চেন্নাই সিটি এফসি-র তিকিতাকা থামাতে ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস গার্সিয়ার অস্ত্র কি এ বার ডায়মন্ড সিস্টেম?

 শনিবার সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন মাঠে চেন্নাই ম্যাচের মহড়ায় প্রয়াত অমল দত্তকে মনে করালেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ। এ দিন যখন ওয়ার্ম আপ করছিলেন জবি জাস্টিনরা, ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোদার মাঠের বিভিন্ন অংশে ম্যানিকুইন (পুতুল) সাজিয়ে রাখছিলেন। চেন্নাই সিটি এফসি-র কোচ আকবর নওয়াজ যে ছকে দল সাজান, ঠিক সেভাবেই ম্যানকুইনগুলো রাখছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ফিজিয়ো। এর পরেই প্রায় আধ ঘণ্টা ডায়মন্ড সিস্টেমে ম্যাচ অনুশীলন করান আলেসান্দ্রো। 

লাল-হলুদ কোচ দল সাজিয়েছিলেন ৪-৪-২ ছকেই। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জনি আকোস্তা ও বোরখা গোমেস। ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় লালরাম চুলোভার পরিবর্তে রাইট ব্যাক পজিশনে খেলান সামাদ আলি মল্লিককে। লেফ্ট ব্যাক মনোজ মহম্মদ। মাঝমাঠে লালরিন্দিকা রালতে, কাশিম আইদারার সঙ্গে খাইমে সান্তোস কোলাদো। সামনে জবি জাস্টিন ও আন্তোনিয়ো রদ্রিগেস দোভাল (টোনি)। কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার পরেই দেখা গেল অন্য ছবি। জবি, টোনি, খাইমে ও ডিকাদের সঙ্গে পাস খেলতে খেলতে আক্রমণে উঠছেন দুই সাইডব্যাকও। আবার প্রতিপক্ষ যখন পাল্টা আক্রমণ করছে, তখন বোরখাদের সাহায্য করতে জবিরা নেমে আসছেন রক্ষণে। পরীক্ষা করলেন সদ্য যোগ দেওয়া মিডফিল্ডার সিয়াম হাঙ্গালকেও। দলের সঙ্গে আজ রবিবার সকালে কোয়েম্বত্তূরেও যাচ্ছেন তিনি। 

তবে অমল দত্তের ডায়মন্ড সিস্টেমের সঙ্গে যদিও পার্থক্য রয়েছে মেনেন্দেসের। ৩-৫-২ ছকে মোহনবাগানকে খেলাতেন তিনি। লাল-হলুদ কোচ অবশ্য ডায়মন্ড সিস্টেম ব্যবহার করছেন ৪-৪-২ ছকে দলকে খেলিয়ে। 

নব্বইয়ের দশকে অমল দত্তের ডায়মন্ড সিস্টেম আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল ভারতীয় ফুটবলে। তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিলেন বাসুদেব মণ্ডল। ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়কের নেতৃত্বেই মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের ঝড় উঠত। বাসুদেব বলছিলেন, ‘‘অমলদা আক্রমণাত্মক ফুটবলের উপরেই বেশি জোর দিয়েছিলেন। তাই দল সাজিয়েছিলেন ৩-৫-২ ছকে। অর্থাৎ, মাঝমাঠে পাঁচ জন ফুটবলার থাকবে। কিন্তু এই রণকৌশলের প্রধান সমস্যা হল রক্ষণের উপর চাপ বেশি পড়ে। তাই সময় মতো মিডফিল্ডাররা রক্ষণে নেমে আসতে না পারলেই বিপদ।’’

আলেসান্দ্রোর তুরুপের তাস ডিকা। লাল-হলুদের এই মিডফিল্ডার খেলা তৈরির পাশাপাশি, রক্ষণে নেমে সাহায্য করছিলেন জনিদের। ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ১-২ হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষের তিকিতাকা ফুটবলই ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিলেন। তাই ন্যূনতম ঝুঁকিও নিতে রাজি নন আলেসান্দ্রো। বিপক্ষের ফুটবলারেরা যখন আক্রমণে উঠছিলেন, তখন বারবার জবি, টোনিদের রক্ষণে নেমে আসার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। 

অনুশীলন শেষ হওয়ার পরে আলেসান্দ্রো অবশ্য চেন্নাই ম্যাচে রণকৌশল কী হবে তা গোপনই রাখলেন। বললেন, ‘‘চেন্নাই সিটি এফসির আসল শক্তি আক্রমণাত্মক ফুটবল। কঠিন ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি আমরা।’’ আই লিগ টেবলের শীর্ষে থাকা দলকে নিয়ে কি উদ্বেগ বাড়ছে লাল-হলুদ কোচের? আলেসান্দ্রোর হুঙ্কার, ‘‘আমরা ম্যাচটা জিততেই যাচ্ছি।’’ এর পরেই যোগ করেন, ‘‘চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে। এই ম্যাচের জন্য প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। সোমবার জিতলে পয়েন্ট টেবলে উপরের দিকে উঠে আসব। আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।’’

অমল দত্ত ভারতীয় ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েও ব্যর্থতার দায় নিয়ে মরসুমের মাঝপথে সরতে বাধ্য হয়েছিলেন। আলেসান্দ্রো সফল হবেন কি না, তা সময়ই বলবে।