আরও একটা বিরাট কোহালি ‘স্পেশাল’। আরও একটা সিরিজ জয় ভারতের। ভারত অধিনায়কের ৪৩তম ওয়ান ডে সেঞ্চুরির সৌজন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ান ডে ছয় উইকেটে জিতে নিল ভারত। একই সঙ্গে ওয়ান ডে সিরিজ জিতল ২-০ ফলে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছিল ভারত।

কোহালির (৯৯ বলে অপরাজিত ১১৪) সঙ্গে আবারও ম্যাচ জেতানোর পিছনে বড় ভূমিকা নিলেন শ্রেয়স আইয়ার (৪১ বলে ৬৫)। যার পরে এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে বড় সার্টিফিকেট দিয়ে গেলেন স্বয়ং ভারত অধিনায়ক। কোহালি বলে দিলেন, শ্রেয়সকে দেখে তাঁর নিজের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ‘‘আমি যখন ভারতীয় দলে প্রথম সুযোগ পাই, তখন ঠিক শ্রেয়সের মতোই ছিলাম। একটা সুযোগ পেলেই চাইতাম দেশকে জিতিয়ে ফিরতে। চাইতাম, পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে, প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে। চাপের মুখে খুব সাহসী ইনিংস খেলেছে শ্রেয়স,’’ বলেছেন ভারত অধিনায়ক।   

প্রথম ওয়ান ডে বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। দ্বিতীয় ওয়ান ডে-তে শ্রেয়সের ব্যাট থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৬৮ বলে ৭১। বুধবার পোর্ট অব স্পেনে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমে গিয়ে ৩৫ ওভারের দাঁড়ায়। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে সাত উইকেটে ২৪০। ৪১ বলে ৭২ করেন ক্রিস গেল। এর পরে ব্যাট করতে নেমে ৯২ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। দুই ওপেনার রোহিত শর্মা (১০) এবং শিখর ধওয়ন (৩৬) ফিরে যাওয়ার পরে প্রথম বলে আউট হয়ে যান ঋষভ পন্থ। যার পরে ম্যাচ ধরে নেন কোহালি এবং শ্রেয়স। 

বিশ্বকাপের পরে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়ার চেষ্টায় রয়েছে ভারত। কোহালির কথায় পরিষ্কার, মিডল অর্ডারের জন্য ঠিক ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। কোহালি বলেছেন, ‘‘নিজের কাজটা ঠিক বুঝে নিয়েছে শ্রেয়স। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করছে। আশা করব, ও এই ভাবে খেলে যেতে পারবে। ভারতীয় মিডল অর্ডারের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠতে পারে শ্রেয়স।’’ 

কোহালি আরও বলেছেন, ‘‘দু’বারই আমার সঙ্গে ব্যাট করেছে শ্রেয়স। ওকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, একটুও ভয় পায়নি। নিজের খেলার প্রতি পুরোপুরি আস্থা আছে। শ্রেয়সকে দেখে কোনও সময় মনে হয়নি ও আউট হতে পারে।’’ 

পাশাপাশি ভারত অধিনায়ক এও জানিয়েছেন, অভিজ্ঞতা তাঁকে চাপের মুখে ভাল খেলতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার তো বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চাপের মুখে অভিজ্ঞতা খুব কাজে দেয়। খেলাটা কোন দিকে গড়াচ্ছে, কোন অবস্থায় কী ভাবে খেলতে হবে— এ সবই অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শিখর আর রোহিত ভারতের হয়ে দারুণ, দারুণ সব ইনিংস খেলেছে। ওদের দু’জনের কেউ না কেউ বড় রান করে দেয়। আর সেটা যখন না হয়, তখন আমার উপরে দায়িত্ব পড়ে বড় ইনিংস খেলার। আমি যখনই দলের জন্য কিছু করতে পারি, গর্বিত হই।’’

বুধবার ব্যাট করার সময় কেমার রোচের বাউন্সারে হাতে চোট পান কোহালি। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে আঘাত লাগে। তখনই ফিজিয়ো মাঠে নেমে শুশ্রূষা করেন কোহালির। ম্যাচে পরে আঙুল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোহালি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না আঙুল ভেঙেছে। তা হলে আর ব্যাট করতে পারতাম না। নখটা ফেটে গিয়েছে শুধু। মনে হয় না, প্রথম টেস্ট খেলতে সমস্যা হবে।’’

স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ                      ২৪০-৭ (৩৫)
ভারত                               ২৫৬-৪ (৩২.৩)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গেল ক কোহালি বো খলিল           ৭২•৪১
লিউইস ক ধওয়ন বো চহাল           ৪৩•২৯
হোপ বো জাডেজা                        ২৪•৫২
হেটমায়ার বো শামি                      ২৫•৩২
পুরান ক মণীশ বো শামি               ৩০•১৬
হোল্ডার ক কোহালি বো খলিল      ১৪•২০
ব্রাথওয়েট ক পন্থ বো খলিল          ১৬•১৪
অ্যালেন ন. আ.                              ৬•৭
পল ন. আ.                                     ০•০
অতিরিক্ত                                           ১০
মোট                                            ২৪০-৭ (৩৫)
পতন: ১-১১৫ (লিউইস, ১০.৫), ২-১২১ (গেল, ১১.৪), ৩-১৭১ (হেটমায়ার, ২৪.৫), ৪-১৭১ (হোপ, ২৫.৪), ৫-২১১ (পুরান, ৩০.১), ৬-২২১ (হোল্ডার, ৩২.৫), ৭-২৩৬ (ব্রাথওয়েট, ৩৪.৪)। 
বোলিং: ভুবনেশ্বর কুমার ৫-১-৪৮-০, মহম্মদ শামি ৭-১-৫০-২, খলিল আহমেদ ৭-০-৬৩-৩, যুজবেন্দ্র চহাল ৭-০-৩২-১, কেদার যাদব ৪-০-১৩-০, জাডেজা ৫-০-২৬-১।

ভারত
রোহিত রান আউট অ্যালেন            ১০•৬
ধওয়ন ক পল বো অ্যালেন           ৩৬•৩৬
কোহালি ন. আ.                         ১১৪•৯৯
পন্থ ক পল বো অ্যালেন                  ০•১
শ্রেয়স ক হোল্ডার বো রোচ           ৬৫•৪১
কেদার ন. আ.                              ১৯•১২
অতিরিক্ত                                            ১২
মোট                                        ২৫৬-৪ (৩২.৩)
পতন: ১-২৫ (রোহিত, ২.৪), ২-৯১ (ধওয়ন, ১২.২), ৩-৯২ (পন্থ, ১২.৪), ৪-২১২ (শ্রেয়স, ২৮.২)। 
বোলিং: কেমার রোচ ৭-০-৫৩-১, জেসন হোল্ডার ৪-০-৩৯-০, কিমো পল ৫-০-৩৯-০, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ৬-০-৪০-২, রস্টন চেজ ৭-০-৪৩-০, কার্লোস ব্রাথওয়েট ৩.৩-০-৩৮-০।