড কফি খেয়েও ওজন কমবে, শুধু বানানোর পদ্ধতিতে আনতে হবে কিছু বদল। ডাবের জল দিয়েই বানিয়ে নিতে পারেন কোল্ড কফি। ডাব দিয়ে কোল্ড কফি বানানোর জন্য প্রথমে একটি বড় গ্লাসে ডাবের জল নিন। টাটকা ডাবের জল না পেলে প্যাকেটজাত ডাবের জলও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেই জলে যেন চিনি না থাকে। এ বার তাতে কফিগুঁড়ো আর স্টিভিয়া মেশান। গুড়, চিনি বা মধু মেশানো চলবে না। একটি কাপে অল্প নারকেলের জল আর কফি নিয়ে খুব ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এর জন্য মিল্ক ফ্রদারের সাহায্য নিতে পারেন। মিশ্রণটিতে ফেনা উঠলে তার সঙ্গে বরফ, ৫০ মিলিলিটার ডবল টোন্ড দুধ, পরিমাণমতো কফি আর স্টিভিয়া মেশানো ডাবের জল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কোল্ড কফি।
গরমের সময়ে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বাড়ে। তাই শরীর চাঙ্গা রাখতে বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তার পাশাপাশি এই সময়ে চা, কফি কম খাওয়ার কথাও বলা হয়। অথচ ডাবের জল দিয়ে কোল্ড কফি বানিয়ে খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে, এর পাশাপাশি শরীর তরতাজাও লাগে। এই পানীয়ে ক্যালোরির পরিমাণ সাধারণ কোল্ড কফির থেকে অনেকটাই কম। এতে ফুল ফ্যাট দুধ নেই, আইসক্রিম নেই, চকোলেট নেই— তবুও এর স্বাদ বেশ ভাল, সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যকরও বটে।