এ চড়কি বাজি নয়, যে আগুন ধরালেই বনবনিয়ে ঘুরবে। আরও এক ধরনের হাওয়া চড়কি পাওয়া যেত মেলায়। বেলুনওয়ালাদের হাতে থাকত রঙিন কাগজের ওই ঘূর্ণি। সরু সরু সেই কাগজে ফাঁক দিয়ে হাওয়া বইলেই চড়কিপাক ঘুরত রঙিন চাকা। দেখে চনমনিয়ে উঠত শিশুরা। তেমনই চড়কির পাক রয়েছে এই পরোটাতেও। সম্ভবত সেই জন্যই নাম পিনহুইল পরোটা বা চড়কি পরোটা।
এ পরোটা সম্পূর্ণ নিরামিষ। পেঁয়াজ-রসুন বর্জিত। আর স্বাস্থ্যকরও। কারণ এটি তৈরি হয় আটা দিয়ে। থাকে নানা রকমের স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়ক মশলা। ভাজাও হয় ঘিয়ে।
মজার ব্যাপার হল এই পরোটা নিরামিষ দিনে পেট ভরানো খাবার যেমন হতে পারে, তেমনই হতে পারে বিকেলের জলখাবারও। ছোট ছোট মাপ। দু’আঙুলের ডগায় ধরে সস্ কিংবা বাড়িতে বানানো চাটনিতে ডুবিয়ে খাওয়ার মতো মুখরোচক, মুচমুচে।
কী ভাবে বানাবেন?
একটু বড় করে লেচি কাটলে আর বেলে নিলে ছোট ছোট পরোটার মতোই লাগবে।
উপকরণ:
১ কাপ আটা
২-৩টি সেদ্ধ আলু
২টি কাঁচালঙ্কা কুচি
১/৪ কাপ ধনেপাতা অথবা ১ টেবিল চামচ কসুরি মেথি
আধ চা চামচ গরম মশলা
আধ চা চামচ লঙ্কাগুঁড়ো
আধ চা চামচ ধনেগুঁড়ো
আধ চা চামচ জিরেগুঁড়ো
আধ চা চামচ জোয়ান
এক চা চামচ আমচুর
১ টেবিল চামচ লেবুর রস
স্বাদ মতো নুন
অল্প ঘি
ভাজার জন্য পছন্দের তেল
আরও পড়ুন:
প্রণালী:
একটি বাটিতে আটা, নুন, জোয়ান, সামান্য তেল মিশিয়ে ভাল ভাবে মেখে নিন। তারপরে একটি ভিজে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন মিনিট ২০।
এর পরে পুর তৈরি করুন। সেদ্ধ আলু, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা (দিলে) আমচুর, লেবুর রস এক সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োজন মতো নুন দিয়ে (আটামাখাতেও নুন আছে, সেটা খেয়াল করে মেশাতে হবে) ভাল ভাবে মেখে নিন।
কড়াইয়ে অল্প ঘি গরম করে তাতে জিরেগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো সামান্য নেড়ে নিয়ে আলু মিশ্রণটি দিয়ে দিন। ওর মধ্যে দিন লঙ্কাগুঁড়ো, গরমমশলা। একটু নাড়াচাড়া করে কড়াই থেকে আলু ছেড়ে এলে উপরে কসুরি মেথি (দিলে) ছড়িয়ে আরও এক বার নেড়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে পুর।
এ বার আটা বেলে গোল পাতলা লেচি বানান। তার উপর পুর গোল করে ছড়িয়ে দিন। এর পরে পুর সমেত লেচি রোলের মতো করে পাকিয়ে শেষ প্রান্তটি চেপে বন্ধ করে দিন।
একটি ছুরি দিয়ে ওই রোল থেকে কেটে নিন পরোটার ছোট লেচি। তার পরে সেগুলিকে অল্প মোটা মোটা করে বেলে নিয়ে তেলে বা ঘিয়ে ভেজে নিতে হবে। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে পিনহুইল আলু পরোটা।