ভারতের প্রাক্তন জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার নিখাত জ়ারিন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসলেন কিংবদন্তি ভারতীয় বক্সার মেরি কমকে। তিনি চান পরের বছর অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার্সের আগে মেরির বিরুদ্ধে ট্রায়াল লড়াই লড়তে। এই দাবি লিখিত ভাবে জ়ারিন পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে। তাঁর দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অলিম্পিক্স শুটিংয়ে সোনাজয়ী অভিনব বিন্দ্রা টুইট করেছেন, ‘‘মেরি কমের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, যে কোনও খেলোয়াড়কে তার নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। বুঝিয়ে দিতে হয়, আগের মতোই সে সেরা জায়গায় আছে। এমনকি আগের থেকে ভাল জায়গায় আছে বোঝানোটাও জরুরি। খেলায় অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে তার কোনও মূল্য নেই।’’

রাশিয়ায় সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে মেরি ৫১ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পান। এই বিভাগেই বিশ্ব আসরে নামতে চেয়েছিলেন জ়ারিন। দল নির্বাচনের আগে তখনও ট্রায়ালের দাবি পেশ করেন। যা গ্রাহ্য করেনি বক্সিং ফেডারেশন। ধারাবাহিক ভাল পারফরম্যান্স করায় মেরিকেই স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে পাঠানো হয়। এ বারও সেই একই দাবি পেশ করার পাশাপাশি জ়ারিন টুইটারে লিখেছেন, ‘‘ন্যায্য সুযোগ চাই। কিন্তু যে বিভাগে ট্রেনিং নিচ্ছি তার জন্য আমাকে লড়াই করার সুযোগই দেওয়া হয়নি। খেলাধুলোটা কিন্তু অসততার জায়গা নয়।’’

অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার্সে মেরিকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত এক রকম নিয়ে ফেলেছে জাতীয় বক্সিং সংস্থা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর ব্রোঞ্জ জেতার স্বীকৃতি হিসেবে। আগে ঠিক ছিল, বিশ্ব আসরে যাঁরা সোনা বা রুপো জিতবেন তাঁদেরই যোগ্যতা অর্জনের টুর্নামেন্টে পাঠানো হবে। মেরির ক্ষেত্রেই নিয়মের ব্যতিক্রম হচ্ছে। 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জ়ারিন লিখেছেন, ‘‘খেলার মূলমন্ত্র ‘ফেয়ার প্লে’। যত বার সুযোগ পাব তত বারই যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করব। অলিম্পিক্সের সোনাজয়ীকেও নিজের দেশে ট্রায়াল দিতে হয়।’’ জ়ারিনের আরও বক্তব্য, ‘‘ছোট থেকে মেরি কমই প্রেরণা। ওঁর মতো মহান বক্সার হতে চাই। মেরি কিংবদন্তি। আশা করি ট্রায়ালের ডাকে উনি সাড়া দেবেন।’’ বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে  অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার্সে সরাসরি পাঠাচ্ছে ব্রোঞ্জজয়ীদের। জ়ারিন বলেছেন, ‘‘এটা কেন হবে? অলিম্পিক্স সাঁতারে ২৩টি সোনা আছে মাইকেল ফেলপ‌সের। তবু তাঁকে প্রতিবার নিজের দেশে ট্রায়াল দিতে হয়। অন্য দেশেও এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা উচিত।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘আশা করি ক্রীড়ামন্ত্রী আমার দাবির যৌক্তিকতা বুঝবেন এবং সেই মতো ফেডারেশনকে নির্দেশ দেবেন।’’