পোর্ট অব স্পেনে ভারতের দাপট। অধিনায়ক বিরাট কোহালির শতরানে ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতে ছয় উইকেটে তৃতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয় ভারত। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর একদিনের সিরিজেও কোনও ম্যাচ জিততে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ পকেটে পুরলেন বিরাট কোহালিরা। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতালেন বিরাট। সিরিজে দুই সেঞ্চুরি করে সিরিজ সেরাও হলেন তিনিই।

তবে দিনের শুরুতে ছবিটা ছিল খানিক আলাদা। টস জিতে ব্যাটিং নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। খেলা শুরুর সময় পোর্ট অব স্পেনের পিচ দেখে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এ যেন ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ রাজ্য। ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেল ও ওপেনার এভিন লুইস যে ভাবে শুরু করেছিলেন তাতে সেটাই মনে হচ্ছিল। ক্রিস গেলের ব্যাট কথা বললে মনে হয় ক্রিকেট খেলাটা যেন কত সহজ।প্রথম দশ ওভারে গেলরা তোলেন বিনা উইকেটে ১১৪ রান। সেই সময় মনে হচ্ছিল আজ হয়তো ৩৫০-র ওপরে রান তাড়া করতে হবে বিরাটদের। ভুবনেশ্বর কুমার ও মহম্মদ শামিকে তখন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিচ্ছে গেল ঝড়। সেই ঝড় থামালেন যুজবেন্দ্র চাহাল। তিনি ফেরালেন লুইসকে (২৯ বলে ৪৩ রান) আর তার পরের ওভারেই খলিল আহমেদের বলে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে গেলকে (৪১ বলে ৭২ রান) ফেরান কিং-কোহালি। গেল আউট হতেই পুরো ভারতীয় দল এসে তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে যান। গেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরাট আবার তাঁদের নাচের ভঙ্গিমাও করেন। মাঠ ছেড়ে বেরনোর সময় হেলমেট ব্যাটের ওপরে নিয়ে দর্শকদের অভিবাদনও গ্রহণ করেন গেল। তাঁর এই ভঙ্গি দেখে অনেকেই মনে করেন,কেরিয়ারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ বোধ হয় খেলে ফেললেন তিনি। তবে নাম যখন গেল, চমক তো থাকবেই। খেলা শেষে জানিয়ে দিলেন এখনই অবসর নিচ্ছেন না তিনি। তবে তিনি ছাড়া যে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং-এ এখনও ভরসাযোগ্য নাম তৈরি হয়নি, তারও প্রমাণ পাওয়া গেল এই ম্যাচেই। তিনি ফিরতেই দাপট শেষ ক্যারিবিয়ান দৈত্যদের। শেষ দিকে নিকলস পুরান ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস না খেললে হয়তো আরও কম রানেই শেষ হয়ে যেত ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ ৫০ ওভার থেকে কমে হয় ৩৫-এর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই নির্দিষ্ট সময়ে সাত উইকেট হারিয়ে তোলে ২৪০। ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ভারতের টার্গেট দাঁড়ায় ৩৫ ওভারে ২৫৫। সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়। রোহিত শর্মা (৬ বলে ১০ রান) ফিরে যান তৃতীয় ওভারেই। এরপর শিখর ধওয়নকে (৩৬ বলে ৩৬ রান) সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়েন কোহালি। সেই জুটি দ্রুত রান তুললেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৩ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। প্রথম বলেই আউট হয়ে বিপদ বাড়ান বহু আলোচিত ঋষভ পন্থ। এরপরেই আবার যেন আগের ম্যাচের রিপিট টেলিকাস্ট। ধীরে ধীরে ভারতের দিকে ম্যাচ ঘোরান শ্রেয়াস আইয়ার (৪১ বলে ৬৫ রান) ও বিরাট কোহালি (৯৯ বলে ১১৪ নটআউট) । একদিনের ম্যাচে নিজের ৪৩তম শতরান করেন কোহালি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে সফরকারী দলের খেলোয়াড় হিসেবে করেন সব থেকে বেশি শতরানের রেকর্ড (চারটি) । ভেঙে দেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেডেনের রেকর্ড। অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি শতরানের রেকর্ড থেকে আর মাত্র দু’টি সেঞ্চুরি দূরে তিনি। সামনে শুধু রিকি পন্টিং। এবং বুধবারের এই শতরানের মধ্যে দিয়ে তিনি সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে একটি দেশের বিরুদ্ধে সর্বাধিক শতরানের রেকর্ডটিও ছুঁয়ে ফেলেন।

আরও পড়ুন: গেল কি শেষ ম্যাচ খেললেন, চলছে জল্পনা

আরও পড়ুন: ঝুলনদের নতুন কোচ শিবশঙ্কর

টি-টোয়েন্টি ও একদিনের সিরিজও হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার বাকি টেস্ট সিরিজ। ২২ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজে আবার ফিরবেন যশপ্রীত বুমরাহ। ভারতের টেস্ট বিশ্বকাপের পথ চলা শুরু হবে সেদিন থেকেই। সেই দিকেও ভাল কিছুর জন্য নজর থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের।