শ্রীলঙ্কার মাটিতে চমক দেখানো জ়িম্বাবোয়েকে পাওয়া গেল না ভারতের মাটিতে প্রথম ম্যাচে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে ১০৭ রানে হেরে গেলেন সিকন্দর রাজারা। ভারতের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে জ়িম্বাবোয়ে শিবিরের উদ্বেগ বাড়াল অধিনায়কের আঙুলের চোটও। প্রথমে ব্যাট করে শিমরন হেটমায়ারের দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় করে ৬ উইকেটে ২৫৪। জবাবে জ়িম্বাবোয়ের ইনিংস শেষ হল ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানে । সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিতে চাপে থাকা সূর্যকুমার যাদবদের চিন্তা বাড়িয়ে দিলেন সাই হোপেরা।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন রাজা। ওয়াংখেড়ের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে তান্ডব চালালেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটারেরা। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংসের শুরুটা ভাল হয়নি। দ্রুত আউট হয়ে যান দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং (৯) এবং অধিনায়ক হোপ (১৪)। ৫৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের রাশ তুলে নেন তিন নম্বরে নামা হেটমায়ার এবং রভম্যান পাওয়েল। অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে প্রায় নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া করলেন হেটমায়ার। ৩৪ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন তিনি। মারলেন ৭টি চার এবং ৭টি ছক্কা। ১৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন হেটমায়ার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্রুততম অর্ধশতরান।
হেটমায়ার চালিয়ে খেলার সময় ২২ গজের অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন পাওয়েল। হেটমায়ার আউট হওয়ার পর তিনিও মারতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। ৪টি চার এবং ৪টি ছয় মেরেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান ২৫০ পেরোতে সাহায্য করলেন শারফেন রাদারফোর্ড এবং রোমারিয়ো শেফার্ড। রাদারফোর্ড ৩টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১০ বলে ২১ করেন শেফার্ড। ২টি ছয়ের সাহায্যে ৪ বলে ১৩ রান করেন জেসন হোল্ডার। শেষ পর্যন্ত ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস শেষ হয় ৬ উইকেটে ২৫৪ রানে।
জ়িম্বাবোয়ের কোনও বোলারই ক্যারিবিয়ান আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন ব্লেসিং মুজ়ারাবানি। ৪৭ রানে ২ উইকেট রিচার্ড নারাভার। ৪৬ রানে ১ উইকেট নেন ব্র্যাড ইভান্স। ৩৮ রানে ১ উইকেট গ্র্যামি ক্রিমারের। রাজা ৩ ওভারে ৫২ রান দিলেও উইকেট পাননি। নিজের বলে পাওয়েলের শট আটকাতে গিয়ে বাঁহাতের আঙুলে চোট পেলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ২৫৪ রান এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনও দলের সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এই রান। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আবার এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৯টি ছয় মেরেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে এটাই সবচেয়ে বেশি ছয় মারার নজির। তবে এই কৃতিত্ব ক্যারিবিয়ানদের একার নয়। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসও ১৯টি ছয় মেরেছিল আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
ক্যারিবিয়ানদের একগুচ্ছ নজিরের সামনে তেমন প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না জ়িম্বাবোয়ে। জয়ের জন্য ২৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই উইকেট হারাতে শুরু করে জ়িম্বাবোয়ে। তাদিওয়ানাশে মারুমানি (১৪), ব্রায়ান বেনেট (৫), রায়ান বার্ল (০) পর পর আউট হয়ে যান। কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন ডিয়ন মেয়ার্স (১৫ বলে ২৮) এবং রাজা (২০ বলে ২৭)। কিন্তু তাঁদের ওই চেষ্টা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য ছিল। জ়িম্বাবোয়ের বাকি ব্যাটারেরাও বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ব্যাটিং বিপর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে কিছুটা দর্শন মনোরঞ্জন করলেন সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইভান্স। তাঁর ২১ বলে ৪৩ রানের ইনিংসের সুবাদে কিছুটা ভদ্রস্থ দেখাল জ়িম্বাবোয়ের ইনিংসকে। তাঁর ব্যাট থেকে এল ২টি চার এবং ৫টি ছক্কা। শেষ উইকেটে নাভারাকে (অপরাজিত ৭) নিয়ে যোগ করলেন ৪৪ রান।
আরও পড়ুন:
গুডাকেশ মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সফলতম বোলার। ২৮ রানে ৩ উইকেট আকেল হোসেনের। ২৭ রানে ২ উইকেট ম্যাথু ফোর্ডের। ২৫ রানে ১ উইকেট হোল্ডারের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়-জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের পর সুপার এইট গ্রুপ ওয়ানে নেট রান রেটের নিরিখে শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তাদেরও ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের নেট রান রেট ৫.৩৫০। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩.৮০০। ভারত এবং জ়িম্বাবোয়ের সংগ্রহে কোনও পয়েন্ট নেই। নেট রান রেট ভাল থাকায় তৃতীয় স্থানে সূর্যেরা। গত বারের চ্যাম্পিয়নদের সেমিফাইনালে উঠতে হলে জ়িম্বাবোয়েকে বড় ব্যবধানে হারাতেই হবে। পাশাপাশি জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধেও।