মহারাষ্ট্রে সন্ধান মিলল এক নতুন প্রজাতির আরশোলার। এত দিন কোনও নাম-পরিচয় ছাড়াই এরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে। এ বার পতঙ্গদের মাঝে পরিচিতি পেল তারা। ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানীরা এর নাম রেখেছেন ‘নিওলোবোপ্টেরা পেনিনসুলারিস’।
ভারতে এর আগেও বিভিন্ন প্রজাতির আরশোলার সন্ধান মিলেছে। তবে এই আবিষ্কারটি উল্লেখযোগ্য। কারণ, এই প্রথম বার আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনও আরশোলার প্রজাতি চিহ্নিত করা হল এ দেশে। তা ছাড়া এই নিয়ে নিওলোবোপ্টেরা গণের তৃতীয় কোনও প্রজাতির আরশোলার আবিষ্কার হল ভারত থেকে। এর আগে দু’টি প্রজাতির সন্ধান মিলেছিল ১৮৬৫ সালে এবং ১৯৯৫ সালে।
প্রাণী সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানীদের কাছে এই কাজটি ছিল দৃশ্যতই খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতো। পুণের নাথাচিওয়াড়ি এলাকায় গবেষণা চালাচ্ছিলেন প্রাণী সর্বেক্ষণের পুণে এবং চেন্নাই দফতরের বিজ্ঞানীরা। দাক্ষিণাত্য মালভূমির কৃষিজমিতে, তালগাছের নীচে এবং ঝরা পাতার স্তূপের মধ্যে কীটপতঙ্গের খোঁজ শুরু হয়েছিল। সেই সময়েই এই নতুন প্রজাতির আরশোলার সন্ধান পান তাঁরা। ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানীদের অনুমান, হাজার হাজার বছর ধরে এই প্রজাতিটি রয়েছে দাক্ষিণাত্যের মালভূমিতে। তা-ও কোনও বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি (নামকরণ) ছাড়াই। এই নিয়ে ভারতে আরশোলার ১৯০টি প্রজাতির সন্ধান মিলল। যা গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া আরশোলা প্রজাতির প্রায় ৩.৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
নিওলোবোপ্টেরা গোত্রের আরশোলাদের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে এত দিন ভারতে খুব বিশদে নাড়াচাড়া হয়নি। এর অন্যতম কারণ, এর আগে এই গণের মাত্র দু’টি প্রজাতি আবিষ্কার হয়েছিল। ফলে এদের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশদ গবেষণার সুযোগও ছিল সীমিত। এ বার নতুন প্রজাতির আবিষ্কার সেই ‘সীমা’কে আরও কিছুটা প্রশস্ত করল বলেই মনে করা হচ্ছে।