ঝাঁকরা সাদা-কালো চুল। ছোটখাটো চেহারার পেস বোলার। নিষ্পাপ মুখ। অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন। এই পর্যন্ত বললেই বোঝা যায়, কার কথা বলা হচ্ছে। লসিথ মালিঙ্গা। আসন্ন এশিয়া কাপ কি শ্রীলঙ্কার এই মহা তারকার প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হয়ে উঠবে? 

শ্রীলঙ্কার কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের আর এক বছরও বাকি নেই। এই অবস্থায় মালিঙ্গা যে ফিটনেসের দিক থেকে আগের জায়গায় ফিরে এসেছেন, সেটাই জানিয়ে দিলেন হাতুরাসিংহে। শনিবার যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে খেলবেন, তাও জানিয়ে দিতে ভুললেন না। গত বছর সেপ্টেম্বরে শেষ ওয়ান ডে খেলেছিলেন। অর্থাৎ এক বছর পরে তাঁকে ফের দেখা যাবে শ্রীলঙ্কার জার্সি গায়ে। কিন্তু আগের মতোই বিধ্বংসী মেজাজে কি পাওয়া যাবে তাঁকে? 

কোচ বলছেন, ‘‘এই প্রতিযোগিতায় মালিঙ্গা আমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে বেশ মানিয়ে যাবে। ও বিশ্বের সেরা ডেথ বোলারদের অন্যতম। সম্প্রতি কয়েকটা ম্যাচে ও যথেষ্ট ভাল বল করেছে। ফিটও আছে যথেষ্ট।’’ তবে ৩৫ বছর বয়সি এই পেসারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আগামী ন’মাস এই ফিটনেস ধরে রাখা। ন’মাস পরেই তো বিশ্বকাপ। তিনটি বিশ্বকাপে ২২টি ম্যাচ থেকে ৪৩টি উইকেট পাওয়া মালিঙ্গা চতুর্থ বিশ্বকাপে নামতে পারবেন কি না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। 

গত দু’বছর ধরে চোট সমস্যায় জর্জরিত মালিঙ্গা। পায়ের নানা চোটের জন্য ২০১৬ থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিয়মিত। সে বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও সরে দাঁড়ান চোটের জন্যই। ২০১৫-র নভেম্বর থেকে ২০১৭-র জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচের আগে পর্যন্ত একটিও ওয়ান ডে খেলতে পারেননি তিনি। ফিরে আসার পরেও যে আগের মালিঙ্গাকে পাওয়া গিয়েছে, তাও না। তাঁর স্লোয়ারগুলি যেমন আগের মতো বিপজ্জনক ছিল না, তেমনই ইয়র্কারের সংখ্যাও ক্রমশ কমে যায়। গত দু’বছরে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং উপদেষ্টা হওয়ার জন্য তিনি শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটে না খেলার সিদ্ধান্ত নেন বলে ক্রিকেট কর্তারা তাঁকে খুব একটা ভাল চোখে দেখেননি। যার ফলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট থিলঙ্গা সুমথিপালা বলেই দেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে না খেললে মালিঙ্গাকে জাতীয় দলে নেওয়া হবে না। কোচও সেই রায়ে সায় দেন। 

কানাডায় টে-টোয়েন্টি লিগে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স দেখান মালিঙ্গা। তবু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দলে তাঁকে ডাকা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন মালিঙ্গা। গত মাসে দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে ক্যান্ডির হয়ে ছ’টি ম্যাচে খেলেন। দলে ভাল ডেথ বোলারের অভাব। তাই এ বার মালিঙ্গাকে ফেরাতেই হল শ্রীলঙ্কা দলে। এশিয়া কাপ তাই তাঁর কাছে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপে তিনি থাকছেন কি না, তার ইঙ্গিত হয়তো পাওয়া যাবে এই প্রতিযোগিতাতেই।